১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯ রাজশাহীতে গণপিটুনিতে নিহত এক, আহত ৭ ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের বিস্তার রোধ করতে হবে ইরানে হামলার আগে মোদির ইসরায়েল সফর নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা ইরানের পর ট্রাম্প, তেল ও তাইওয়ান নিয়ে কঠিন হিসাবের মুখে চীন পাকিস্তানের হামলার লক্ষ্য বাগরাম ঘাঁটি, দাবি আফগানিস্তানের

সদস্যদের টানাপোড়েনে উৎপাদন অপরিবর্তিতই রাখল ওপেক প্লাস

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আর সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তেল উৎপাদনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি ওপেক প্লাস। রোববার অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বৈঠকে জোটের আট সদস্য দেশ আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ঘোষণা দেয়। বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে বৈঠক-পরবর্তী ইঙ্গিত মিলেছে।

উৎপাদন নীতিতে স্থির অবস্থান
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওপেক প্লাসের আট সদস্য দেশ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আগের সিদ্ধান্তই পুনর্ব্যক্ত করেছে। উত্তর গোলার্ধে শীতকালীন মৌসুমে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উৎপাদন না বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত ছিল। রোববারের অনলাইন বৈঠকেও সেই নীতির বাইরে কোনো আলোচনা হয়নি।

Image

দামের বড় পতনের চাপ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে তেলের দাম প্রায় এক পঞ্চমাংশের কাছাকাছি পড়ে যায়, যা মহামারির পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে। অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা এবং দুর্বল চাহিদাই এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাস বাজারে হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধীরে চলার কৌশল বেছে নিয়েছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ছায়া
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের বাজারে সরবরাহ আর চাহিদার হিসাবের চেয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবই বেশি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইয়েমেন ঘিরে উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ওপেক প্লাসের ভেতরে চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট, যা জোটের আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Image

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে সংশয়
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও সেখানে তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা কম। বড় বিনিয়োগ আর সময় ছাড়া দেশটির উৎপাদন পুরোনো অবস্থায় ফেরানো কঠিন হবে।

আগামী বৈঠকের দৃষ্টি
ওপেক প্লাস জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে। ততদিন পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা বর্তমান নীতিতেই এগোবে। জোটের ভেতরের মতপার্থক্য সত্ত্বেও বাজার ব্যবস্থাপনাকে প্রাধান্য দেওয়ার ঐতিহ্য এবারও বজায় রাখার চেষ্টা করছে ওপেক প্লাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা

সদস্যদের টানাপোড়েনে উৎপাদন অপরিবর্তিতই রাখল ওপেক প্লাস

১২:৩২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আর সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তেল উৎপাদনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি ওপেক প্লাস। রোববার অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বৈঠকে জোটের আট সদস্য দেশ আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ঘোষণা দেয়। বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে বৈঠক-পরবর্তী ইঙ্গিত মিলেছে।

উৎপাদন নীতিতে স্থির অবস্থান
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওপেক প্লাসের আট সদস্য দেশ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আগের সিদ্ধান্তই পুনর্ব্যক্ত করেছে। উত্তর গোলার্ধে শীতকালীন মৌসুমে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত উৎপাদন না বাড়ানোর বিষয়ে তারা একমত ছিল। রোববারের অনলাইন বৈঠকেও সেই নীতির বাইরে কোনো আলোচনা হয়নি।

Image

দামের বড় পতনের চাপ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে তেলের দাম প্রায় এক পঞ্চমাংশের কাছাকাছি পড়ে যায়, যা মহামারির পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে। অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা এবং দুর্বল চাহিদাই এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাস বাজারে হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধীরে চলার কৌশল বেছে নিয়েছে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ছায়া
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেলের বাজারে সরবরাহ আর চাহিদার হিসাবের চেয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবই বেশি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইয়েমেন ঘিরে উত্তেজনা, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ওপেক প্লাসের ভেতরে চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট, যা জোটের আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Image

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে সংশয়
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও সেখানে তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা কম। বড় বিনিয়োগ আর সময় ছাড়া দেশটির উৎপাদন পুরোনো অবস্থায় ফেরানো কঠিন হবে।

আগামী বৈঠকের দৃষ্টি
ওপেক প্লাস জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে। ততদিন পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা বর্তমান নীতিতেই এগোবে। জোটের ভেতরের মতপার্থক্য সত্ত্বেও বাজার ব্যবস্থাপনাকে প্রাধান্য দেওয়ার ঐতিহ্য এবারও বজায় রাখার চেষ্টা করছে ওপেক প্লাস।