রবিবার সারা দেশে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকেরা একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। সরকারের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি অবিলম্বে কার্যকর করা এবং শ্রম আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবিতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার বিভিন্ন থানা এলাকায় শ্রমিকেরা মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশগুলোতে শ্রমিকেরা সরকারের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি দ্রুত কার্যকর করা, নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান, দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত করা, ন্যায্য ওভারটাইমের মজুরি পরিশোধ এবং সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য আইনগত সুযোগ–সুবিধা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
রাজধানীতে কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, ওয়ারী ও বংশাল থানার আওতাধীন এলাকায় ফুলবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, মালিকদের অবহেলা ও শোষণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হোটেল–রেস্তোরাঁ শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। দ্রুত মজুরি গেজেট ও শ্রম আইন কার্যকর না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শ্যামপুর ও সায়েদাবাদ এলাকায়ও পৃথক সমাবেশ হয়। এসব সমাবেশে বক্তারা শ্রমিকদের দাবির পুনরাবৃত্তি করেন এবং খাতটিতে সরকারি নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান।
মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বলা হয়, কম মজুরি ও অতিরিক্ত কাজের চাপে শ্রমিকেরা অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি থানার আওতায় নিউমার্কেট ওভারব্রিজে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিক নেতারা শ্রম আইন লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরেন।
তেজগাঁও ও ফার্মগেট এলাকায় গ্রিন সুপার মার্কেটের সামনে এবং মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুর এলাকায় বেনারসি পল্লীর সামনে আরও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতেও শ্রমিকেরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়; এটি শ্রমিকদের বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। ঘোষিত মজুরি কাঠামো ও শ্রম আইন অবিলম্বে কার্যকর না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও তারা জানান। শ্রমিক নেতারা দৃঢ়ভাবে বলেন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















