০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
শিগগিরই মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রত্যাশা নেতানিয়াহুর, ফোনালাপে জোরদার হলো ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত আলোচনা পাথরঘাটা নদী — বরিশালের হৃদয়ে স্রোত ও স্মৃতি শুল্ক কমলেই সংকটে পাহাড়ের আপেল, নিউজিল্যান্ডের সস্তা ফল ভাসাতে পারে দেশীয় বাজার আবুধাবিতে প্রথম জিন থেরাপি প্রয়োগ, রক্তরোগ চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা বিদেশি অর্থ ও জীবাশ্মবিরোধী তৎপরতা ঘিরে উত্তেজনা: পরিবেশকর্মী আটক করে ছাড়ল ভারত ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় নতুন মোড়, ট্রাম্পের সঙ্গে আবার বৈঠক চান জেলেনস্কি গ্রিনল্যান্ড ঘিরে মার্কিন অবস্থানে অনড় ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাংকার জব্দ, চীনের ক্ষোভে বাজারে দামের চাপ ভেনেজুয়েলায় তেল রপ্তানি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেভরনের গোপন আলোচনা ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা, ওয়াশিংটন–কারাকাস সমন্বয়ের ইঙ্গিত

জেদ্দা: সৌদি আরবের ঐতিহাসিক বন্দরনগরী অন্বেষণ

দীর্ঘপথের বিমানচালক হিসেবে দুই দশকের কর্মজীবনে এমন অনেক জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে, যেখানে অন্যভাবে যাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো কখনোই হতো না। সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের শহর জেদ্দা তার একটি উদাহরণ। প্রায় প্রতি মাসেই এখানে আসা হয়। শহরটির সরু গলিপথ আমাকে বারবার টানে। জেদ্দার পুরোনো শহরটি উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নগরকেন্দ্রগুলোর একটি। একই সঙ্গে এর ইতিহাস তেলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বহু আগের। যাত্রাবিরতির সময় লক্ষ্য করেছি, এই বন্দরনগরীতে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী ধরে মক্কাগামী হাজিদের কাছে পরিচিত এই শহর এখন নতুনভাবে আবিষ্কৃত হচ্ছে।

হোটেলে পৌঁছানো
এক রাতে লন্ডন থেকে রাত দশটায় উড়াল দিই। ভেনিস, এথেন্স আর মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার আকাশ পেরিয়ে নীল নদের ধার ধরে এগিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করে সূর্যোদয়ের সময় জেদ্দায় অবতরণ। সকাল আটটার মধ্যেই ক্রুদের হোটেলে পৌঁছে ঘুমিয়ে পড়ি।
সকাল এগারোটার অ্যালার্মে ঘুম ভাঙে। ঘরের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত লম্বা পর্দা সরিয়ে দিতেই চোখে পড়ে জেদ্দার ধূসর-বাদামি শহরচিত্র। ডেস্কের ওপর থাকা কিবলার চিহ্ন মক্কার দিক নির্দেশ করে। পূর্বদিকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দূরে পাহাড়ঘেরা পবিত্র নগরীর দিকেই তাকিয়ে থাকি কিছুক্ষণ। তারপর গোসল সেরে ফোন, সানস্ক্রিন আর পানির বোতল নিয়ে নিচে নামি।

আরবীয় ধাঁচের কফি
কফির প্রতি ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, পেশাজীবনটাকে যেন কফির চামচ দিয়েই মাপা যায়। আরবি শব্দ কাহওয়া থেকে আসা কফির ঐতিহ্য এখানে বহু পুরোনো। দাল্লা নামের পাত্রে ঢেলে খেজুর বা মিষ্টির সঙ্গে কফি পরিবেশন করা সৌদি ঘরে অতিথি আপ্যায়নের প্রতীক। আধুনিক জেদ্দায় অসংখ্য ক্যাফে সেই প্রাচীন কফি সংস্কৃতিকে নতুন যুগে এনে দিয়েছে।
আমি শুরু করি সারি রোডের ব্রিউ ৯২ ডিগ্রি ক্যাফেতে। ২০১৬ সালে জেদ্দায় প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাফের নাম এসেছে তাদের পছন্দের ব্রিউ করার তাপমাত্রা থেকে। ভেতরে খোলা কংক্রিটের দেয়াল আর তারের নেটওয়ার্ক কাঠের জানালার গ্রিলে নরম হয়ে উঠেছে। দিনের বিশেষ কফি হিসেবে বেছে নিই কোস্টা রিকার হাসিয়েন্ডা কোপেই। দুপুরের স্বাভাবিক ব্যস্ততা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, লন্ডনের বৃষ্টিভেজা বাসস্টপ থেকে রওনা দেওয়ার পর মাত্র চৌদ্দ ঘণ্টাই পেরিয়েছে।

পুরোনো শহর আল বালাদ
দুপুর একটার দিকে পৌঁছি জেদ্দার ঐতিহাসিক কেন্দ্র আল বালাদে। সপ্তম শতকে মহানবী হজরত মুহাম্মদের সাহাবি ও জামাতা উসমান ইবনে আফফান মক্কার বন্দর হিসেবে জেদ্দাকে বেছে নেন। ইসলাম বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে হাজিদের স্বাগত জানানোর দায়িত্ব শহরটিকে খ্যাতি আর সমৃদ্ধি দেয়।
বিশ শতকে তেলের অর্থে শহরটি গাড়িকেন্দ্রিক আধুনিক নগরে রূপ নেয়। ১৯৪৭ সালে ভেঙে ফেলা হয় প্রাচীন প্রাচীর। তবে আল বালাদের সরু ছায়াঘেরা গলি, মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী বাড়ি আর কফিহাউস টিকে থাকে। আজ এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান।
আল ফুরদা ফটকে উবার থেকে নেমেই ঢুকে পড়ি গলির ভিড়ে। সোনার দোকান, পাখির খাঁচা বিক্রির দোকান, পথের ধারে বিড়ালের খাবার রাখার জায়গা আর রোশান নামে পরিচিত কাঠের জানালাওয়ালা উঁচু বাড়ি চোখে পড়ে। এসব জানালা আলো ও বাতাস ঢুকতে দেয়, আবার ব্যক্তিগত পরিসরও রক্ষা করে।

গাছের পাশে সেই বাড়ি
একটি চত্বরে পৌঁছে বসি বেঞ্চে। এখানে একটি বিখ্যাত নিমগাছ রয়েছে, যা বেইত নাসিফ নামের প্রাচীন বাড়িটির পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এখন এটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বাড়িটির সিঁড়ি এমনভাবে তৈরি যে, পণ্যবাহী উটও উঠতে পারত। জেদ্দার একটি পুরোনো গল্প আছে। এক হাজিকে এই বাড়ির মালিক একসময় খাবার দিয়েছিলেন। পরে সেই হাজি কৃতজ্ঞতা জানাতে চিঠি পাঠান ‘গাছের পাশের বাড়ি, জেদ্দা’ ঠিকানায়। চিঠিটি ঠিকই পৌঁছেছিল, কারণ তখন সেচব্যবস্থা না থাকায় ওই গাছের পাশে এমন আর কোনো বাড়ি ছিল না।

খেজুরের বাজার
সহকর্মীদের জন্য খেজুর কিনতে যাই সুক বাব মক্কাহ বাজারে। মক্কা ফটকের নামে পরিচিত এই বাজার দিয়ে সমুদ্রপথে আসা যাত্রীরা আগে শহর ছাড়ত। এখানে সুক্কারি জাতের সোনালি মিষ্টি খেজুর কিনি। আল বালাদ ঘুরে দেখানোর সময় গাইড আয়াত আলশারিফ এই খেজুরের সঙ্গে তাহিনি মাখিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
পুরোনো শহরে আমার সফর শেষ করি মিনাআ ক্যাফেতে। এখানে ফুুল দিয়ে ভরা পানিনো খাই, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জনপ্রিয় প্রাতরাশ। বাইরে বেঞ্চে বসে খেতে খেতে পাশের কারখানার যন্ত্রের শব্দ শুনি, যেখানে রোশান জানালার কাঠের নকশার দক্ষতা আজও রক্ষা করা হচ্ছে। পরে একটি পাঁচ ইঞ্চি চওড়া তারকার মতো কাঠের নকশা কিনি, যেটি পেরেক বা আঠা ছাড়াই তৈরি।

সমুদ্রতটে সন্ধ্যা
বিকেল পাঁচটার দিকে যাই শহরের দীর্ঘ কর্নিশ সড়কে। সম্প্রতি পুনর্গঠিত এই এলাকায় রঙিন সাইকেলপথ, খেজুরগাছ, জেটি, সবুজ এলাকা আর হুইলচেয়ার চলাচলযোগ্য সৈকত রয়েছে। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফাহাদ ওয়াকওয়ে ধরে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রতটে পৌঁছে ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি।
এখানকার দৃশ্য লস অ্যাঞ্জেলেস বা কেপটাউনের সঙ্গে তুলনীয় হলেও পার্থক্য আছে। লোহিত সাগরের ওপর নির্মিত আল রহমান মসজিদ সূর্যাস্তে যেন পানির ওপর ভাসতে থাকে। পথের ধারে রাখা নলাকার বাক্স থেকে নামাজের জন্য মাদুর বের করা যায়।
এখানে সৈকতে বড়, বহু প্রজন্মের পরিবার একসঙ্গে সময় কাটানো স্বাভাবিক। আর গ্রীষ্মে সৈকতজীবন বেশি সক্রিয় হয় রাতের দিকে। সূর্য ডুবে গেলে মাগরিবের আজান ভেসে আসে। পরদিন ভোরে ফ্লাইট থাকায় রাতের খাবারের কথা ভাবি। কাছেই আল বাইক নামের জনপ্রিয় ফাস্টফুড থাকলেও সহকর্মীদের সঙ্গে হোটেলের কাছে একটি মিসরীয় রেস্তোরাঁয় যাই। সেখানে রুটি আর মাংসের স্ট্যু ভাগাভাগি করে খেতে খেতে সারা দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিগগিরই মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রত্যাশা নেতানিয়াহুর, ফোনালাপে জোরদার হলো ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত আলোচনা

জেদ্দা: সৌদি আরবের ঐতিহাসিক বন্দরনগরী অন্বেষণ

১২:০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘপথের বিমানচালক হিসেবে দুই দশকের কর্মজীবনে এমন অনেক জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে, যেখানে অন্যভাবে যাওয়ার সম্ভাবনা হয়তো কখনোই হতো না। সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের শহর জেদ্দা তার একটি উদাহরণ। প্রায় প্রতি মাসেই এখানে আসা হয়। শহরটির সরু গলিপথ আমাকে বারবার টানে। জেদ্দার পুরোনো শহরটি উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নগরকেন্দ্রগুলোর একটি। একই সঙ্গে এর ইতিহাস তেলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বহু আগের। যাত্রাবিরতির সময় লক্ষ্য করেছি, এই বন্দরনগরীতে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী ধরে মক্কাগামী হাজিদের কাছে পরিচিত এই শহর এখন নতুনভাবে আবিষ্কৃত হচ্ছে।

হোটেলে পৌঁছানো
এক রাতে লন্ডন থেকে রাত দশটায় উড়াল দিই। ভেনিস, এথেন্স আর মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার আকাশ পেরিয়ে নীল নদের ধার ধরে এগিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করে সূর্যোদয়ের সময় জেদ্দায় অবতরণ। সকাল আটটার মধ্যেই ক্রুদের হোটেলে পৌঁছে ঘুমিয়ে পড়ি।
সকাল এগারোটার অ্যালার্মে ঘুম ভাঙে। ঘরের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত লম্বা পর্দা সরিয়ে দিতেই চোখে পড়ে জেদ্দার ধূসর-বাদামি শহরচিত্র। ডেস্কের ওপর থাকা কিবলার চিহ্ন মক্কার দিক নির্দেশ করে। পূর্বদিকে প্রায় সত্তর কিলোমিটার দূরে পাহাড়ঘেরা পবিত্র নগরীর দিকেই তাকিয়ে থাকি কিছুক্ষণ। তারপর গোসল সেরে ফোন, সানস্ক্রিন আর পানির বোতল নিয়ে নিচে নামি।

আরবীয় ধাঁচের কফি
কফির প্রতি ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, পেশাজীবনটাকে যেন কফির চামচ দিয়েই মাপা যায়। আরবি শব্দ কাহওয়া থেকে আসা কফির ঐতিহ্য এখানে বহু পুরোনো। দাল্লা নামের পাত্রে ঢেলে খেজুর বা মিষ্টির সঙ্গে কফি পরিবেশন করা সৌদি ঘরে অতিথি আপ্যায়নের প্রতীক। আধুনিক জেদ্দায় অসংখ্য ক্যাফে সেই প্রাচীন কফি সংস্কৃতিকে নতুন যুগে এনে দিয়েছে।
আমি শুরু করি সারি রোডের ব্রিউ ৯২ ডিগ্রি ক্যাফেতে। ২০১৬ সালে জেদ্দায় প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাফের নাম এসেছে তাদের পছন্দের ব্রিউ করার তাপমাত্রা থেকে। ভেতরে খোলা কংক্রিটের দেয়াল আর তারের নেটওয়ার্ক কাঠের জানালার গ্রিলে নরম হয়ে উঠেছে। দিনের বিশেষ কফি হিসেবে বেছে নিই কোস্টা রিকার হাসিয়েন্ডা কোপেই। দুপুরের স্বাভাবিক ব্যস্ততা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, লন্ডনের বৃষ্টিভেজা বাসস্টপ থেকে রওনা দেওয়ার পর মাত্র চৌদ্দ ঘণ্টাই পেরিয়েছে।

পুরোনো শহর আল বালাদ
দুপুর একটার দিকে পৌঁছি জেদ্দার ঐতিহাসিক কেন্দ্র আল বালাদে। সপ্তম শতকে মহানবী হজরত মুহাম্মদের সাহাবি ও জামাতা উসমান ইবনে আফফান মক্কার বন্দর হিসেবে জেদ্দাকে বেছে নেন। ইসলাম বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে হাজিদের স্বাগত জানানোর দায়িত্ব শহরটিকে খ্যাতি আর সমৃদ্ধি দেয়।
বিশ শতকে তেলের অর্থে শহরটি গাড়িকেন্দ্রিক আধুনিক নগরে রূপ নেয়। ১৯৪৭ সালে ভেঙে ফেলা হয় প্রাচীন প্রাচীর। তবে আল বালাদের সরু ছায়াঘেরা গলি, মসজিদ, ঐতিহ্যবাহী বাড়ি আর কফিহাউস টিকে থাকে। আজ এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান।
আল ফুরদা ফটকে উবার থেকে নেমেই ঢুকে পড়ি গলির ভিড়ে। সোনার দোকান, পাখির খাঁচা বিক্রির দোকান, পথের ধারে বিড়ালের খাবার রাখার জায়গা আর রোশান নামে পরিচিত কাঠের জানালাওয়ালা উঁচু বাড়ি চোখে পড়ে। এসব জানালা আলো ও বাতাস ঢুকতে দেয়, আবার ব্যক্তিগত পরিসরও রক্ষা করে।

গাছের পাশে সেই বাড়ি
একটি চত্বরে পৌঁছে বসি বেঞ্চে। এখানে একটি বিখ্যাত নিমগাছ রয়েছে, যা বেইত নাসিফ নামের প্রাচীন বাড়িটির পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এখন এটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। বাড়িটির সিঁড়ি এমনভাবে তৈরি যে, পণ্যবাহী উটও উঠতে পারত। জেদ্দার একটি পুরোনো গল্প আছে। এক হাজিকে এই বাড়ির মালিক একসময় খাবার দিয়েছিলেন। পরে সেই হাজি কৃতজ্ঞতা জানাতে চিঠি পাঠান ‘গাছের পাশের বাড়ি, জেদ্দা’ ঠিকানায়। চিঠিটি ঠিকই পৌঁছেছিল, কারণ তখন সেচব্যবস্থা না থাকায় ওই গাছের পাশে এমন আর কোনো বাড়ি ছিল না।

খেজুরের বাজার
সহকর্মীদের জন্য খেজুর কিনতে যাই সুক বাব মক্কাহ বাজারে। মক্কা ফটকের নামে পরিচিত এই বাজার দিয়ে সমুদ্রপথে আসা যাত্রীরা আগে শহর ছাড়ত। এখানে সুক্কারি জাতের সোনালি মিষ্টি খেজুর কিনি। আল বালাদ ঘুরে দেখানোর সময় গাইড আয়াত আলশারিফ এই খেজুরের সঙ্গে তাহিনি মাখিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
পুরোনো শহরে আমার সফর শেষ করি মিনাআ ক্যাফেতে। এখানে ফুুল দিয়ে ভরা পানিনো খাই, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জনপ্রিয় প্রাতরাশ। বাইরে বেঞ্চে বসে খেতে খেতে পাশের কারখানার যন্ত্রের শব্দ শুনি, যেখানে রোশান জানালার কাঠের নকশার দক্ষতা আজও রক্ষা করা হচ্ছে। পরে একটি পাঁচ ইঞ্চি চওড়া তারকার মতো কাঠের নকশা কিনি, যেটি পেরেক বা আঠা ছাড়াই তৈরি।

সমুদ্রতটে সন্ধ্যা
বিকেল পাঁচটার দিকে যাই শহরের দীর্ঘ কর্নিশ সড়কে। সম্প্রতি পুনর্গঠিত এই এলাকায় রঙিন সাইকেলপথ, খেজুরগাছ, জেটি, সবুজ এলাকা আর হুইলচেয়ার চলাচলযোগ্য সৈকত রয়েছে। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফাহাদ ওয়াকওয়ে ধরে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রতটে পৌঁছে ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি।
এখানকার দৃশ্য লস অ্যাঞ্জেলেস বা কেপটাউনের সঙ্গে তুলনীয় হলেও পার্থক্য আছে। লোহিত সাগরের ওপর নির্মিত আল রহমান মসজিদ সূর্যাস্তে যেন পানির ওপর ভাসতে থাকে। পথের ধারে রাখা নলাকার বাক্স থেকে নামাজের জন্য মাদুর বের করা যায়।
এখানে সৈকতে বড়, বহু প্রজন্মের পরিবার একসঙ্গে সময় কাটানো স্বাভাবিক। আর গ্রীষ্মে সৈকতজীবন বেশি সক্রিয় হয় রাতের দিকে। সূর্য ডুবে গেলে মাগরিবের আজান ভেসে আসে। পরদিন ভোরে ফ্লাইট থাকায় রাতের খাবারের কথা ভাবি। কাছেই আল বাইক নামের জনপ্রিয় ফাস্টফুড থাকলেও সহকর্মীদের সঙ্গে হোটেলের কাছে একটি মিসরীয় রেস্তোরাঁয় যাই। সেখানে রুটি আর মাংসের স্ট্যু ভাগাভাগি করে খেতে খেতে সারা দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করি।