০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন গুদগুদিতে হাসে মানুষ ও বনমানুষ, মিলল হাসির বিবর্তনের ছন্দময় সূত্র ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড জনজীবন, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা বাগেরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: দুই মাসে হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগী, রেড জোন ঘোষণা শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাল তুরস্ক, তবু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মার্কিনিরাই ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই

রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন

সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনযাপন একেবারেই বিস্ময়কর। আকারে মাত্র দুই সেন্টিমিটার হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবাক করার মতো। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ক্ষুদে কাঁকড়া, যাকে সাধারণত ক্যান্ডি কাঁকড়া বলা হয়, সমুদ্রের রঙিন প্রবালবনে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে শিকারি প্রাণীর চোখেও পড়ে না।

রঙিন প্রবালেই ক্যান্ডি কাঁকড়ার ঘর

এই ক্ষুদ্র কাঁকড়াটি সাধারণত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জন্মানো নরম প্রবালগুলোর উপর বসবাস করে। বিশেষ করে ডেনড্রোনেফথিয়া নামের প্রবালগুলো লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি উজ্জ্বল রঙে ভরা থাকে।

এই রঙিন পরিবেশের মধ্যেই ক্যান্ডি কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ বদলে ঠিক প্রবালের মতো হয়ে যায়। ফলে প্রবালের ভেতরে বসে থাকলেও তাকে আলাদা করে বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Some Facts About the Candy Crab

রঙ বদলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ বদলানোর ফলে সে সহজেই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে যায়।

শুধু রঙ বদলানোই নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে এই কাঁকড়া আরও এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করে। প্রবালের ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে নিজের খোলের উপরে আটকে রাখে। এতে করে তার শরীর আরও বেশি করে প্রবালের মতো দেখায় এবং সে প্রায় পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রবালের সঙ্গে একপাক্ষিক সম্পর্ক

এই কাঁকড়া ও প্রবালের সম্পর্ককে জীববিজ্ঞানে এক ধরনের একপাক্ষিক সহাবস্থান বলা হয়। অর্থাৎ কাঁকড়া প্রবালের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু প্রবালের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

প্রবাল কাঁকড়াটিকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়, শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের আদর্শ স্থান। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনই কাঁকড়াটির প্রধান খাবার।

সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় বিস্ময়

সমুদ্রের জগতে বেঁচে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা যায়। ক্যান্ডি কাঁকড়ার রঙ বদলে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা তার একটি অনন্য উদাহরণ। আকারে ছোট হলেও এই প্রাণী দেখিয়ে দেয় প্রকৃতি কত বিচিত্র ও কৌশলী হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন

রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন

০৪:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনযাপন একেবারেই বিস্ময়কর। আকারে মাত্র দুই সেন্টিমিটার হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবাক করার মতো। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ক্ষুদে কাঁকড়া, যাকে সাধারণত ক্যান্ডি কাঁকড়া বলা হয়, সমুদ্রের রঙিন প্রবালবনে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে শিকারি প্রাণীর চোখেও পড়ে না।

রঙিন প্রবালেই ক্যান্ডি কাঁকড়ার ঘর

এই ক্ষুদ্র কাঁকড়াটি সাধারণত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জন্মানো নরম প্রবালগুলোর উপর বসবাস করে। বিশেষ করে ডেনড্রোনেফথিয়া নামের প্রবালগুলো লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি উজ্জ্বল রঙে ভরা থাকে।

এই রঙিন পরিবেশের মধ্যেই ক্যান্ডি কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ বদলে ঠিক প্রবালের মতো হয়ে যায়। ফলে প্রবালের ভেতরে বসে থাকলেও তাকে আলাদা করে বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Some Facts About the Candy Crab

রঙ বদলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ বদলানোর ফলে সে সহজেই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে যায়।

শুধু রঙ বদলানোই নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে এই কাঁকড়া আরও এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করে। প্রবালের ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে নিজের খোলের উপরে আটকে রাখে। এতে করে তার শরীর আরও বেশি করে প্রবালের মতো দেখায় এবং সে প্রায় পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রবালের সঙ্গে একপাক্ষিক সম্পর্ক

এই কাঁকড়া ও প্রবালের সম্পর্ককে জীববিজ্ঞানে এক ধরনের একপাক্ষিক সহাবস্থান বলা হয়। অর্থাৎ কাঁকড়া প্রবালের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু প্রবালের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

প্রবাল কাঁকড়াটিকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়, শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের আদর্শ স্থান। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনই কাঁকড়াটির প্রধান খাবার।

সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় বিস্ময়

সমুদ্রের জগতে বেঁচে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা যায়। ক্যান্ডি কাঁকড়ার রঙ বদলে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা তার একটি অনন্য উদাহরণ। আকারে ছোট হলেও এই প্রাণী দেখিয়ে দেয় প্রকৃতি কত বিচিত্র ও কৌশলী হতে পারে।