০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’ গাজায় যুদ্ধের নতুন ছায়া: থমকে গেছে পুর্ণগঠন,আবার শক্তি বাড়াচ্ছে হামাস রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি আত্মমুগ্ধ মানুষ? বিশ্বজুড়ে জরিপে চমকপ্রদ ফল কমেডি দুনিয়ায় বড় প্রত্যাবর্তন: নতুন সিরিজ ‘রেজি ডিঙ্কিন্স’ ফিরিয়ে আনছে ত্রিশ রকের সেই ঝড় আমেরিকার ‘রাজপরিবার’ কাহিনি: কেনেডি প্রেমগাথা সিরিজে বাস্তবের চেয়ে নাটকই বেশি? ওজন কমানোর বড়ি: চিকিৎসায় নতুন যুগ নাকি নতুন ঝুঁকি? মানুষের রক্তেই ঝুঁকছে মশা! বন ধ্বংসে বাড়ছে নতুন বিপদ রোজার রাতে আমিরাতের ‘ঘাবগা’ ঐতিহ্য: পরিবার-বন্ধুদের মিলনে ভরে ওঠে রাত তেল সরবরাহে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে সতর্ক করল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা

রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন

সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনযাপন একেবারেই বিস্ময়কর। আকারে মাত্র দুই সেন্টিমিটার হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবাক করার মতো। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ক্ষুদে কাঁকড়া, যাকে সাধারণত ক্যান্ডি কাঁকড়া বলা হয়, সমুদ্রের রঙিন প্রবালবনে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে শিকারি প্রাণীর চোখেও পড়ে না।

রঙিন প্রবালেই ক্যান্ডি কাঁকড়ার ঘর

এই ক্ষুদ্র কাঁকড়াটি সাধারণত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জন্মানো নরম প্রবালগুলোর উপর বসবাস করে। বিশেষ করে ডেনড্রোনেফথিয়া নামের প্রবালগুলো লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি উজ্জ্বল রঙে ভরা থাকে।

এই রঙিন পরিবেশের মধ্যেই ক্যান্ডি কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ বদলে ঠিক প্রবালের মতো হয়ে যায়। ফলে প্রবালের ভেতরে বসে থাকলেও তাকে আলাদা করে বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Some Facts About the Candy Crab

রঙ বদলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ বদলানোর ফলে সে সহজেই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে যায়।

শুধু রঙ বদলানোই নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে এই কাঁকড়া আরও এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করে। প্রবালের ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে নিজের খোলের উপরে আটকে রাখে। এতে করে তার শরীর আরও বেশি করে প্রবালের মতো দেখায় এবং সে প্রায় পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রবালের সঙ্গে একপাক্ষিক সম্পর্ক

এই কাঁকড়া ও প্রবালের সম্পর্ককে জীববিজ্ঞানে এক ধরনের একপাক্ষিক সহাবস্থান বলা হয়। অর্থাৎ কাঁকড়া প্রবালের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু প্রবালের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

প্রবাল কাঁকড়াটিকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়, শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের আদর্শ স্থান। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনই কাঁকড়াটির প্রধান খাবার।

সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় বিস্ময়

সমুদ্রের জগতে বেঁচে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা যায়। ক্যান্ডি কাঁকড়ার রঙ বদলে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা তার একটি অনন্য উদাহরণ। আকারে ছোট হলেও এই প্রাণী দেখিয়ে দেয় প্রকৃতি কত বিচিত্র ও কৌশলী হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গরুর বুদ্ধির চমক! ঝাড়ু ব্যবহার করে নিজেই চুলকানি মেটায় ‘ভেরোনিকা’

রঙ বদলে লুকিয়ে থাকা সমুদ্রের ক্ষুদে শিকারি: ক্যান্ডি কাঁকড়ার বিস্ময়কর জীবন

০৪:০০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

সমুদ্রের গভীরে এমন কিছু প্রাণী রয়েছে যাদের জীবনযাপন একেবারেই বিস্ময়কর। আকারে মাত্র দুই সেন্টিমিটার হলেও তাদের বেঁচে থাকার কৌশল অবাক করার মতো। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ক্ষুদে কাঁকড়া, যাকে সাধারণত ক্যান্ডি কাঁকড়া বলা হয়, সমুদ্রের রঙিন প্রবালবনে এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে শিকারি প্রাণীর চোখেও পড়ে না।

রঙিন প্রবালেই ক্যান্ডি কাঁকড়ার ঘর

এই ক্ষুদ্র কাঁকড়াটি সাধারণত ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে জন্মানো নরম প্রবালগুলোর উপর বসবাস করে। বিশেষ করে ডেনড্রোনেফথিয়া নামের প্রবালগুলো লাল, হলুদ, কমলা ও গোলাপি উজ্জ্বল রঙে ভরা থাকে।

এই রঙিন পরিবেশের মধ্যেই ক্যান্ডি কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ বদলে ঠিক প্রবালের মতো হয়ে যায়। ফলে প্রবালের ভেতরে বসে থাকলেও তাকে আলাদা করে বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

Some Facts About the Candy Crab

রঙ বদলে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল

মাত্র দুই সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই কাঁকড়া নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে রঙ বদলানোর ফলে সে সহজেই শিকারিদের চোখ এড়িয়ে যায়।

শুধু রঙ বদলানোই নয়, নিরাপত্তা বাড়াতে এই কাঁকড়া আরও এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করে। প্রবালের ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে নিজের খোলের উপরে আটকে রাখে। এতে করে তার শরীর আরও বেশি করে প্রবালের মতো দেখায় এবং সে প্রায় পুরোপুরি লুকিয়ে থাকতে পারে।

প্রবালের সঙ্গে একপাক্ষিক সম্পর্ক

এই কাঁকড়া ও প্রবালের সম্পর্ককে জীববিজ্ঞানে এক ধরনের একপাক্ষিক সহাবস্থান বলা হয়। অর্থাৎ কাঁকড়া প্রবালের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে, কিন্তু প্রবালের কোনো লাভ বা ক্ষতি হয় না।

প্রবাল কাঁকড়াটিকে দেয় নিরাপদ আশ্রয়, শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের আদর্শ স্থান। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটনই কাঁকড়াটির প্রধান খাবার।

সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় বিস্ময়

সমুদ্রের জগতে বেঁচে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল দেখা যায়। ক্যান্ডি কাঁকড়ার রঙ বদলে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা তার একটি অনন্য উদাহরণ। আকারে ছোট হলেও এই প্রাণী দেখিয়ে দেয় প্রকৃতি কত বিচিত্র ও কৌশলী হতে পারে।