বাংলাদেশ ও নেপালের পাসপোর্টধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসায় নতুন জামানত আরোপের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সর্বোচ্চ এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা সমপরিমাণ অর্থ সাময়িকভাবে জমা রাখার শর্তকে অনেকেই দেখছেন বাড়তি ব্যয় ও অনিশ্চয়তার উৎস হিসেবে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রেমুখী যাতায়াত নিরুৎসাহিত করবে এবং নীরবে বিকল্প বাজারের দিকে ঝোঁক বাড়াবে।
কী এই নতুন শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও নেপালের নাগরিকরা স্বল্পমেয়াদি ব্যবসা ও ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের জামানত দিতে বাধ্য হবেন। ভিসার শর্ত মানা হলে অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নেই। আগামী একুশ জানুয়ারি থেকে নতুন তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই বিধান কার্যকর হবে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের চাপ
বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, সীমিত নগদ প্রবাহে চলা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়বে। বিদেশে ক্রেতার সঙ্গে বৈঠক, বাণিজ্য মেলা ও নতুন বাজার খোঁজার জন্য নিয়মিত যাতায়াতই অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি। সাবেক বাণিজ্য সংগঠনের এক নেতা বলছেন, সমস্যাটি কেবল সামর্থ্যের নয়, তরল অর্থ আটকে যাওয়ার। দৈনন্দিন ব্যয়, বেতন ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তৈরি পোশাক খাতের সময় সংকেত
দেশের তৈরি পোশাক খাত বাজার বৈচিত্র্যের পথে হাঁটছে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এলো। ইউরোপে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র উচ্চ শুল্কের মধ্যেও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক কারখানা যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শনী ও বিপণনে জোর দিচ্ছিল। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, ভিসা পাওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে জামানত নতুন বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পরিকল্পনার ঝুঁকি বাড়ছে
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিবেচনায় জামানতের অঙ্ক নির্ধারণ হওয়ায় আগাম বাজেট করা কঠিন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ফেরত পেতে দেরি হলে নগদ প্রবাহ আরও চাপে পড়তে পারে। স্বল্পমেয়াদি, ঘনঘন সফরের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানিকারকদের জন্য এই অনিশ্চয়তা ভ্রমণ পরিকল্পনায় শীতলতা আনছে।
বিকল্প বাজারে নজর
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এখনো প্রধান বাজার হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল ও সৌদি আরবের মতো গন্তব্যে রপ্তানি অংশ বাড়ছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আকর্ষণীয় থাকলেও বিধিনিষেধ ও ভিসা অনিশ্চয়তা উদ্যোক্তাদের বিকল্প পথ খুঁজতে উৎসাহিত করবে।
ভিন্নমত ও সরকারের অবস্থান
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায়িক মহল মনে করছে, নীতিটি মূলত ভিসার শর্ত মানা নিশ্চিত করতে। যথাযথ রেকর্ড থাকা প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলেও তাদের দাবি। তবে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক চলাচলের সহজতা অংশীদারিত্ব গড়তে জরুরি—এ কথাও স্বীকার করছেন তারা। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি জটিল এবং আনুষ্ঠানিক অবস্থান চূড়ান্ত করতে পর্যালোচনা চলছে।
Sarakhon Report 



















