হাঁটু মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে অবহেলিত অস্থিসন্ধিগুলোর একটি। বয়স তিরিশ পেরোতেই অনেকের হাঁটুতে ব্যথা, সকালে উঠলে শক্তভাব বা বসা থেকে ওঠার সময় অস্বস্তি টের পাওয়া শুরু হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ইঙ্গিতগুলো উপেক্ষা না করে এখনই যত্ন নিলে ভবিষ্যতে বড় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব।
হাঁটুর ওপর চাপ কেন বাড়ে
সাধারণ হাঁটার সময়ও হাঁটুর ওপর শরীরের ওজনের দেড় গুণ চাপ পড়ে। শারীরিক পরিশ্রমের কাজ, নিয়মিত খেলাধুলা, অতিরিক্ত ওজন, বংশগত কারণ কিংবা কিছু অটোইমিউন সমস্যায় এই চাপ আরও বাড়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় হাঁটু দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
হাঁটুর শক্তি কোথায় নির্ভর করে
হাঁটুর স্থিতি ও ভার বহনের বড় দায়িত্ব চারটি পেশিগোষ্ঠীর ওপর পড়ে। উরুর সামনের পেশি, পেছনের পেশি, নিতম্বের পেশি ও পায়ের পেছনের পেশি একসঙ্গে কাজ না করলে হাঁটুর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং ব্যথা শুরু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পেশিগুলো নিয়মিত সক্রিয় ও শক্তিশালী রাখলে হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয় ধীর করা যায়, এমনকি অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিও কমে।

ব্যায়ামের ভেতরের উপকারিতা
নিয়মিত নড়াচড়া হাঁটুর ভেতরের তরল পদার্থের উৎপাদন বাড়ায়, যা জোড়কে মসৃণ রাখে এবং শক্তভাব ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হাঁটুর চারপাশের হাড়ও শক্ত হয়, ফলে বয়স বাড়লেও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। কেবল ব্যথা কমানোই নয়, হাঁটুর ব্যায়াম শরীরের ভারসাম্যবোধ ও চলাফেরার নিয়ন্ত্রণও উন্নত করে।
কখন থেকে শুরু করা ভালো
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটুর যত্ন নেওয়ার জন্য আলাদা করে বৃদ্ধ বয়সের অপেক্ষা নেই। তিরিশের পর থেকেই ধীরে ধীরে পেশি ও হাড়ের শক্তি কমতে শুরু করে। তাই এই সময় থেকেই নিয়মিত হাঁটু-কেন্দ্রিক নড়াচড়া শুরু করলে ভবিষ্যতে বড় অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। কিশোর বয়সেও এই অভ্যাস খেলাধুলাজনিত চোটের আশঙ্কা কমাতে কার্যকর।
অল্প সময়ের নিয়মিত চর্চা
বিশেষ যন্ত্রপাতি ছাড়াই ঘরে বসে অল্প সময়ের সহজ অনুশীলন হাঁটুকে সক্রিয় রাখতে পারে। দিনে কয়েক মিনিট সময় দিলেই পেশির সমন্বয় ভালো হয়, হাঁটুর ওপর চাপ সঠিকভাবে বণ্টিত হয় এবং দৈনন্দিন চলাফেরা স্বস্তিদায়ক থাকে। তবে নতুন করে শুরু করলে সঠিক ভঙ্গি নিশ্চিত করা জরুরি, নইলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















