মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন প্রধান কাশ প্যাটেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আগ্রহ আবারও প্রশাসনকে বিব্রত করেছে। সাম্প্রতিক একটি সহিংস হামলার তদন্ত চলাকালে তার আগাম ও অতিরঞ্জিত পোস্ট হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই প্রবণতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমছে
প্রভিডেন্সের হামলা ও বিতর্কিত পোস্ট
রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুইজন নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার পর তদন্তে নামে এফবিআই। এই ঘটনার মধ্যেই কাশ প্যাটেল সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে দেন, একটি হোটেল কক্ষ থেকে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, তথ্য যাচাই না করেই করা ওই পোস্ট তদন্তকে বিভ্রান্ত করেছে এবং প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

বারবার একই ধরনের ভুল
এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সাফল্যের দাবি করে পোস্ট দিয়েছেন, যা পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এক কট্টরপন্থী ভাষ্যকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন, যা পরে ভিত্তিহীন বলে ধরা পড়ে। আবার সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর দাবি করেও বিচার বিভাগের আইনজীবীদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছিলেন। এসব ঘটনার ফলে প্রসিকিউটরদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে
প্রশাসনের ভেতরের অসন্তোষ
কাশ প্যাটেলের আত্মপ্রচার মূলক আচরণ তার দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার, ব্যক্তিগত ভ্রমণ এবং সংবেদনশীল নথি সামলানো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। যদিও প্রশাসনের ভেতরে তাকে নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও এখনো তাকে অপসারণ বা পদত্যাগে বাধ্য করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং তিনি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, অন্তত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পদে থাকতে চান।
ডেপুটি পরিচালকের বিদায়ের আভাস
এফবিআইয়ের উপ পরিচালক ড্যান বোনজিনোর বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। তিনি শিগগিরই পদ ছেড়ে আবার রাজনৈতিক ঘরানার গণমাধ্যমে ফিরতে পারেন। তার বিদায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তার সিদ্ধান্ত নিয়েও নাটকীয়তা ও দ্বিধা রয়েছে।

এফবিআইয়ের ভাবমূর্তি ও ভেতরের টানাপোড়েন
কাশ প্যাটেল ও ড্যান বোনজিনোর নেতৃত্বে এফবিআইয়ের ঐতিহ্যবাহী নীরব ও পেশাদার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা। অতিরিক্ত প্রকাশ্য বক্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়তা সংস্থার ভেতর অস্বস্তি বাড়িয়েছে। এমনকি এজেন্টদের সংগঠন অভিযোগ করেছে, নেতৃত্ব তাদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সীমিত করছে।
শেষ পর্যন্ত তদন্তের ভার মাঠপর্যায়ে
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার তদন্ত শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব দেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই। সন্দেহভাজনের ভিডিও প্রকাশ, পুরস্কার ঘোষণা এবং তদন্তের অগ্রগতি জানানো হয় আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, অতিরিক্ত প্রচারের বদলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য।
#FBI #KashPatel #USPolitics #Investigation #LawEnforcement #WhiteHouse #AmericanNews
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















