গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে, তাহলে আগামী মার্চ মাসে গাজায় সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হতে পারে। মানবিক সংস্থার কর্মীদের নামের পূর্ণ তালিকা জমা দেওয়ার যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, সেটিকে তারা অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
নিবন্ধন জটিলতায় কার্যক্রম ঝুঁকিতে
সংস্থার ফ্রান্স শাখার সভাপতি ইজাবেল দেফুরনি জানিয়েছেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কাজ করতে হলে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাদের আগের নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের শেষে। গত জুলাই থেকে নতুন করে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চললেও এখনো কোনো উত্তর মেলেনি। নিয়ম অনুযায়ী সীমিত সময় পর্যন্ত নিবন্ধন ছাড়াই কাজ চালানো গেলেও সেই সময় শেষ হলে মার্চে কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

কর্মী ও সেবার বিস্তৃতি
বর্তমানে গাজায় সংস্থাটির প্রায় চল্লিশজন আন্তর্জাতিক কর্মী কাজ করছেন। পাশাপাশি আটটি হাসপাতালে প্রায় আটশ জন ফিলিস্তিনি কর্মীর সঙ্গে সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি গাজায় পানি সরবরাহের দিক থেকেও অন্যতম বড় বিতরণকারী। গত বছর আহত, দগ্ধ ও বিভিন্ন ট্রমায় আক্রান্ত এক লাখের বেশি মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রসবসেবার সংখ্যার দিক থেকেও তারা শীর্ষ সারির ভূমিকা রেখেছে।
ইসরায়েলের অবস্থান ও পাল্টা অভিযোগ
ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তাজনিত কারণে মানবিক সংস্থার কর্মীদের নামের তালিকা প্রয়োজন, যাতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়। তবে সংস্থাটির ভাষ্য, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত গাজায় সহিংসতার বাস্তব চিত্র বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বিষয়টি রয়েছে, যা কিছু পক্ষের জন্য অস্বস্তিকর।

জাতিসংঘের উদ্বেগ
এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় প্রতিটি দ্বিতীয় মানুষ এখনো জরুরি আশ্রয় সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধের ফলে অধিকাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
শীত ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট
শীতকালীন প্রতিকূলতায় অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা শত শত হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বৃষ্টি, ঝড় ও সমুদ্রের পানির আঘাতে অনেক তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত। পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা খাতে কাজ করা সংস্থাগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। জ্বালানি সংকট ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে ল্যান্ডফিলে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবু শিশু সহায়তা তহবিলের সহায়তায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার আহ্বান
বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা ও অংশীদারদের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃসংস্থাগত কমিটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















