২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর এশিয়ায় বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হবে—এ বিষয়ে নিক্কেই এশিয়ার পাঠকদের মধ্যে খুব একটা সন্দেহ ছিল না। তবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে উঠে আসা এই রাজনীতিক, যিনি নিজের অনিশ্চয়তাকেই শক্তি মনে করেন, এশিয়ার জন্য প্রত্যাশার চেয়েও বেশি চমক নিয়ে এসেছেন।
চীনা পণ্যের ওপর অন্তত ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন কি না—এ প্রশ্নে যেমন পাঠকদের বড় অংশ ভুল করেছিলেন, তেমনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় ফিরবেন কি না—এ নিয়েও পূর্বাভাস মিলেনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, এই দুই নেতার আলোচিত ঘনিষ্ঠতা আবার শুরু হবে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের খাপছাড়া নীতিগত ঘোষণায় মুদ্রাবাজারও অস্থির হয়ে ওঠে। ফলে যেসব পাঠক ভেবেছিলেন, বছরের শেষে এশিয়ার অধিকাংশ মুদ্রা ডলারের বিপরীতে আরও দুর্বল হবে, তারা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তবে সব পূর্বাভাস ভুল ছিল না। প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পাঠকেরা সঠিক অনুমান করতে পেরেছেন। যেমন—বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বিক্রিতে বিওয়াইডি যে টেসলাকে ছাড়িয়ে যাবে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিগেরু ইশিবা টিকে থাকতে পারবেন না এবং নুসান্তারা ইন্দোনেশিয়ার সরকারের আসন হবে না—এসব পূর্বাভাসই বাস্তব হয়েছে।
ট্রাম্প ও তাঁর নীতির প্রভাব ছাড়াও পাঠকেরা চীনের শেয়ারবাজারের হঠাৎ উত্থান অনুমান করতে পারেননি। সামান্য ব্যবধানে অনেকে ভেবেছিলেন, চীনা শেয়ারের দাম স্থিরই থাকবে। বাস্তবে প্রধান সূচকগুলো ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। শক্তিশালী রপ্তানিকারক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে আগ্রহ, এই উত্থানের বড় কারণ ছিল।
২০২৬ কি আবারও এতটাই অস্থির হবে? প্রায় ১ হাজার ১৫০ জন পাঠক বাণিজ্য, রাজনীতি, ব্যবসা, খেলাধুলা, বাজার, বিনোদন ও অর্থনীতি নিয়ে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। অন্তত এটুকু নিশ্চিত—বছরটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় হবে।
প্রশ্ন এক
চীনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য সমঝোতা কি পুরো বছর টিকে থাকবে?
পাঠকদের মত—হ্যাঁ।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩০ অক্টোবরের এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক বছরের জন্য বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিত রাখতে সম্মত হন। এই সমঝোতায় চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন কেনার চীনা অঙ্গীকার এবং বিরল খনিজ রপ্তানিতে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই চুক্তি ব্যবসা ও ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। সামান্য ব্যবধানে পাঠকেরা মনে করছেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এই সমঝোতা টিকে থাকবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই অভিযোগ উঠছে—চীন সয়াবিন ও বিরল খনিজের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি মানছে না। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের নতুন বাণিজ্য বিধিনিষেধকে বেইজিং বন্ধুত্বপূর্ণ বলে দেখছে না। তবু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপে এবং বেইজিং সফরের আগ্রহে ট্রাম্প আপাতত শান্তি বজায় রাখতে চান।
প্রশ্ন দুই
ভারত কি আবার এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিতে ফিরবে?
পাঠকদের মত—হ্যাঁ।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে স্থিতিশীল ছিল। অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় জোরালো থাকায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ২ শতাংশে। করছাড়, সুদের হার কমানো ও ভালো বর্ষা এই গতি ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি সামান্য বেশি হতে পারে বললেও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও পাঠকদের ধারণা—২০২৬ সালে ভারতই শীর্ষে থাকবে। নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিও ভারতের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
প্রশ্ন তিন
জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচি কি পুরো বছর টিকে থাকবেন?
পাঠকদের মত—হ্যাঁ।
নতুন বছরে তাঁর প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাজেট পাস করানো। জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন জোটের প্রতি সমর্থন শক্ত অবস্থানে থাকলেও, উচ্চকক্ষে সংখ্যালঘু অবস্থান ভবিষ্যৎ নীতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবু পাঠকদের ধারণা, ২০২৬ সালজুড়ে তিনি পদে থাকবেন।
প্রশ্ন চার
চীন কি আবার এনভিডিয়া চিপের বড় বাজারে পরিণত হবে?
পাঠকদের মত—না।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র কিছু শর্তে চীনে উন্নত চিপ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, তবু বেইজিং নিজস্ব প্রযুক্তি বিকাশে জোর দিচ্ছে। হুয়াওয়ে ও অন্যান্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। ফলে এনভিডিয়ার জন্য চীনে বড় পরিসরে ফিরে আসা সহজ হবে না।
প্রশ্ন পাঁচ
থাইল্যান্ডের পরবর্তী সরকার কি পিপলস পার্টি গঠন করবে?
পাঠকদের মত—না।
আগের নির্বাচনে জয় পেলেও সরকার গঠন করতে না পারা এই দলের প্রতি সমর্থন কমেছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, অনিশ্চিত ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে এবং দলের জনপ্রিয়তা কমতির দিকে।
প্রশ্ন ছয়
ফুটবল বিশ্বকাপে কি কোনো এশীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে?
পাঠকদের মত—হ্যাঁ।
দীর্ঘদিন পর এশিয়ার কোনো দল শেষ আটে পৌঁছাতে পারে বলে পাঠকদের বিশ্বাস। জাপানকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হলেও, ভাগ্য ও ধারাবাহিকতা থাকলে অন্য দলও চমক দেখাতে পারে।
প্রশ্ন সাত
ইয়েন কি ডলারের বিপরীতে ১৭০-এ নেমে যাবে?
পাঠকদের মত—না।
ইয়েন দুর্বল হলেও সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা থাকায় এতটা পতন হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন আট
ভিয়েতনাম কি বার্ষিক জিডিপিতে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যাবে?
পাঠকদের মত—হ্যাঁ।
রপ্তানি ও সংস্কারের জোরে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি। ব্যবধান এতটাই বড় যে ২০২৬ সালে ভিয়েতনামের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
প্রশ্ন নয়
চীনের আবাসন বাজার কি অবশেষে তলানিতে পৌঁছাবে?
পাঠকদের মত—না।
দাম কমলেও বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় সংকট কাটছে না। বড় বড় আবাসন কোম্পানি ধসে পড়েছে, আর ভোক্তাদের আস্থাও নড়বড়ে।
প্রশ্ন দশ
সুপার মারিও ব্রাদার্স চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েল কি আগের চেয়েও বড় হিট হবে?
পাঠকদের মত—না।
প্রথম ছবির সাফল্য সত্ত্বেও প্রতিযোগিতা বেড়েছে। নতুন গল্প ও আকর্ষণ তৈরি না হলে সিক্যুয়েল আগের সাফল্য ছুঁতে নাও পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















