১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয় সৌদি আরবের উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু প্রযুক্তি, নাকি রাষ্ট্রের সক্ষমতার পরীক্ষা? জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল

লন্ডনের ইস্ট এন্ডে আতঙ্কের অবরোধ, সিডনি স্ট্রিট কাঁপিয়েছিল লাটভিয়ান নৈরাজ্যবাদীরা

লন্ডনের ইস্ট এন্ডের সিডনি স্ট্রিট এক সকালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। বন্ধ জানালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র নৈরাজ্যবাদীদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পুলিশ যখন দরজায় দরজায় ডাক দিচ্ছিল, তখনই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। শতাধিক পুলিশ দেয়াল, দরজা আর বাতিস্তম্ভের আড়ালে অবস্থান নেয়। ওপরতলার জানালা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা উৎকণ্ঠায় সব দেখছিলেন।

গোপন খোঁড়াখুঁড়ি থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। এক গহনার দোকানের পেছনে দিনের পর দিন খোঁড়াখুঁড়ির শব্দে সন্দেহ জাগে প্রতিবেশীদের। পুলিশ ভেবেছিল সাধারণ চুরির চেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কাজ করছিল লাটভিয়ান নৈরাজ্যবাদীদের একটি দল। তাদের লক্ষ্য ছিল দোকানের সিন্দুক ভেঙে অর্থ সংগ্রহ, যাতে রাজনৈতিক তৎপরতার খরচ জোগানো যায়। রাশিয়ার বিপ্লব দমনের পর লন্ডনে আশ্রয় নেওয়া এই দলটি ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে উঠছিল।

হঠাৎ হামলায় লন্ডনের স্তব্ধতা
পুলিশের নিরস্ত্র সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশির উদ্দেশ্যে দোকানে ঢুকতেই তাদের ওপর চালানো হয় গুলি। মুহূর্তে প্রাণ হারান কয়েকজন কর্মকর্তা। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন দলনেতার মরদেহ পাওয়া যায়, তবে দলের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়।

The Siege of Sidney Street, January 1911

সিডনি স্ট্রিটের অবরোধ
নতুন বছরের শুরুতে পুলিশের কাছে গোপন খবর আসে যে পলাতক দুই নৈরাজ্যবাদী সিডনি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে লুকিয়ে আছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতেই ওপরতলা থেকে আবার গুলি ছোড়া হয়। এক গোয়েন্দা গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরকারের নির্দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়।

আগুন, ধোঁয়া আর অনিশ্চিত পরিণতি
দুপুরের দিকে বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশ ঢেকে ফেলে। আগুন নেভার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই নৈরাজ্যবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে দলের অন্যতম রহস্যময় সদস্য আর কখনো ধরা পড়েননি। অনেকে মনে করেন, তিনি ছদ্মনামে ইউরোপে ফিরে গিয়েছিলেন।

ইতিহাসের পাতায় বিতর্কিত উপস্থিতি
এই অবরোধের সময় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে সংসদে এই উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক হয়, কেউ কেউ একে অতিরিক্ত প্রচারপ্রবণতা বলেও কটাক্ষ করেন। বহু বছর পর নিহত পুলিশ ও দমকল কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয়

লন্ডনের ইস্ট এন্ডে আতঙ্কের অবরোধ, সিডনি স্ট্রিট কাঁপিয়েছিল লাটভিয়ান নৈরাজ্যবাদীরা

১২:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

লন্ডনের ইস্ট এন্ডের সিডনি স্ট্রিট এক সকালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। বন্ধ জানালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সশস্ত্র নৈরাজ্যবাদীদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পুলিশ যখন দরজায় দরজায় ডাক দিচ্ছিল, তখনই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। শতাধিক পুলিশ দেয়াল, দরজা আর বাতিস্তম্ভের আড়ালে অবস্থান নেয়। ওপরতলার জানালা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা উৎকণ্ঠায় সব দেখছিলেন।

গোপন খোঁড়াখুঁড়ি থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
এই নাটকীয় ঘটনার সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে। এক গহনার দোকানের পেছনে দিনের পর দিন খোঁড়াখুঁড়ির শব্দে সন্দেহ জাগে প্রতিবেশীদের। পুলিশ ভেবেছিল সাধারণ চুরির চেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কাজ করছিল লাটভিয়ান নৈরাজ্যবাদীদের একটি দল। তাদের লক্ষ্য ছিল দোকানের সিন্দুক ভেঙে অর্থ সংগ্রহ, যাতে রাজনৈতিক তৎপরতার খরচ জোগানো যায়। রাশিয়ার বিপ্লব দমনের পর লন্ডনে আশ্রয় নেওয়া এই দলটি ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে উঠছিল।

হঠাৎ হামলায় লন্ডনের স্তব্ধতা
পুলিশের নিরস্ত্র সদস্যরা নিয়মিত তল্লাশির উদ্দেশ্যে দোকানে ঢুকতেই তাদের ওপর চালানো হয় গুলি। মুহূর্তে প্রাণ হারান কয়েকজন কর্মকর্তা। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরদিন দলনেতার মরদেহ পাওয়া যায়, তবে দলের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়।

The Siege of Sidney Street, January 1911

সিডনি স্ট্রিটের অবরোধ
নতুন বছরের শুরুতে পুলিশের কাছে গোপন খবর আসে যে পলাতক দুই নৈরাজ্যবাদী সিডনি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে লুকিয়ে আছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতেই ওপরতলা থেকে আবার গুলি ছোড়া হয়। এক গোয়েন্দা গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সরকারের নির্দেশে সেনা মোতায়েন করা হয়।

আগুন, ধোঁয়া আর অনিশ্চিত পরিণতি
দুপুরের দিকে বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশ ঢেকে ফেলে। আগুন নেভার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই নৈরাজ্যবাদীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে দলের অন্যতম রহস্যময় সদস্য আর কখনো ধরা পড়েননি। অনেকে মনে করেন, তিনি ছদ্মনামে ইউরোপে ফিরে গিয়েছিলেন।

ইতিহাসের পাতায় বিতর্কিত উপস্থিতি
এই অবরোধের সময় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে সংসদে এই উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক হয়, কেউ কেউ একে অতিরিক্ত প্রচারপ্রবণতা বলেও কটাক্ষ করেন। বহু বছর পর নিহত পুলিশ ও দমকল কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করা হয়।