০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ধীরগতির বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগে সুনামগঞ্জের হাওর কৃষকেরা ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হয়নি: মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বললেন বিসিবি পরিচালক, ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তেঁতুলিয়ায় শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা নেমেছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে পাস করে তাদের অর্থাৎ হিন্দুদেরকে দেখবার অনুরোধ—রুমিন ফারহানাকে মালা ও অর্থ উপহার দিলেন বিমলা সরকার জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম: প্রসিকিউশন মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, আহত পনেরো হাওর এক্সপ্রেসে ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, দুই যুবক গ্রেপ্তার ওআইসি বৈঠকের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দ্বিতীয় মেয়াদের ট্রাম্প: দেশে সীমাবদ্ধ, বিদেশে প্রায় অবারিত

এক টুকরো হাসি নিয়ে গিয়েছিল রোহান, ফিরল শুধু নিস্তব্ধতা

সকালের আলো তখনো পুরোপুরি তীব্র হয়নি। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে সাত বছরের মোস্তফা রোহান ঢুকেছিল চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চোখে ছিল কৌতূহল, ঠোঁটে ছোট্ট এক টুকরো হাসি। খতনা—তার কাছে সেটি ছিল কেবল কিছু সময়ের অস্বস্তি, তারপর বাড়ি ফেরা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাবার সঙ্গে ছবি তুলেছিল সে, হাসতে হাসতে। কেউ কল্পনাও করেনি, সেই হাসিটাই হয়ে থাকবে শেষ দেখা।

সময় গড়াতে থাকে। দুপুর পেরিয়ে বিকেল, তারপর সন্ধ্যা। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষায় থাকা বাবা–মায়ের বুকের ভেতর অজানা শঙ্কা জমতে শুরু করে। হঠাৎ করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অবস্থা ভালো নয়, তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। তখনও পরিবার বিশ্বাস করতে চেয়েছিল—সব ঠিক হয়ে যাবে, তাদের রোহান ফিরে আসবে।

কিন্তু চমেক হাসপাতালের সেই রাত ছিল নিষ্ঠুর। চিকিৎসা চললেও নিভে যায় রোহানের জীবন। কিছুক্ষণ আগেও যে শিশুটি বাবাকে বলেছিল, “আব্বু, আমার খুব খিদা লেগেছে,” সে তখন নিথর। শব্দহীন হয়ে যায় হাসপাতালের করিডোর, অথচ ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে এক বাবা–মায়ের সমস্ত পৃথিবী।

রোহানের বাবা আবু মুসা বলেন, অপারেশনের আগে তার ছেলে ছিল সম্পূর্ণ সুস্থ। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে নিয়ম অনুযায়ী সব করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারে মারাত্মক ত্রুটির কারণেই এই মৃত্যু। তার প্রশ্ন—খতনার মতো একটি পরিচিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে কীভাবে একটি শিশুর প্রাণ চলে যায়?

মা সুমি আক্তারের চোখে এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। তার কণ্ঠে চাপা কান্না আর ক্ষোভ। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা আর অবহেলাই তার সন্তানের জীবন কেড়ে নিয়েছে। একটি শিশুর জীবন কি এতটাই তুচ্ছ, যে সামান্য ভুলেই তা হারিয়ে যাবে?

চিকিৎসা নথিতে বলা হয়েছিল, রোহানের প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত একটি ত্রুটি রয়েছে। খতনার সঙ্গে একটি ছোট সার্জারির প্রয়োজন ছিল এবং সেখানে জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারের কথা উল্লেখ ছিল। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ মোড়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু তদন্তের অপেক্ষা করতে করতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আর কোনো প্রতিবেদনে পূরণ হওয়ার নয়। কারণ একটি শিশুর হাসি আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

হাসপাতালের বিছানায় তোলা রোহানের সেই হাসিমুখের ছবিটি আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি চোখে জল এনে দেয় ছবিটি। যেন নীরবে বলে যায়—একটু অবহেলা, একটু ভুল, আর হারিয়ে যায় একটি জীবন, নিভে যায় একটি পরিবারের সব আলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধীরগতির বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগে সুনামগঞ্জের হাওর কৃষকেরা

এক টুকরো হাসি নিয়ে গিয়েছিল রোহান, ফিরল শুধু নিস্তব্ধতা

০৮:২৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

সকালের আলো তখনো পুরোপুরি তীব্র হয়নি। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে সাত বছরের মোস্তফা রোহান ঢুকেছিল চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। চোখে ছিল কৌতূহল, ঠোঁটে ছোট্ট এক টুকরো হাসি। খতনা—তার কাছে সেটি ছিল কেবল কিছু সময়ের অস্বস্তি, তারপর বাড়ি ফেরা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাবার সঙ্গে ছবি তুলেছিল সে, হাসতে হাসতে। কেউ কল্পনাও করেনি, সেই হাসিটাই হয়ে থাকবে শেষ দেখা।

সময় গড়াতে থাকে। দুপুর পেরিয়ে বিকেল, তারপর সন্ধ্যা। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষায় থাকা বাবা–মায়ের বুকের ভেতর অজানা শঙ্কা জমতে শুরু করে। হঠাৎ করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অবস্থা ভালো নয়, তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। তখনও পরিবার বিশ্বাস করতে চেয়েছিল—সব ঠিক হয়ে যাবে, তাদের রোহান ফিরে আসবে।

কিন্তু চমেক হাসপাতালের সেই রাত ছিল নিষ্ঠুর। চিকিৎসা চললেও নিভে যায় রোহানের জীবন। কিছুক্ষণ আগেও যে শিশুটি বাবাকে বলেছিল, “আব্বু, আমার খুব খিদা লেগেছে,” সে তখন নিথর। শব্দহীন হয়ে যায় হাসপাতালের করিডোর, অথচ ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে এক বাবা–মায়ের সমস্ত পৃথিবী।

রোহানের বাবা আবু মুসা বলেন, অপারেশনের আগে তার ছেলে ছিল সম্পূর্ণ সুস্থ। চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে নিয়ম অনুযায়ী সব করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারে মারাত্মক ত্রুটির কারণেই এই মৃত্যু। তার প্রশ্ন—খতনার মতো একটি পরিচিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে কীভাবে একটি শিশুর প্রাণ চলে যায়?

মা সুমি আক্তারের চোখে এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়। তার কণ্ঠে চাপা কান্না আর ক্ষোভ। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসা আর অবহেলাই তার সন্তানের জীবন কেড়ে নিয়েছে। একটি শিশুর জীবন কি এতটাই তুচ্ছ, যে সামান্য ভুলেই তা হারিয়ে যাবে?

চিকিৎসা নথিতে বলা হয়েছিল, রোহানের প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত একটি ত্রুটি রয়েছে। খতনার সঙ্গে একটি ছোট সার্জারির প্রয়োজন ছিল এবং সেখানে জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহারের কথা উল্লেখ ছিল। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ মোড়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু তদন্তের অপেক্ষা করতে করতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আর কোনো প্রতিবেদনে পূরণ হওয়ার নয়। কারণ একটি শিশুর হাসি আর কোনো দিন ফিরে আসবে না।

হাসপাতালের বিছানায় তোলা রোহানের সেই হাসিমুখের ছবিটি আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি চোখে জল এনে দেয় ছবিটি। যেন নীরবে বলে যায়—একটু অবহেলা, একটু ভুল, আর হারিয়ে যায় একটি জীবন, নিভে যায় একটি পরিবারের সব আলো।