০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

উত্তরের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন ও জীবিকা

দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় জনজীবন, কৃষি ও স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে, বিশেষ করে রাতের শেষভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত। তবে সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

চলমান শৈত্যপ্রবাহ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে, যেখানে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজধানী ঢাকায় এদিন তাপমাত্রা ছিল তুলনামূলক বেশি, ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপও পর্যবেক্ষণ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় এটি নিম্নচাপ থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই সিস্টেমটি শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের অক্ষ বিস্তৃত রয়েছে, পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে।

লালমনিরহাটে তীব্র শীত

লালমনিরহাট থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহে জনদুর্ভোগ

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় সড়ক ও খোলা মাঠ ঢেকে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গতি কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। কাজের সুযোগ না থাকায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেক দরিদ্র পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে।

শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

শৈত্যপ্রবাহ কৃষিক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজিক্ষেত রক্ষায় কৃষকরা বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো না থাকায় ফসলের রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

উত্তরের জেলাগুলোতে শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন ও জীবিকা

০৮:১৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় জনজীবন, কৃষি ও স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে, বিশেষ করে রাতের শেষভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত। তবে সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

চলমান শৈত্যপ্রবাহ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে, যেখানে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজধানী ঢাকায় এদিন তাপমাত্রা ছিল তুলনামূলক বেশি, ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপও পর্যবেক্ষণ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় এটি নিম্নচাপ থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয় এবং পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই সিস্টেমটি শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের অক্ষ বিস্তৃত রয়েছে, পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বিস্তার লাভ করেছে।

লালমনিরহাটে তীব্র শীত

লালমনিরহাট থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, জেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহে জনদুর্ভোগ

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় সড়ক ও খোলা মাঠ ঢেকে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গতি কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। কাজের সুযোগ না থাকায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে অনেক দরিদ্র পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে।

শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

শৈত্যপ্রবাহ কৃষিক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজিক্ষেত রক্ষায় কৃষকরা বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো না থাকায় ফসলের রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।