কম্বোডিয়া সরকার থাইল্যান্ডকে অবিলম্বে তাদের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সীমান্ত এলাকা থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিতর্কিত সীমান্তে থাই সেনাদের উপস্থিতিকে আন্তর্জাতিক সীমার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে প্নমপেন।
যুদ্ধবিরতির পরও উত্তেজনা
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হন এবং দুই দেশের প্রায় দশ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। তিন সপ্তাহের সংঘর্ষের পর ২৭ ডিসেম্বর উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে কম্বোডিয়ার অভিযোগ, ওই সময়ের মধ্যেই থাইল্যান্ড চারটি সীমান্ত প্রদেশে কয়েকটি এলাকা দখলে নেয়।

বিদেশ মন্ত্রণালয়ের কড়া বার্তা
শনিবার এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের ভেতরে থাকা সব থাই সেনা ও সামরিক সরঞ্জামকে আইনগতভাবে নির্ধারিত সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ও কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে সব ধরনের শত্রুতামূলক সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানানো হয়।
দখল অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকার
কম্বোডিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে চুক চে গ্রাম অবৈধভাবে সংযুক্ত করার অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, থাই সেনারা বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, কাঁটাতারের বেড়া ও ধাতব কনটেইনার বসিয়ে সীমান্ত ঘিরে ফেলেছে এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। থাই সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা এমন এলাকাতেই অবস্থান নিয়েছে যা ঐতিহাসিকভাবে তাদের ভূখণ্ডের অংশ।

সীমান্ত বিরোধের পেছনের ইতিহাস
দুই দেশের প্রায় আটশ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এই বিরোধ বহু দশকের পুরোনো। ঔপনিবেশিক আমলের মানচিত্র ও সীমারেখা ঘিরে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি প্রাচীন মন্দিরের মালিকানা নিয়েও দাবি রয়েছে উভয় পক্ষের। সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সেই পুরোনো বিরোধকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।
অবস্থান অনড় দুই পক্ষের
কম্বোডিয়া জানিয়েছে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সীমারেখায় কোনো পরিবর্তন তারা স্বীকার করবে না। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের নেতৃত্ব বলছে, তারা কখনো অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি এবং আন্তর্জাতিক বিধি মেনেই সীমান্তে অবস্থান করছে। ফলে যুদ্ধবিরতি থাকলেও কূটনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















