০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ মন্দায়, বিলাসী প্রকল্পেও অনিশ্চয়তা ভূমি, পানি ও বায়ু সংকটে: বাসযোগ্য পৃথিবী রক্ষায় অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাওয়া বেলুন ঘিরে ভারতে ব্যাপক আতঙ্ক নেটফ্লিক্স চুক্তির তথ্য চেয়ে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে প্যারামাউন্টের মামলা, বোর্ড দখলের লড়াই তীব্র ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, মাদুরো মার্কিন হেফাজতে দাবি করছেন তিনি ভালো আছেন দুবাইয়ের আবাসন জোয়ার কেন টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ক্রিপ্টোর পরিণত রূপ: দুই হাজার ছাব্বিশে দামের বাইরে নতুন বাস্তবতায় ডিজিটাল সম্পদ বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের আগমন হাইকোর্ট মাজারের উরসে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে সমাবেশ ও উরস শরিফ ভোটের আগে সংখ্যালঘু হত্যা, সাম্প্রদায়িক বলতে চায় না সরকার

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৪৩)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪
  • 126

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

মীর কাসেমের গুরবস্থার পর তাঁহারা বাদশাহ শাহআলম ও অযোধ্যার নবাব-উজিরের হস্তে পতিত হইয়াছিলেন। মীরজাফর দ্বিতীয় ধার সিংহাসনে আরোহণ করিয়া, তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করিবার জন্য নবাব উজীরকে বারংবার অনুরোধ করিয়া পাঠান। কিন্তু তিনি মীরজাফরের অনুরোধ রক্ষা করেন নাই। খোশালচাঁদ ও উদায়ংচাঁদ অনেক অর্থ দিয়া তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করেন। মুর্শিদাবাদে আসিয়া তাঁহাদিগকে অত্যন্ত হীন অবস্থায় জীবিকা নির্ব্বাহ করিতে হইয়াছিল।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে মীরজাফরের দেহত্যাগ হইলে, তাঁহার পুত্র নজম উদ্দৌলা ইংরেজদিগের অনুগ্রহে মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। কলিকাতার কাউন্সিলে তাঁহাকে সিংহাসন প্রদান করা স্থিরীকৃত হইলে, জনষ্টন, মীডলটন ও লেসেষ্টার নামে কাউন্সিলের তিনজন সভ্য তাঁহাকে মসনদে বসাইতে মুর্শিদাবাদে আগমন করিয়া ছিলেন। এই সময়ে কোম্পানীর কর্মচারিগণের অর্থলালসা অত্যন্ত বলবতী হওয়ায়, নবাবকে তাহা মিটাইবার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করিতে হয়।

নজম উদ্দৌলার সহিত বন্দোবস্তের সময় ইংরেজেরা জগৎশেঠকেও তাঁহার কার্য্যের সহায়তার জন্ম নিযুক্ত করিয়াছিলেন। সেই উপলক্ষে উক্ত সভ্যত্রয় জগৎশেঠের নিকট হইতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা প্রার্থনা করেন। জগৎশেঠ প্রথমে তাহা দিতে স্বীকৃত হইয়া- ছিলেন; কিন্তু তাঁহার উক্ত টাকা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায়, কোম্পানীর মহাপ্রভু কৰ্ম্মচারিগণ জগৎশেঠকে নানারূপ ভন্ন প্রদর্শন করিয়া উক্ত টাকা আদায় করিয়াছিলেন। নজন উদ্দৌলা প্রথমতঃ মহম্মদ রেজা খাঁকে নায়েব সুবা নিযুক্ত করেন। তাহার পর, মে মাসে ক্লাইব ভারতবর্ষে পুনরাগমন করিলে, নজম উদ্দৌলা রাজস্ব ও সৈন্তসংক্রান্ত, যাবতীয় ভার পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হন। কেবল শাসনকার্য্যের ভার তাঁহার উপর ন্যস্ত থাকে এবং তিনি মহম্মদ রেজা খাঁ, রাজা দুর্লভ রাম ও জগৎশেঠের পরামর্শে সমুদায় কাৰ্য্য নির্ব্বাহ করিতে অনুরুদ্ধ হন।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের আগষ্ট মাসে কোম্পানী দেওয়ানী গ্রহণ করিয়া, দেশের সর্ব্বময় কর্তা হইয়া উঠিলেন। দেওয়ানী গ্রহণের পর ক্লাইব জগৎশেঠ খোশালচাঁদকে কোম্পানীর ‘সরফ’ বা গদীয়ানের পদে নিযুক্ত করিলেন। খোশালচাঁদ, তৎকালে অত্যন্ত অল্পবয়স্ক ছিলেন। তাঁহার বরস অষ্টাদশ বৎসরমাত্র ছিল বলিয়া শুনা যায়। এই সময় হইতে শেঠদিগের দুর্দশার আরম্ভ হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ মন্দায়, বিলাসী প্রকল্পেও অনিশ্চয়তা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৪৩)

১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

মীর কাসেমের গুরবস্থার পর তাঁহারা বাদশাহ শাহআলম ও অযোধ্যার নবাব-উজিরের হস্তে পতিত হইয়াছিলেন। মীরজাফর দ্বিতীয় ধার সিংহাসনে আরোহণ করিয়া, তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করিবার জন্য নবাব উজীরকে বারংবার অনুরোধ করিয়া পাঠান। কিন্তু তিনি মীরজাফরের অনুরোধ রক্ষা করেন নাই। খোশালচাঁদ ও উদায়ংচাঁদ অনেক অর্থ দিয়া তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করেন। মুর্শিদাবাদে আসিয়া তাঁহাদিগকে অত্যন্ত হীন অবস্থায় জীবিকা নির্ব্বাহ করিতে হইয়াছিল।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে মীরজাফরের দেহত্যাগ হইলে, তাঁহার পুত্র নজম উদ্দৌলা ইংরেজদিগের অনুগ্রহে মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। কলিকাতার কাউন্সিলে তাঁহাকে সিংহাসন প্রদান করা স্থিরীকৃত হইলে, জনষ্টন, মীডলটন ও লেসেষ্টার নামে কাউন্সিলের তিনজন সভ্য তাঁহাকে মসনদে বসাইতে মুর্শিদাবাদে আগমন করিয়া ছিলেন। এই সময়ে কোম্পানীর কর্মচারিগণের অর্থলালসা অত্যন্ত বলবতী হওয়ায়, নবাবকে তাহা মিটাইবার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করিতে হয়।

নজম উদ্দৌলার সহিত বন্দোবস্তের সময় ইংরেজেরা জগৎশেঠকেও তাঁহার কার্য্যের সহায়তার জন্ম নিযুক্ত করিয়াছিলেন। সেই উপলক্ষে উক্ত সভ্যত্রয় জগৎশেঠের নিকট হইতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা প্রার্থনা করেন। জগৎশেঠ প্রথমে তাহা দিতে স্বীকৃত হইয়া- ছিলেন; কিন্তু তাঁহার উক্ত টাকা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায়, কোম্পানীর মহাপ্রভু কৰ্ম্মচারিগণ জগৎশেঠকে নানারূপ ভন্ন প্রদর্শন করিয়া উক্ত টাকা আদায় করিয়াছিলেন। নজন উদ্দৌলা প্রথমতঃ মহম্মদ রেজা খাঁকে নায়েব সুবা নিযুক্ত করেন। তাহার পর, মে মাসে ক্লাইব ভারতবর্ষে পুনরাগমন করিলে, নজম উদ্দৌলা রাজস্ব ও সৈন্তসংক্রান্ত, যাবতীয় ভার পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হন। কেবল শাসনকার্য্যের ভার তাঁহার উপর ন্যস্ত থাকে এবং তিনি মহম্মদ রেজা খাঁ, রাজা দুর্লভ রাম ও জগৎশেঠের পরামর্শে সমুদায় কাৰ্য্য নির্ব্বাহ করিতে অনুরুদ্ধ হন।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের আগষ্ট মাসে কোম্পানী দেওয়ানী গ্রহণ করিয়া, দেশের সর্ব্বময় কর্তা হইয়া উঠিলেন। দেওয়ানী গ্রহণের পর ক্লাইব জগৎশেঠ খোশালচাঁদকে কোম্পানীর ‘সরফ’ বা গদীয়ানের পদে নিযুক্ত করিলেন। খোশালচাঁদ, তৎকালে অত্যন্ত অল্পবয়স্ক ছিলেন। তাঁহার বরস অষ্টাদশ বৎসরমাত্র ছিল বলিয়া শুনা যায়। এই সময় হইতে শেঠদিগের দুর্দশার আরম্ভ হয়।