০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
মিশেল ফাইফারের অভিনয়ের জাদু: দুটি ভিন্ন শোতেই হৃদয় স্পন্দন অনলাইন শিক্ষায় বাবা-মায়ের নতুন কৌশল: বাড়িতে ইউনিফর্ম, ব্যায়াম ও ফলের খোঁজ চাঁদে ফেরার নতুন ইতিহাস: অর্ধশতাব্দী পর মানুষের মহাকাশযাত্রায় বড় পদক্ষেপ চীনের চিপ শিল্পে নতুন মার্কিন চাপ ইউএই-তে পরিবারকেন্দ্রিক ইস্টার উদযাপন: ডিনার থেকে ডিম খোঁজা, সবকিছুই মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ বাড়াচ্ছে দামার হ্যামলিনের জীবন বদলে দেওয়া হৃদরোগ সচেতনতার সংগ্রাম: বাঁচার লড়াই থেকে অন্যদের জীবন বাঁচানো পর্যন্ত আত্মার বন্ধুত্বের রহস্যে হারানো: ইমপারফেক্ট উইমেন-এর শোবিশ্লেষণ চাকরি ও শ্রমিকের সমন্বয়, তবে সন্তুষ্টি নেই কম্বোডিয়ার সাইবার অপরাধ দমন আইন প্যাম বন্ডি চেয়ার করেছিলেন মার্জিত বিদায়, কিন্তু ট্রাম্প চাইলেন তাকে বিদায় দিতে

টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা, নারী ও শিশুসহ ১৮ জন উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরপথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচারের সময় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৮ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা
রোববার দুপুরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানব পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতার খবর পায় বিজিবি। তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি ট্রলারে করে সাগরপথে লোকজনকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গোপন অভিযান ও উদ্ধার
এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে বিজিবির একাধিক দল টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের রাজারছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। রাতের আঁধারে ভুক্তভোগীদের ট্রলারে তোলার মুহূর্তে বিজিবি টহলদল চারদিক থেকে ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে পাচারকারীরা সাঁতরে পাশের গ্রামে পালিয়ে যায়।

এরপর ট্রলারটি তল্লাশি করে মোট ১৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ তারেক নামে একজন ব্যক্তি একটি হত্যা মামলার আসামি বলে শনাক্ত হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে সে সাগরপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিল। তাকে আটক করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাচার চক্রের কৌশল
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, কর্মসংস্থান, বেশি বেতন ও উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে পাচারকারী চক্র তাদের প্রলুব্ধ করেছিল। পরে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সংগ্রহ করে মাথাপিছু অর্থের বিনিময়ে বিদেশে পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ চক্রের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রতিনিধিরাও জড়িত বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কঠোর নজরদারির ঘোষণা
বিজিবির অধিনায়ক বলেন, মানবতাবিরোধী এই ধরনের অপরাধ দমনে বাহিনীর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিশেল ফাইফারের অভিনয়ের জাদু: দুটি ভিন্ন শোতেই হৃদয় স্পন্দন

টেকনাফে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা, নারী ও শিশুসহ ১৮ জন উদ্ধার

১১:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে সাগরপথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচারের সময় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৮ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা
রোববার দুপুরে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন ২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানব পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তৎপরতার খবর পায় বিজিবি। তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি ট্রলারে করে সাগরপথে লোকজনকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

গোপন অভিযান ও উদ্ধার
এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে বিজিবির একাধিক দল টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের রাজারছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। রাতের আঁধারে ভুক্তভোগীদের ট্রলারে তোলার মুহূর্তে বিজিবি টহলদল চারদিক থেকে ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে পাচারকারীরা সাঁতরে পাশের গ্রামে পালিয়ে যায়।

এরপর ট্রলারটি তল্লাশি করে মোট ১৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ তারেক নামে একজন ব্যক্তি একটি হত্যা মামলার আসামি বলে শনাক্ত হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে সে সাগরপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিল। তাকে আটক করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাচার চক্রের কৌশল
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, কর্মসংস্থান, বেশি বেতন ও উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে পাচারকারী চক্র তাদের প্রলুব্ধ করেছিল। পরে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সংগ্রহ করে মাথাপিছু অর্থের বিনিময়ে বিদেশে পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ চক্রের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রতিনিধিরাও জড়িত বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কঠোর নজরদারির ঘোষণা
বিজিবির অধিনায়ক বলেন, মানবতাবিরোধী এই ধরনের অপরাধ দমনে বাহিনীর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।