০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

মক বাড়ি, সিআইএ সূত্র ও বিশেষ বাহিনী: মাদুরোকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করতে যে অভিযান চালায়, সেটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জটিল ও বহুমাত্রিক সামরিক ও গোয়েন্দা উদ্যোগগুলোর একটি। হঠাৎ ঘোষণার আড়ালে ছিল মাসের পর মাস ধরে চলা নিখুঁত পরিকল্পনা, মহড়া এবং সমন্বয়।

অভিযানের নেপথ্য প্রস্তুতি
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের পরিকল্পনা কয়েক মাস আগে থেকেই পেন্টাগন ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে শুরু হয়। মাদুরোর নিরাপদ বাড়ির হুবহু অনুকরণে একটি মক স্থাপনা তৈরি করে সেখানে বারবার মহড়া চালানো হয়। বিশেষ বাহিনী কীভাবে সুরক্ষিত প্রবেশপথ ভেঙে ভেতরে ঢুকবে, তার প্রতিটি ধাপ অনুশীলনে পরীক্ষা করা হয়।

সিআইএর মাঠপর্যায়ের ভূমিকা
গত বছরের আগস্ট থেকেই সিআইএর একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাদুরোর দৈনন্দিন চলাচল ও অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে অভিযানের মুহূর্তে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।

চূড়ান্ত অনুমোদন ও নামকরণ
চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অভিযানের অনুমোদন দেন। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবহাওয়া অনুকূলে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে অভিযানের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়, যার নাম রাখা হয় ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’।

বিশাল সামরিক মোতায়েন
অভিযান ঘিরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা হয়। একটি বিমানবাহী রণতরী, একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। মোট দেড় শতাধিক সামরিক বিমান এবং বিপুলসংখ্যক সেনা এই অভিযানে অংশ নেয়। আকাশপথে হামলার মাধ্যমে কারাকাসের আশপাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

কারাকাসে অভিযান
রাতের আঁধারে বিশেষ বাহিনী হেলিকপ্টারে করে কারাকাসে প্রবেশ করে। নিরাপদ বাড়ির কাছে পৌঁছানোর সময় গোলাগুলির মুখে পড়লেও তারা এগিয়ে যায়। স্টিলের দরজা ও সুরক্ষিত অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকতে প্রয়োজনে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। পুরো অভিযান দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

আত্মসমর্পণ ও আটক
ভেতরে ঢোকার পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপদ কক্ষে পৌঁছানোর আগেই তাঁরা আটক হন। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সদস্য আহত হলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি।

অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতি
ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ত্যাগ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একাধিক আত্মরক্ষামূলক সংঘর্ষে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের ওপর পৌঁছালে মাদুরো দম্পতি সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে চলে যান। কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁদের আটক অবস্থার ছবি প্রকাশ করা হয়।

এই পুরো অভিযানের বিবরণ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও সরকারি বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

মক বাড়ি, সিআইএ সূত্র ও বিশেষ বাহিনী: মাদুরোকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযান

১২:১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করতে যে অভিযান চালায়, সেটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জটিল ও বহুমাত্রিক সামরিক ও গোয়েন্দা উদ্যোগগুলোর একটি। হঠাৎ ঘোষণার আড়ালে ছিল মাসের পর মাস ধরে চলা নিখুঁত পরিকল্পনা, মহড়া এবং সমন্বয়।

অভিযানের নেপথ্য প্রস্তুতি
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের পরিকল্পনা কয়েক মাস আগে থেকেই পেন্টাগন ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে শুরু হয়। মাদুরোর নিরাপদ বাড়ির হুবহু অনুকরণে একটি মক স্থাপনা তৈরি করে সেখানে বারবার মহড়া চালানো হয়। বিশেষ বাহিনী কীভাবে সুরক্ষিত প্রবেশপথ ভেঙে ভেতরে ঢুকবে, তার প্রতিটি ধাপ অনুশীলনে পরীক্ষা করা হয়।

সিআইএর মাঠপর্যায়ের ভূমিকা
গত বছরের আগস্ট থেকেই সিআইএর একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাদুরোর দৈনন্দিন চলাচল ও অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে অভিযানের মুহূর্তে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।

চূড়ান্ত অনুমোদন ও নামকরণ
চার দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অভিযানের অনুমোদন দেন। তবে সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবহাওয়া অনুকূলে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাতে অভিযানের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়, যার নাম রাখা হয় ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’।

বিশাল সামরিক মোতায়েন
অভিযান ঘিরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নজিরবিহীন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা হয়। একটি বিমানবাহী রণতরী, একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। মোট দেড় শতাধিক সামরিক বিমান এবং বিপুলসংখ্যক সেনা এই অভিযানে অংশ নেয়। আকাশপথে হামলার মাধ্যমে কারাকাসের আশপাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

কারাকাসে অভিযান
রাতের আঁধারে বিশেষ বাহিনী হেলিকপ্টারে করে কারাকাসে প্রবেশ করে। নিরাপদ বাড়ির কাছে পৌঁছানোর সময় গোলাগুলির মুখে পড়লেও তারা এগিয়ে যায়। স্টিলের দরজা ও সুরক্ষিত অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকতে প্রয়োজনে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। পুরো অভিযান দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

আত্মসমর্পণ ও আটক
ভেতরে ঢোকার পর মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন। নিরাপদ কক্ষে পৌঁছানোর আগেই তাঁরা আটক হন। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সদস্য আহত হলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি।

অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতি
ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ত্যাগ করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একাধিক আত্মরক্ষামূলক সংঘর্ষে জড়ায়। শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের ওপর পৌঁছালে মাদুরো দম্পতি সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে চলে যান। কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁদের আটক অবস্থার ছবি প্রকাশ করা হয়।

এই পুরো অভিযানের বিবরণ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও সরকারি বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।