অতীতে হলিউড নকল করার বদলে এখন চীনা নির্মাতারা নিজেদের গল্প বলছে। গত বছর লাবুবু নামের এক খেলনা বিশ্বব্যাপী সংগ্রাহকদের আকর্ষণ করেছে, ‘নে ঝা 2’ অ্যানিমেশনটি ব্লকবাস্টার হয়ে উঠেছে এবং ভিডিও গেম ‘ব্ল্যাক মিথ: উকং’ বিপুল আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এই সাফল্যের ফলে বিশ্বের তরুণ প্রজন্ম চীনা শিল্প ও সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বিদেশের বাজারে সাংস্কৃতিক পণ্য রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় বেইজিং তার অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রভাবও বাড়াচ্ছে। ভোক্তাদের চাহিদা দেখিয়ে দিয়েছে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তুলনায় সংস্কৃতি মানুষের মন জয় করতে আরও কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিরোধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বাজারে চীনা পপ সংস্কৃতির চাহিদা কমেনি। সরকার বুঝতে পেরেছে যে সিনেমা, খেলনা ও গেমের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করা সম্ভব। তবে বাড়তি রাষ্ট্রীয় নজরদারি সৃজনশীল স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে বলে অনেক নির্মাতার আশঙ্কা। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেশের ভেতরে বৈচিত্র্যময় কাহিনির প্রতি চাহিদা বাড়াবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হলিউড ও খেলনা শিল্পকেও নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে; মার্কিন স্টুডিওগুলো এখন চীনা দর্শকদের পছন্দ মাথায় রেখে সিনেমা তৈরি করছে এবং খেলনা কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী নতুন চরিত্র বিপণনে ব্যস্ত। এই সাংস্কৃতিক পালাবদল প্রমাণ করে যে বিনোদন জগতের নেতৃত্ব এখন বহু মেরুতে বিভক্ত, যেখানে চীনের অবস্থান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















