বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে মার্কিন ভিসা নীতিতে সাম্প্রতিক যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে হতাশা থাকলেও একে অস্বাভাবিক মনে করছেন না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তাঁর মতে, অভিবাসনসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিক্রিয়া
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়। যেসব দেশের অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের একটি তালিকার মধ্যেই বাংলাদেশ পড়েছে। তাঁর ভাষায়, সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক এবং এতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এটি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।
দীর্ঘদিনের নীতিগত জটিলতা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অভিবাসন নিয়ে নীতিগত যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো বহুদিন ধরেই চলে আসছে। তবে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রশাসনের নতুন তালিকা
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আরও ২৫টি দেশকে একটি বিশেষ তালিকায় যুক্ত করেছে, যেখানে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। এই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসার আবেদন করতে হলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দেওয়ার শর্ত থাকতে পারে।
জামানত ও ভিসা প্রক্রিয়ার বিস্তারিত
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যেসব নাগরিক বি-১ বা বি-২ ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন, তাঁদের ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের জামানত নির্ধারণ করা হতে পারে। এই জামানতের অঙ্ক নির্ধারিত হবে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়েই।
জামানতের শর্ত মানতে আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পে ডট গভের মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে সম্মত হতে হবে।
কার্যকারিতা ও প্রভাব
নতুন যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য এই নীতি কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, তালিকাটিতে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আধিক্য রয়েছে এবং মোট দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮-এ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















