চীনের অর্থনীতি ২০২৫ সালে প্রবল বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল অগ্রগতি ধরে রেখেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বছর শেষে চীনের মোট দেশজ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ দশমিক ১৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ শতাংশ, যা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেই মিলেছে। এই প্রথমবারের মতো চীনের জিডিপি ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের সীমা অতিক্রম করল।
বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের স্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু একটি অর্থনৈতিক অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে চীনের স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন আবারও দেখিয়েছে যে একাধিক নিম্নমুখী চাপ সত্ত্বেও তারা প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সক্ষম। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই ধারা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীলতার বাতিঘর হয়ে উঠেছে।

চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাফল্য
২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালের চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ বছরে এসে এই অর্জনকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ে চীনের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে চারটি বড় ধাপ অতিক্রম করেছে। ১১০ ট্রিলিয়ন, ১২০ ট্রিলিয়ন, ১৩০ ট্রিলিয়ন এবং শেষ পর্যন্ত ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের সীমা পার করেছে জিডিপি। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই এই অগ্রগতিকে স্থিতিশীল, অগ্রসর, উদ্ভাবনী ও সহনশীল বলে বর্ণনা করেছেন।
চ্যালেঞ্জের মাঝেও প্রবৃদ্ধি
২০২৫ সালকে অর্থনীতিবিদরা এক ব্যতিক্রমী বছর হিসেবে দেখছেন। একদিকে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ, অন্যদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের টানাপোড়েন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চীনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। অভ্যন্তরীণভাবে চাহিদার ঘাটতি, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের চাপও ছিল। তবু এসব প্রতিকূলতার মধ্যেই চীন পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
এই প্রবৃদ্ধির অর্থমূল্য হিসাব করলে দেখা যায়, এক বছরে চীনের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে প্রায় পাঁচ দশমিক তিন আট ট্রিলিয়ন ইউয়ান, যা অনেক উন্নত দেশের মোট অর্থনীতির চেয়েও বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি যেখানে প্রায় তিন দশমিক তিন শতাংশে ঘোরাফেরা করেছে, সেখানে চীনের পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে শীর্ষে।

নতুন চালিকা শক্তির উত্থান
২০২৫ সালে উচ্চ প্রযুক্তি ও উন্নত উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন খাতের সংযোজিত মূল্য বেড়েছে নয় দশমিক চার শতাংশ। শিল্প রোবট ও নতুন জ্বালানি যান উৎপাদনে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। ভোক্তা বাজারেও ধীরে ধীরে স্থিতি ফিরেছে। জাতীয় উৎসব ও ছুটির মৌসুমে ব্যয় বেড়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা জোরদার করেছে।

আগামীর পথে চীনের অর্থনীতি
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সাফল্য পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনায় চীনকে শক্ত ভিত্তি দেবে। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, নতুন উৎপাদনশীল শক্তি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে চীন আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ভূমিকা পালন করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















