গরু সাধারণত শান্ত ও সরল প্রাণী হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। ‘ভেরোনিকা’ নামের একটি গরু নিজেই ঝাড়ুকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে শরীরের চুলকানি দূর করতে শিখেছে। প্রাণীজগতে এমন বহুমুখী যন্ত্র ব্যবহার অত্যন্ত বিরল, আর গরুর ক্ষেত্রে এই আচরণ আগে কখনও দেখা যায়নি।
ঝাড়ুকে বানিয়েছে নিজের হাতিয়ার
গবেষকরা যখন ভেরোনিকার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তারা তাকে একটি ঝাড়ু দেন। আশ্চর্যের বিষয়, ভেরোনিকা ঝাড়ুর কোন অংশ ব্যবহার করবে তা পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলে নিচ্ছিল।
শরীরের বড় অংশে জোরে চুলকাতে হলে সে ঝাড়ুর শক্ত ব্রিসল অংশ ব্যবহার করত। আর যখন কোমল স্পর্শ দরকার হতো, যেমন পেটের নিচের সংবেদনশীল অংশে, তখন সে ঝাড়ুর মসৃণ হাতলের দিকটি ব্যবহার করত।
গবেষকদের মতে, একটি যন্ত্রের দুই প্রান্ত আলাদা কাজে ব্যবহার করার ক্ষমতা প্রাণীজগতে খুবই বিরল।

গবেষকদের বিস্ময়
গবেষণার নেতৃত্ব দেন প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞ ডক্টর আন্তোনিও ওসুনা-মাস্কারো। তিনি বলেন, গরুর এমন উদ্ভাবনী ক্ষমতা মানুষের ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তার ভাষায়, গরুর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মানুষের ধারণা এতদিন বেশ পক্ষপাতদুষ্ট ছিল।
এই গবেষণাটি সম্প্রতি ‘কারেন্ট বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
বিরল হলেও আছে তুলনা
গবেষকদের মতে, এমন আচরণের একটি পরিচিত উদাহরণ দেখা যায় শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে। তারা কখনও কখনও একটি কাঠির দুই প্রান্ত ভিন্ন কাজে ব্যবহার করে পিঁপড়া ধরতে। তবে গরুর ক্ষেত্রে এ ধরনের বহুমুখী যন্ত্র ব্যবহার এই প্রথম নথিভুক্ত হয়েছে।
ব্যতিক্রমী জীবন ভেরোনিকার
ভেরোনিকা একটি পোষা গরু। ফলে তার পরিবেশ সাধারণ খামারের গরুর তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীন। সে নিজের মতো করে অনুসন্ধান করতে পারে এবং নতুন আচরণ শেখার সুযোগও পায়।
আরেকটি বিষয় তাকে বিশেষ করে তুলেছে। ভেরোনিকার বয়স এখন তেরো বছর, যা সাধারণ গবাদি পশুর তুলনায় বেশ দীর্ঘ। দীর্ঘ জীবন ও স্বাধীন পরিবেশ তার উদ্ভাবনী আচরণ বিকাশে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গরুর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
এই ঘটনাটি গবেষকদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এতদিন গরুকে তুলনামূলক কম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে দেখা হলেও ভেরোনিকার আচরণ দেখাচ্ছে, সঠিক পরিবেশ পেলে গরুরাও নতুন কৌশল শিখতে ও ব্যবহার করতে পারে।
গবেষকদের মতে, এটি শুধু একটি মজার ঘটনা নয়। বরং প্রাণীদের বুদ্ধিমত্তা ও আচরণ সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















