০৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
ভেনেজুয়েলা ঘিরে তেলের বাজারে ‘অতিরিক্ত সরবরাহ’ শঙ্কা ওজন কমানোর আশ্বাসে ওষুধ, বাস্তবে কাজই করে না অনেকের শরীরে তেল লুটের নতুন ছক, জলবায়ুর চরম ঝুঁকি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে বরফে ঢাকা দ্বীপ ইউরোপের এক কণ্ঠ, গ্রিনল্যান্ড কারও নয় ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান ঘিরে তাইওয়ানে নিরাপত্তা উদ্বেগ, চীনের বার্তা নিয়ে মুখোমুখি রাজনীতি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হোয়াইট হাউসের সুর: ‘সামরিক পথও বিকল্প’, ইউরোপের কড়া প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আবর্জনাই সম্পদ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্ত ভক্সের দাবি: নতুন উদ্ভাবনে শিশু অনাহার মোকাবিলা এখন আরও সাশ্রয়ী

তরুণ প্রজন্মের পর্দায় সিগারেটের প্রত্যাবর্তন: পরিচ্ছন্ন জীবনের ছায়া পেরিয়ে নতুন নান্দনিক মোহ

মহামারির সময়কার আঁটসাঁট চুলের স্টাইল আর শরীরচর্চার নিখুঁত ভিডিও দিয়ে ভরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ধীরে ধীরে ভিন্ন এক ছবি ফুটে উঠছে। তারুণ্যের পর্দায় আবার দেখা যাচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া। পরিচ্ছন্ন জীবনধারা ও সুস্থতাকেন্দ্রিক ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত প্রজন্মের মধ্যেই এই দৃশ্যের বিস্তার সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। সামাজিক মাধ্যমে তারকা ও জনপ্রিয় চরিত্রদের ধূমপানের দৃশ্য তরুণদের মধ্যে নান্দনিক আকর্ষণ তৈরি করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

প্রজন্মের অভ্যাসে দ্বন্দ্ব
দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রজন্মকে স্বাস্থ্যসচেতন বলে ধরা হতো। গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অনেক তরুণই মদ্যপান বা নেশাজাতীয় অভ্যাস থেকে দূরে ছিল। একই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল আত্মউন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন সৌন্দর্য আর নিয়ন্ত্রিত জীবনের নানা প্রবণতা। কিন্তু এখন সেই ধারার ফাঁকে ভিন্ন এক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। বাস্তবতার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আর ডিজিটাল জীবনের শূন্যতা তরুণদের আগের প্রজন্মের অভ্যাসের দিকে কৌতূহলী করে তুলছে।

Image

নান্দনিকতায় সিগারেটের প্রত্যাবর্তন
পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবে ধূমপানের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবু সামাজিক মাধ্যমে সিগারেটের উপস্থিতি স্পষ্ট। ফ্যাশন শো, আলোকচিত্রীদের ফ্রেম আর ব্যক্তিগত পোস্টে সিগারেট যেন একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠছে। তরুণরা ধূমপানকে বাস্তব অভ্যাস হিসেবে নয়, বরং একটি দৃশ্যমান ভঙ্গি ও মনোভাব হিসেবে দেখছে। সেই ভঙ্গি অনিশ্চিত সময়ে কিছুটা বিদ্রোহী স্বাদ যোগ করছে।

নব্বইয়ের দশক থেকে বর্তমান
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি কেবল তাৎক্ষণিক প্রবণতা নয়। প্রায় বিশ বছরের ঘূর্ণায়মান সাংস্কৃতিক ধারায় নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকের রুক্ষ ও বেখাপ্পা নান্দনিকতা আবার ফিরে আসছে। সেই সময়ের সঙ্গীত, পোশাক আর জীবনবোধের সঙ্গে সিগারেট অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। বর্তমান প্রজন্ম সেই যুগকে রোমান্টিক করে দেখছে, আর সিগারেট সেই স্মৃতির দৃশ্যমান চিহ্ন হয়ে উঠছে।

Image

তারকা প্রভাব ও সামাজিক মাধ্যম
তারকাদের ধূমপানের ছবি এই প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করেছে। সামাজিক মাধ্যম এখন ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর মঞ্চ। এখানে একটি ছবি বা ভঙ্গি মুহূর্তে পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তারকারা যখন প্রকাশ্যে ধূমপান করেন, তখন সেটি অনুসারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার সিলমোহর পায়। তরুণেরা সেই শক্তিকে নকল করে নিজেদের পর্দায় তুলে ধরছে।

Image

ভবিষ্যৎ কোন পথে
এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বাস্তব ধূমপানে রূপ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত এটি নান্দনিক আকর্ষণ ও সাংস্কৃতিক কৌতূহলের স্তরেই রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বাস্তবতা তরুণদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছেই। সামাজিক মাধ্যমের ছবির বাইরে বাস্তব সিদ্ধান্ত কোথায় দাঁড়াবে, সেটাই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলা ঘিরে তেলের বাজারে ‘অতিরিক্ত সরবরাহ’ শঙ্কা

তরুণ প্রজন্মের পর্দায় সিগারেটের প্রত্যাবর্তন: পরিচ্ছন্ন জীবনের ছায়া পেরিয়ে নতুন নান্দনিক মোহ

০৬:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মহামারির সময়কার আঁটসাঁট চুলের স্টাইল আর শরীরচর্চার নিখুঁত ভিডিও দিয়ে ভরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ধীরে ধীরে ভিন্ন এক ছবি ফুটে উঠছে। তারুণ্যের পর্দায় আবার দেখা যাচ্ছে সিগারেটের ধোঁয়া। পরিচ্ছন্ন জীবনধারা ও সুস্থতাকেন্দ্রিক ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত প্রজন্মের মধ্যেই এই দৃশ্যের বিস্তার সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো। সামাজিক মাধ্যমে তারকা ও জনপ্রিয় চরিত্রদের ধূমপানের দৃশ্য তরুণদের মধ্যে নান্দনিক আকর্ষণ তৈরি করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

প্রজন্মের অভ্যাসে দ্বন্দ্ব
দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রজন্মকে স্বাস্থ্যসচেতন বলে ধরা হতো। গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, অনেক তরুণই মদ্যপান বা নেশাজাতীয় অভ্যাস থেকে দূরে ছিল। একই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল আত্মউন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন সৌন্দর্য আর নিয়ন্ত্রিত জীবনের নানা প্রবণতা। কিন্তু এখন সেই ধারার ফাঁকে ভিন্ন এক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। বাস্তবতার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আর ডিজিটাল জীবনের শূন্যতা তরুণদের আগের প্রজন্মের অভ্যাসের দিকে কৌতূহলী করে তুলছে।

Image

নান্দনিকতায় সিগারেটের প্রত্যাবর্তন
পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবে ধূমপানের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবু সামাজিক মাধ্যমে সিগারেটের উপস্থিতি স্পষ্ট। ফ্যাশন শো, আলোকচিত্রীদের ফ্রেম আর ব্যক্তিগত পোস্টে সিগারেট যেন একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠছে। তরুণরা ধূমপানকে বাস্তব অভ্যাস হিসেবে নয়, বরং একটি দৃশ্যমান ভঙ্গি ও মনোভাব হিসেবে দেখছে। সেই ভঙ্গি অনিশ্চিত সময়ে কিছুটা বিদ্রোহী স্বাদ যোগ করছে।

নব্বইয়ের দশক থেকে বর্তমান
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি কেবল তাৎক্ষণিক প্রবণতা নয়। প্রায় বিশ বছরের ঘূর্ণায়মান সাংস্কৃতিক ধারায় নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের শুরুর দিকের রুক্ষ ও বেখাপ্পা নান্দনিকতা আবার ফিরে আসছে। সেই সময়ের সঙ্গীত, পোশাক আর জীবনবোধের সঙ্গে সিগারেট অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। বর্তমান প্রজন্ম সেই যুগকে রোমান্টিক করে দেখছে, আর সিগারেট সেই স্মৃতির দৃশ্যমান চিহ্ন হয়ে উঠছে।

Image

তারকা প্রভাব ও সামাজিক মাধ্যম
তারকাদের ধূমপানের ছবি এই প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করেছে। সামাজিক মাধ্যম এখন ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর মঞ্চ। এখানে একটি ছবি বা ভঙ্গি মুহূর্তে পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। তারকারা যখন প্রকাশ্যে ধূমপান করেন, তখন সেটি অনুসারীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার সিলমোহর পায়। তরুণেরা সেই শক্তিকে নকল করে নিজেদের পর্দায় তুলে ধরছে।

Image

ভবিষ্যৎ কোন পথে
এই প্রবণতা শেষ পর্যন্ত বাস্তব ধূমপানে রূপ নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত এটি নান্দনিক আকর্ষণ ও সাংস্কৃতিক কৌতূহলের স্তরেই রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বাস্তবতা তরুণদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছেই। সামাজিক মাধ্যমের ছবির বাইরে বাস্তব সিদ্ধান্ত কোথায় দাঁড়াবে, সেটাই দেখার বিষয়।