শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে প্রাণ হারিয়েছেন খোকন চন্দ্র দাস, বয়স ৩৮ বছর। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
শনিবার ৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাতে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে জড়ো হন। পরে রাতেই পারিবারিকভাবে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় এবং বাড়ির উঠানেই তাকে সমাহিত করা হয়।
খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাসিন্দা এবং পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে তিলই এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য স্বপন গোলদার জানান, আহত অবস্থায় খোকন দাস হামলাকারীদের নাম বলেছিলেন। সেই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বাবার দায়ের করা মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদার। তবে ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, স্বামীর মৃত্যুর চার দিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের ধরা হয়নি। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তারপরও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















