১০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল খাতে বিস্তার: বিনিয়োগের জোয়ার, কিন্তু সেবার খরচ কতটা নাগালের মধ্যে? গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ বড় পরিবর্তন, আসছে ‘আল্ট্রা’ সংস্করণ আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর হওয়ার দৌড়ে থাকা তরুণ রাজনীতিবিদ আবদুল এল সাইদ কে? টেস্টে ফেল করলে কি এসএসসি পরীক্ষায় বাধা দিতে পারে স্কুল? যোগ্যতার সরকার: পাকিস্তানের গণতন্ত্রে এখন প্রয়োজন দক্ষতার নতুন কাঠামো তেল কি আবার ১০০ ডলারে উঠবে? মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে সরবরাহ ঝুঁকিতে বাড়ছে দাম হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা ৯২২ ইউরোপে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা, তীব্র দাবদাহে ধস নামছে কৃষি উৎপাদনে ২০ বছর পূর্তিতে নতুন গান নিয়ে ফিরছে বিগব্যাং বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য টেবিল: ডে অ্যান্ড নাইট’

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৪৩)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪
  • 203

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

মীর কাসেমের গুরবস্থার পর তাঁহারা বাদশাহ শাহআলম ও অযোধ্যার নবাব-উজিরের হস্তে পতিত হইয়াছিলেন। মীরজাফর দ্বিতীয় ধার সিংহাসনে আরোহণ করিয়া, তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করিবার জন্য নবাব উজীরকে বারংবার অনুরোধ করিয়া পাঠান। কিন্তু তিনি মীরজাফরের অনুরোধ রক্ষা করেন নাই। খোশালচাঁদ ও উদায়ংচাঁদ অনেক অর্থ দিয়া তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করেন। মুর্শিদাবাদে আসিয়া তাঁহাদিগকে অত্যন্ত হীন অবস্থায় জীবিকা নির্ব্বাহ করিতে হইয়াছিল।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে মীরজাফরের দেহত্যাগ হইলে, তাঁহার পুত্র নজম উদ্দৌলা ইংরেজদিগের অনুগ্রহে মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। কলিকাতার কাউন্সিলে তাঁহাকে সিংহাসন প্রদান করা স্থিরীকৃত হইলে, জনষ্টন, মীডলটন ও লেসেষ্টার নামে কাউন্সিলের তিনজন সভ্য তাঁহাকে মসনদে বসাইতে মুর্শিদাবাদে আগমন করিয়া ছিলেন। এই সময়ে কোম্পানীর কর্মচারিগণের অর্থলালসা অত্যন্ত বলবতী হওয়ায়, নবাবকে তাহা মিটাইবার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করিতে হয়।

নজম উদ্দৌলার সহিত বন্দোবস্তের সময় ইংরেজেরা জগৎশেঠকেও তাঁহার কার্য্যের সহায়তার জন্ম নিযুক্ত করিয়াছিলেন। সেই উপলক্ষে উক্ত সভ্যত্রয় জগৎশেঠের নিকট হইতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা প্রার্থনা করেন। জগৎশেঠ প্রথমে তাহা দিতে স্বীকৃত হইয়া- ছিলেন; কিন্তু তাঁহার উক্ত টাকা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায়, কোম্পানীর মহাপ্রভু কৰ্ম্মচারিগণ জগৎশেঠকে নানারূপ ভন্ন প্রদর্শন করিয়া উক্ত টাকা আদায় করিয়াছিলেন। নজন উদ্দৌলা প্রথমতঃ মহম্মদ রেজা খাঁকে নায়েব সুবা নিযুক্ত করেন। তাহার পর, মে মাসে ক্লাইব ভারতবর্ষে পুনরাগমন করিলে, নজম উদ্দৌলা রাজস্ব ও সৈন্তসংক্রান্ত, যাবতীয় ভার পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হন। কেবল শাসনকার্য্যের ভার তাঁহার উপর ন্যস্ত থাকে এবং তিনি মহম্মদ রেজা খাঁ, রাজা দুর্লভ রাম ও জগৎশেঠের পরামর্শে সমুদায় কাৰ্য্য নির্ব্বাহ করিতে অনুরুদ্ধ হন।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের আগষ্ট মাসে কোম্পানী দেওয়ানী গ্রহণ করিয়া, দেশের সর্ব্বময় কর্তা হইয়া উঠিলেন। দেওয়ানী গ্রহণের পর ক্লাইব জগৎশেঠ খোশালচাঁদকে কোম্পানীর ‘সরফ’ বা গদীয়ানের পদে নিযুক্ত করিলেন। খোশালচাঁদ, তৎকালে অত্যন্ত অল্পবয়স্ক ছিলেন। তাঁহার বরস অষ্টাদশ বৎসরমাত্র ছিল বলিয়া শুনা যায়। এই সময় হইতে শেঠদিগের দুর্দশার আরম্ভ হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল খাতে বিস্তার: বিনিয়োগের জোয়ার, কিন্তু সেবার খরচ কতটা নাগালের মধ্যে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৪৩)

১১:০০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

 

মীর কাসেমের গুরবস্থার পর তাঁহারা বাদশাহ শাহআলম ও অযোধ্যার নবাব-উজিরের হস্তে পতিত হইয়াছিলেন। মীরজাফর দ্বিতীয় ধার সিংহাসনে আরোহণ করিয়া, তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করিবার জন্য নবাব উজীরকে বারংবার অনুরোধ করিয়া পাঠান। কিন্তু তিনি মীরজাফরের অনুরোধ রক্ষা করেন নাই। খোশালচাঁদ ও উদায়ংচাঁদ অনেক অর্থ দিয়া তাঁহাদিগকে মুর্শিদাবাদে আনয়ন করেন। মুর্শিদাবাদে আসিয়া তাঁহাদিগকে অত্যন্ত হীন অবস্থায় জীবিকা নির্ব্বাহ করিতে হইয়াছিল।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের জানুয়ারী মাসে মীরজাফরের দেহত্যাগ হইলে, তাঁহার পুত্র নজম উদ্দৌলা ইংরেজদিগের অনুগ্রহে মুর্শিদাবাদের মসনদে উপবিষ্ট হন। কলিকাতার কাউন্সিলে তাঁহাকে সিংহাসন প্রদান করা স্থিরীকৃত হইলে, জনষ্টন, মীডলটন ও লেসেষ্টার নামে কাউন্সিলের তিনজন সভ্য তাঁহাকে মসনদে বসাইতে মুর্শিদাবাদে আগমন করিয়া ছিলেন। এই সময়ে কোম্পানীর কর্মচারিগণের অর্থলালসা অত্যন্ত বলবতী হওয়ায়, নবাবকে তাহা মিটাইবার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করিতে হয়।

নজম উদ্দৌলার সহিত বন্দোবস্তের সময় ইংরেজেরা জগৎশেঠকেও তাঁহার কার্য্যের সহায়তার জন্ম নিযুক্ত করিয়াছিলেন। সেই উপলক্ষে উক্ত সভ্যত্রয় জগৎশেঠের নিকট হইতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা প্রার্থনা করেন। জগৎশেঠ প্রথমে তাহা দিতে স্বীকৃত হইয়া- ছিলেন; কিন্তু তাঁহার উক্ত টাকা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায়, কোম্পানীর মহাপ্রভু কৰ্ম্মচারিগণ জগৎশেঠকে নানারূপ ভন্ন প্রদর্শন করিয়া উক্ত টাকা আদায় করিয়াছিলেন। নজন উদ্দৌলা প্রথমতঃ মহম্মদ রেজা খাঁকে নায়েব সুবা নিযুক্ত করেন। তাহার পর, মে মাসে ক্লাইব ভারতবর্ষে পুনরাগমন করিলে, নজম উদ্দৌলা রাজস্ব ও সৈন্তসংক্রান্ত, যাবতীয় ভার পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হন। কেবল শাসনকার্য্যের ভার তাঁহার উপর ন্যস্ত থাকে এবং তিনি মহম্মদ রেজা খাঁ, রাজা দুর্লভ রাম ও জগৎশেঠের পরামর্শে সমুদায় কাৰ্য্য নির্ব্বাহ করিতে অনুরুদ্ধ হন।

১৭৬৫ খৃঃ অব্দের আগষ্ট মাসে কোম্পানী দেওয়ানী গ্রহণ করিয়া, দেশের সর্ব্বময় কর্তা হইয়া উঠিলেন। দেওয়ানী গ্রহণের পর ক্লাইব জগৎশেঠ খোশালচাঁদকে কোম্পানীর ‘সরফ’ বা গদীয়ানের পদে নিযুক্ত করিলেন। খোশালচাঁদ, তৎকালে অত্যন্ত অল্পবয়স্ক ছিলেন। তাঁহার বরস অষ্টাদশ বৎসরমাত্র ছিল বলিয়া শুনা যায়। এই সময় হইতে শেঠদিগের দুর্দশার আরম্ভ হয়।