০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ধীরগতির বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগে সুনামগঞ্জের হাওর কৃষকেরা ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হয়নি: মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বললেন বিসিবি পরিচালক, ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তেঁতুলিয়ায় শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা নেমেছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে পাস করে তাদের অর্থাৎ হিন্দুদেরকে দেখবার অনুরোধ—রুমিন ফারহানাকে মালা ও অর্থ উপহার দিলেন বিমলা সরকার জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম: প্রসিকিউশন মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, আহত পনেরো হাওর এক্সপ্রেসে ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, দুই যুবক গ্রেপ্তার ওআইসি বৈঠকের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দ্বিতীয় মেয়াদের ট্রাম্প: দেশে সীমাবদ্ধ, বিদেশে প্রায় অবারিত

মিনেসোটায় আইসির গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত, তীব্র উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র

র্মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নারীর মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার নিজ গাড়িতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাতত্রিশ বছর বয়সী রেনে নিকোল গুড। তিনি একজন মা এবং মিনেসোটার বাসিন্দা। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও সরকারি অবস্থান
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযানের অংশ হিসেবে মিনেসোটায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার এক কর্মকর্তা গুলিবর্ষণ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র সচিব এই ঘটনাকে ঘরোয়া সন্ত্রাস বলে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, কর্মকর্তা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করেছেন।

রাজ্য সরকারের ভিন্ন ব্যাখ্যা
মিনেসোটার গভর্নর ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁদের ভাষ্য, অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন করাই এই প্রাণঘাতী ঘটনার জন্য দায়ী। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে সংঘটিত সহিংসতা, যার দায় এড়ানো যায় না।

ভিডিও ও প্রত্যক্ষ চিত্র
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা সশস্ত্র কর্মকর্তারা একটি গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। গাড়িটি পিছু হটে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। ভিডিওতে কর্মকর্তার আহত হওয়ার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন নেই, যদিও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিক্ষোভ ও জনরোষ
এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। নিউইয়র্ক, শিকাগো, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন সংস্থার অভিযানের বিরোধিতা করেন এবং নিহত নারীর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

আইনি জটিলতা ও তদন্ত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব পালনের সময় কাজ করলে ফেডারেল কর্মকর্তারা সাধারণত রাজ্য পর্যায়ে বিচারের মুখোমুখি হন না। আইন অনুযায়ী, জীবননাশের আশঙ্কা যুক্তিসংগত হলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফলে এই ঘটনায় ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা হওয়া কঠিন হতে পারে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ আলাদা তদন্ত শুরু করেছে।

নিহতের পরিচয় ও পরিবারের কথা
মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিল নিহত নারীকে রেনে নিকোল গুড হিসেবে শনাক্ত করেছে। তিনি ছয় বছর বয়সী এক সন্তানের মা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও স্নেহশীল মানুষ ছিলেন এবং কোনো সংঘাতে জড়ানোর মানসিকতা তাঁর ছিল না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধীরগতির বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগে সুনামগঞ্জের হাওর কৃষকেরা

মিনেসোটায় আইসির গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহত, তীব্র উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র

০৮:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

র্মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নারীর মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার নিজ গাড়িতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাতত্রিশ বছর বয়সী রেনে নিকোল গুড। তিনি একজন মা এবং মিনেসোটার বাসিন্দা। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও সরকারি অবস্থান
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযানের অংশ হিসেবে মিনেসোটায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার এক কর্মকর্তা গুলিবর্ষণ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র সচিব এই ঘটনাকে ঘরোয়া সন্ত্রাস বলে আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, কর্মকর্তা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করেছেন।

রাজ্য সরকারের ভিন্ন ব্যাখ্যা
মিনেসোটার গভর্নর ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁদের ভাষ্য, অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন করাই এই প্রাণঘাতী ঘটনার জন্য দায়ী। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে সংঘটিত সহিংসতা, যার দায় এড়ানো যায় না।

ভিডিও ও প্রত্যক্ষ চিত্র
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা সশস্ত্র কর্মকর্তারা একটি গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। গাড়িটি পিছু হটে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। ভিডিওতে কর্মকর্তার আহত হওয়ার কোনো স্পষ্ট চিহ্ন নেই, যদিও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিক্ষোভ ও জনরোষ
এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। নিউইয়র্ক, শিকাগো, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন সংস্থার অভিযানের বিরোধিতা করেন এবং নিহত নারীর জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান।

আইনি জটিলতা ও তদন্ত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব পালনের সময় কাজ করলে ফেডারেল কর্মকর্তারা সাধারণত রাজ্য পর্যায়ে বিচারের মুখোমুখি হন না। আইন অনুযায়ী, জীবননাশের আশঙ্কা যুক্তিসংগত হলে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। ফলে এই ঘটনায় ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা হওয়া কঠিন হতে পারে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ আলাদা তদন্ত শুরু করেছে।

নিহতের পরিচয় ও পরিবারের কথা
মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিল নিহত নারীকে রেনে নিকোল গুড হিসেবে শনাক্ত করেছে। তিনি ছয় বছর বয়সী এক সন্তানের মা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও স্নেহশীল মানুষ ছিলেন এবং কোনো সংঘাতে জড়ানোর মানসিকতা তাঁর ছিল না।