ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ক্ষমতা সীমিত করতে বৃহস্পতিবার ভোটে যাচ্ছে মার্কিন সিনেট। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলায় ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক অভিযান চালাতে না দেওয়ার প্রস্তাবই এ ভোটের মূল বিষয়। প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, ফলাফল খুব কাছাকাছি হতে পারে এবং শেষ মুহূর্তে চমকও দেখা যেতে পারে।
মাদুরো গ্রেপ্তারের পরেই ভোটের উদ্যোগ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নাটকীয় অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলে নৌযানে হামলাসহ দেশটির ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে একের পর এক যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব উঠলেও আগের সবকটিই আটকে দেয় রিপাবলিকানরা।

অল্প ব্যবধানে আগের প্রস্তাব নাকচ
এর আগে নভেম্বরে হওয়া এক ভোটে মাত্র দুই ভোটের ব্যবধানে একই ধরনের প্রস্তাব পাস হয়নি। তখন ট্রাম্পের দলের দুই সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন বা সরাসরি ভূখণ্ডে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু মাদুরো গ্রেপ্তারের পর ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশ্যে এবং কিছু রিপাবলিকান নীরবে অভিযোগ তুলেছেন, কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
রিপাবলিকান শিবিরেই ভাঙন?
এই প্রস্তাবের সহউদ্যোক্তা কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল জানান, আগেরবার যারা বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও এখন ভাবনার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্তত দুইজন রিপাবলিকান সিনেটর এবার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আরও কয়েকজন প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। তার পাশে থাকা ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইনও একই সুরে কথা বলেন। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা তিপ্পান্ন এবং ডেমোক্র্যাটদের সাতচল্লিশ।

পাস হলেও সামনে বড় বাধা
সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হলে যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি বড় সাফল্য হবে। তবে আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও এটি পাস হতে হবে এবং এরপর প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ভেটো টপকাতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। আইনপ্রণেতারা স্বীকার করছেন, পথটি সহজ নয়। তবু অনেক রিপাবলিকান ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সরকার পরিবর্তনের অভিযানের আশঙ্কায় আছেন।
সামরিক বাজেট ও বিতর্ক
এর মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট এক ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান। টিম কেইন স্মরণ করিয়ে দেন, মাসের পর মাস ধরে ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা চালানো হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটি কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ভাষাও ব্যবহার করেছে। তার ভাষায়, এটি কোনো সীমিত বা কেবল গ্রেপ্তারের অভিযান নয়।

সাংবিধানিক প্রশ্নে দ্বন্দ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। তবে প্রস্তাবের বিরোধীরা বলছেন, মাদুরোকে আটক করা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ, সরাসরি যুদ্ধ নয়। তাদের যুক্তি, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচার চলবে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রাখেন।
এই ভোটের দিকে তাকিয়ে এখন পুরো ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি কোন পথে যাবে, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে আজকের সিদ্ধান্তেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















