০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত আরও ২ চট্টগ্রামে পাঁচ ব্যাংকের শাখায় তালা, আমানত ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ বাতিলের দাবিতে টানা বিক্ষোভ ঈদের আগে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি, সরকারের কাছে চিঠি ব্যবসায়ীদের টেকনাফ থেকে রওনা, রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবি: আন্দামান সাগরে ৯ জনকে উদ্ধার ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জে নতুন রিট, তদন্ত দাবিও উঠল বিজয়ের ঝড়, তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: নগদ টাকা আর স্বর্ণের আংটি   ৩ ঘন্টার গননাতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দাপট, পিছিয়ে তৃণমূলের হেভিওয়েটরা হিজবুল্লাহর অজেয়তার মিথ ভাঙছে, যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় চাপে লেবানন জিন না কেটে রোগ সারানোর নতুন দিগন্ত: এপিজেনোম সম্পাদনায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে আশার আলো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন অর্থনৈতিক দৌড়: প্রবৃদ্ধি, ঝুঁকি ও ভবিষ্যতের দিশা

রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন

সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনযাপন একেবারেই বিস্ময়কর। আকারে মাত্র দুই সেন্টিমিটার হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবাক করার মতো। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ক্ষুদে কাঁকড়া, যাকে সাধারণত ক্যান্ডি কাঁকড়া বলা হয়, সমুদ্রের রঙিন প্রবালবনে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে শিকারি প্রাণীর চোখেও পড়ে না।

রঙিন প্রবালেই ক্যান্ডি কাঁকড়ার ঘর

এই ক্ষুদ্র কাঁকড়াটি সাধারণত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জন্মানো নরম প্রবালগুলোর উপর বসবাস করে। বিশেষ করে ডেনড্রোনেফথিয়া নামের প্রবালগুলো লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি উজ্জ্বল রঙে ভরা থাকে।

এই রঙিন পরিবেশের মধ্যেই ক্যান্ডি কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ বদলে ঠিক প্রবালের মতো হয়ে যায়। ফলে প্রবালের ভেতরে বসে থাকলেও তাকে আলাদা করে বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Some Facts About the Candy Crab

রঙ বদলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ বদলানোর ফলে সে সহজেই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে যায়।

শুধু রঙ বদলানোই নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে এই কাঁকড়া আরও এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করে। প্রবালের ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে নিজের খোলের উপরে আটকে রাখে। এতে করে তার শরীর আরও বেশি করে প্রবালের মতো দেখায় এবং সে প্রায় পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রবালের সঙ্গে একপাক্ষিক সম্পর্ক

এই কাঁকড়া ও প্রবালের সম্পর্ককে জীববিজ্ঞানে এক ধরনের একপাক্ষিক সহাবস্থান বলা হয়। অর্থাৎ কাঁকড়া প্রবালের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু প্রবালের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

প্রবাল কাঁকড়াটিকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়, শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের আদর্শ স্থান। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনই কাঁকড়াটির প্রধান খাবার।

সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় বিস্ময়

সমুদ্রের জগতে বেঁচে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা যায়। ক্যান্ডি কাঁকড়ার রঙ বদলে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা তার একটি অনন্য উদাহরণ। আকারে ছোট হলেও এই প্রাণী দেখিয়ে দেয় প্রকৃতি কত বিচিত্র ও কৌশলী হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গাইলে মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত আরও ২

রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন

০৪:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনযাপন একেবারেই বিস্ময়কর। আকারে মাত্র দুই সেন্টিমিটার হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবাক করার মতো। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ক্ষুদে কাঁকড়া, যাকে সাধারণত ক্যান্ডি কাঁকড়া বলা হয়, সমুদ্রের রঙিন প্রবালবনে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে শিকারি প্রাণীর চোখেও পড়ে না।

রঙিন প্রবালেই ক্যান্ডি কাঁকড়ার ঘর

এই ক্ষুদ্র কাঁকড়াটি সাধারণত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জন্মানো নরম প্রবালগুলোর উপর বসবাস করে। বিশেষ করে ডেনড্রোনেফথিয়া নামের প্রবালগুলো লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি উজ্জ্বল রঙে ভরা থাকে।

এই রঙিন পরিবেশের মধ্যেই ক্যান্ডি কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ বদলে ঠিক প্রবালের মতো হয়ে যায়। ফলে প্রবালের ভেতরে বসে থাকলেও তাকে আলাদা করে বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Some Facts About the Candy Crab

রঙ বদলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ বদলানোর ফলে সে সহজেই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে যায়।

শুধু রঙ বদলানোই নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে এই কাঁকড়া আরও এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করে। প্রবালের ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে নিজের খোলের উপরে আটকে রাখে। এতে করে তার শরীর আরও বেশি করে প্রবালের মতো দেখায় এবং সে প্রায় পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রবালের সঙ্গে একপাক্ষিক সম্পর্ক

এই কাঁকড়া ও প্রবালের সম্পর্ককে জীববিজ্ঞানে এক ধরনের একপাক্ষিক সহাবস্থান বলা হয়। অর্থাৎ কাঁকড়া প্রবালের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু প্রবালের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

প্রবাল কাঁকড়াটিকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়, শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের আদর্শ স্থান। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনই কাঁকড়াটির প্রধান খাবার।

সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় বিস্ময়

সমুদ্রের জগতে বেঁচে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা যায়। ক্যান্ডি কাঁকড়ার রঙ বদলে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা তার একটি অনন্য উদাহরণ। আকারে ছোট হলেও এই প্রাণী দেখিয়ে দেয় প্রকৃতি কত বিচিত্র ও কৌশলী হতে পারে।