১২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান যুদ্ধ বাড়ছে, জয় নয়: ড্রোন যুগে কেন অচলাবস্থার ফাঁদে বিশ্ব এল নিনোর নতুন হুমকি: ভারত থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত কৃষকদের সামনে খরা, খাদ্যসংকটের আশঙ্কা যখন ঢাকা ঘুমায়: অস্থির পৃথিবীর মাঝে এক বিরল বিরতি আমাদের খাবারের পেছনের নৈতিক প্রশ্ন ঈদের চামড়ায় ধস: বিক্রি না হওয়ায় মাটিচাপা, নদীতে ভাসানোর আশঙ্কা ডিম-পাথর-জুতা নিক্ষেপ: পশ্চিমবঙ্গের সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁটের পথে সরকার

চলতি অর্থবছরের জন্য বড় আকারে কমানো সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদনের পথে সরকার। সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধিত কর্মসূচির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দুর্বল প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের কারণে সংশোধিত এডিপির আকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। মধ্য অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে আনার যে প্রবণতা বহু বছর ধরে চলে আসছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

মূল এডিপি থেকে বড় কাটছাঁট
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর সেটি কমে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল অতীতের গড়ের তুলনায় অনেক কম। ফলে নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, প্রাথমিক ব্যয় লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যেসব বরাদ্দ খরচই করা যাবে না, সেগুলো ধরে রাখার কোনো যুক্তি নেই। বাস্তব সক্ষমতার ভিত্তিতেই সংশোধিত এডিপি করা হচ্ছে।

বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের সংকট
এডিপি সংকোচনের পেছনে রয়েছে নানা কাঠামোগত সমস্যা। প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার ধীরগতি, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সীমিত সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন ব্যয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের তদারকি ও একাধিক নির্দেশনার পরও প্রথম প্রান্তিক পেরিয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ব্যয় গতি বাড়াতে পারেনি। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য অর্থবছর পর্যন্ত অনেক বড় মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম খরচ করেছে।

পরিবহন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার খাত, যেগুলো সাধারণত এডিপির সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় করে থাকে, সেগুলোর বাস্তবায়নও ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পে ধাক্কা
বিশেষ করে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং নানা শর্ত পূরণের জটিলতায় এসব প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে পড়ে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ হাজার কোটি টাকার কাটছাঁটের বড় অংশই আসবে এমন বিদেশি অর্থায়ন প্রকল্প থেকে, যেগুলো চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও আইএমএফ চাপ
এডিপি কমানোর সিদ্ধান্তে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে বাড়তে থাকা আর্থিক চাপ। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তাপ্রাপ্ত সংস্কার কর্মসূচির অঙ্গীকার সরকারকে উন্নয়ন ব্যয়ে কড়াকড়ি আরোপে বাধ্য করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত বড় এডিপি ধরে রাখার মতো আর্থিক সুযোগ এখন সরকারের নেই। বাস্তব সক্ষমতা ও প্রাপ্য সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সংশোধিত এডিপি করা হচ্ছে।

সংখ্যা কমানোই যেন নিয়ম
পরিকল্পনা কমিশনের এক সাবেক সদস্যের মতে, এডিপি কমানো এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাঠামোগত সমস্যা সমাধানের বদলে প্রতিবছর শুধু সংখ্যাই কমানো হচ্ছে।

তবে সামগ্রিক কাটছাঁটের মধ্যেও কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প রক্ষা করার চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প প্রায় শেষের পথে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবহন সংযোগ ও সামাজিক অবকাঠামোর মতো জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো বরাদ্দ ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন, জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি সহায়তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কিছু অর্থ পুনর্বিন্যাসও হতে পারে। নতুন প্রকল্প ও কম গুরুত্বের কর্মসূচিতে বরাদ্দ আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি থেকে রেকর্ড ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছিল, যার ফলে এর আকার নেমে আসে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁটের পথে সরকার

১২:০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরের জন্য বড় আকারে কমানো সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদনের পথে সরকার। সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধিত কর্মসূচির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দুর্বল প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের কারণে সংশোধিত এডিপির আকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। মধ্য অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে আনার যে প্রবণতা বহু বছর ধরে চলে আসছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

মূল এডিপি থেকে বড় কাটছাঁট
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর সেটি কমে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল অতীতের গড়ের তুলনায় অনেক কম। ফলে নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, প্রাথমিক ব্যয় লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যেসব বরাদ্দ খরচই করা যাবে না, সেগুলো ধরে রাখার কোনো যুক্তি নেই। বাস্তব সক্ষমতার ভিত্তিতেই সংশোধিত এডিপি করা হচ্ছে।

বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের সংকট
এডিপি সংকোচনের পেছনে রয়েছে নানা কাঠামোগত সমস্যা। প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার ধীরগতি, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সীমিত সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন ব্যয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের তদারকি ও একাধিক নির্দেশনার পরও প্রথম প্রান্তিক পেরিয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ব্যয় গতি বাড়াতে পারেনি। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য অর্থবছর পর্যন্ত অনেক বড় মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম খরচ করেছে।

পরিবহন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার খাত, যেগুলো সাধারণত এডিপির সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় করে থাকে, সেগুলোর বাস্তবায়নও ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পে ধাক্কা
বিশেষ করে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং নানা শর্ত পূরণের জটিলতায় এসব প্রকল্পের অগ্রগতি আরও ধীর হয়ে পড়ে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩০ হাজার কোটি টাকার কাটছাঁটের বড় অংশই আসবে এমন বিদেশি অর্থায়ন প্রকল্প থেকে, যেগুলো চলতি অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও আইএমএফ চাপ
এডিপি কমানোর সিদ্ধান্তে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে বাড়তে থাকা আর্থিক চাপ। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তাপ্রাপ্ত সংস্কার কর্মসূচির অঙ্গীকার সরকারকে উন্নয়ন ব্যয়ে কড়াকড়ি আরোপে বাধ্য করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত বড় এডিপি ধরে রাখার মতো আর্থিক সুযোগ এখন সরকারের নেই। বাস্তব সক্ষমতা ও প্রাপ্য সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সংশোধিত এডিপি করা হচ্ছে।

সংখ্যা কমানোই যেন নিয়ম
পরিকল্পনা কমিশনের এক সাবেক সদস্যের মতে, এডিপি কমানো এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। কাঠামোগত সমস্যা সমাধানের বদলে প্রতিবছর শুধু সংখ্যাই কমানো হচ্ছে।

তবে সামগ্রিক কাটছাঁটের মধ্যেও কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প রক্ষা করার চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প প্রায় শেষের পথে বা বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিবহন সংযোগ ও সামাজিক অবকাঠামোর মতো জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো বরাদ্দ ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত বিদ্যুৎ সঞ্চালন, জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি সহায়তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে কিছু অর্থ পুনর্বিন্যাসও হতে পারে। নতুন প্রকল্প ও কম গুরুত্বের কর্মসূচিতে বরাদ্দ আরও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে সংশোধিত এডিপি থেকে রেকর্ড ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছিল, যার ফলে এর আকার নেমে আসে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায়।