০৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, যাত্রীদের বাদ দিয়ে সিদ্ধান্তের অভিযোগ ধানমন্ডি লেক থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বাড়ছে উন্নত পোশাকে ঘাটতি রাশিয়ার হুমকিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় লিথুয়ানিয়ার নজিরবিহীন প্রস্তুতি হরমুজে তেল পরিবহনের নতুন কৌশল, খরচ বাড়ছে বহুগুণ প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বই ঘিরে রাজপরিবারে ফের উত্তেজনা গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ, আর্কটিকের দায়িত্ব নেবে ন্যাটো ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষের দাবি দুই রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীর, ট্রাম্পের অবস্থান থেকে দূরে সরে বার্তা পাইপলাইন হামলার পর উপসাগরীয় পথে সৌদির তেল রপ্তানি বাড়ছে গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুই সামরিক ঘাঁটি গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তি আজ

ভারত–চীন বাণিজ্যে নতুন মোড়: সরকারি দরপত্রে চীনা সংস্থার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে দিল্লি

পাঁচ বছর আগে সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে যে কঠোরতা জারি হয়েছিল, তা থেকে সরে এসে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি দরপত্রে চীনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমার আবহে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

২০২০ সালে আরোপিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী চীনা দরদাতাদের একটি সরকারি কমিটিতে নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অনুমোদন নিতে হতো। এই ব্যবস্থায় কার্যত চীনা সংস্থাগুলো ভারতের বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। সংশ্লিষ্ট মহলের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মোট মূল্য ছিল কয়েক লক্ষ কোটি রুপির সমান।

নতুন পরিকল্পনায় নিবন্ধন বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বিধিনিষেধের প্রভাব ও প্রকল্পে ধীরগতি
বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর এর প্রভাব দ্রুত স্পষ্ট হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই একটি বড় রেল প্রস্তুত প্রকল্প থেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত চীনা সংস্থা বাদ পড়ে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রকল্পে যন্ত্রাংশের ঘাটতি ও কাজের বিলম্বের কথা তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানায়। সাবেক মন্ত্রিসভার সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করেছে।

একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিধিনিষেধের পরের বছর চীনা দরদাতাদের হাতে নতুন প্রকল্পের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাধা পড়ায় আগামী দশকে তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানোর ভারতের পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে।

বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনার খবরে দেশীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো খাতের শেয়ারে চাপ দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, চীনা সংস্থার প্রত্যাবর্তনে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশীয় সংস্থার দরপত্র জয়ের সম্ভাবনায়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নীতি পরিবর্তন
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর শীর্ষ পর্যায়ের সফর, সরাসরি উড়ান পুনরায় চালু এবং চীনা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ভিসা অনুমোদনে জট কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণও দিল্লির অবস্থান পুনর্বিবেচনায় ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

তবে সতর্কতার জায়গা এখনো রয়েছে। চীনা বিনিয়োগ সংক্রান্ত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। অর্থাৎ সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণ সহজ হলেও বিনিয়োগ প্রশ্নে দিল্লির অবস্থান এখনই পুরোপুরি বদলাচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, যাত্রীদের বাদ দিয়ে সিদ্ধান্তের অভিযোগ

ভারত–চীন বাণিজ্যে নতুন মোড়: সরকারি দরপত্রে চীনা সংস্থার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে দিল্লি

০৮:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

পাঁচ বছর আগে সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে যে কঠোরতা জারি হয়েছিল, তা থেকে সরে এসে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি দরপত্রে চীনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমার আবহে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

২০২০ সালে আরোপিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী চীনা দরদাতাদের একটি সরকারি কমিটিতে নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অনুমোদন নিতে হতো। এই ব্যবস্থায় কার্যত চীনা সংস্থাগুলো ভারতের বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। সংশ্লিষ্ট মহলের হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মোট মূল্য ছিল কয়েক লক্ষ কোটি রুপির সমান।

নতুন পরিকল্পনায় নিবন্ধন বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বিধিনিষেধের প্রভাব ও প্রকল্পে ধীরগতি
বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর এর প্রভাব দ্রুত স্পষ্ট হয়। কয়েক মাসের মধ্যেই একটি বড় রেল প্রস্তুত প্রকল্প থেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত চীনা সংস্থা বাদ পড়ে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রকল্পে যন্ত্রাংশের ঘাটতি ও কাজের বিলম্বের কথা তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধ জানায়। সাবেক মন্ত্রিসভার সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করেছে।

একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিধিনিষেধের পরের বছর চীনা দরদাতাদের হাতে নতুন প্রকল্পের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাধা পড়ায় আগামী দশকে তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানোর ভারতের পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছে।

বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনার খবরে দেশীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো খাতের শেয়ারে চাপ দেখা যায়। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, চীনা সংস্থার প্রত্যাবর্তনে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশীয় সংস্থার দরপত্র জয়ের সম্ভাবনায়।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নীতি পরিবর্তন
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে গেছে। দীর্ঘ বিরতির পর শীর্ষ পর্যায়ের সফর, সরাসরি উড়ান পুনরায় চালু এবং চীনা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ভিসা অনুমোদনে জট কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমীকরণও দিল্লির অবস্থান পুনর্বিবেচনায় ভূমিকা রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

তবে সতর্কতার জায়গা এখনো রয়েছে। চীনা বিনিয়োগ সংক্রান্ত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। অর্থাৎ সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণ সহজ হলেও বিনিয়োগ প্রশ্নে দিল্লির অবস্থান এখনই পুরোপুরি বদলাচ্ছে না।