ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কের বৈধতা নিয়ে রায়ের অপেক্ষায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। আদালত যদি শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে, তাহলে ইতিমধ্যে পরিশোধ করা বিপুল অর্থ ফেরত পেতে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক লড়াই শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা।
আদালতের রায় ঘিরে উদ্বেগ
নভেম্বরের শুনানিতে বিচারপতিদের মন্তব্যের পর থেকেই ধারণা জোরালো হয়েছে যে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্প যে শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা আইনসম্মত নাও হতে পারে। রায় এলে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরতের প্রশ্ন উঠবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ফেরত পাওয়া সহজ হবে না
অনেক কোম্পানির নির্বাহী মনে করছেন, আদালত রায় দিলেও অর্থ ফেরত পেতে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষায়, সরকার সাধারণত সহজে অর্থ ফেরত দিতে আগ্রহী নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থানও ফেরত প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে।
শুল্ক আদায়ে বিপুল অঙ্ক
কাস্টমস বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্পের শুল্ক থেকে কয়েক মাসেই শত শত বিলিয়ন ডলার আদায় হয়েছে। বিশেষ করে চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির ওপর এই শুল্কের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই অর্থ ফেরত পাওয়া ব্যবসার টিকে থাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় আশার আলো
সম্প্রতি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুল্ক ফেরত পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় দেওয়া হবে। এতে কাগজপত্রের জট কমবে এবং প্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত হতে পারে। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় ফেরতের নিশ্চয়তা নয়।
আগাম আইনি পদক্ষেপ
কিছু বড় প্রতিষ্ঠান আগাম মামলা করে রেখেছে, যাতে ভবিষ্যতে ফেরত পাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকে। তাদের যুক্তি, আদালত শুল্ক অবৈধ বললেও আলাদা আইনি লড়াই ছাড়া অর্থ ফেরত নিশ্চিত নয়।
দাবির বাজার গড়ে উঠছে
এদিকে ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান শুল্ক ফেরতের দাবির অধিকার কম দামে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। দ্রুত নগদ পাওয়ার লোভে তারা ভবিষ্যতের অনিশ্চিত ফেরতের পথ ছাড়ছে।
দীর্ঘসূত্রতার আশঙ্কা
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেরত পেতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রমাণ দিতে হবে যে তারা সত্যিই ওই শুল্ক পরিশোধ করেছে। সঠিক নথি ও দ্রুত আবেদনই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবুও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















