০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ধীরগতির বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগে সুনামগঞ্জের হাওর কৃষকেরা ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হয়নি: মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বললেন বিসিবি পরিচালক, ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তেঁতুলিয়ায় শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা নেমেছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রিতে পাস করে তাদের অর্থাৎ হিন্দুদেরকে দেখবার অনুরোধ—রুমিন ফারহানাকে মালা ও অর্থ উপহার দিলেন বিমলা সরকার জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য দেবেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম: প্রসিকিউশন মীরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, আহত পনেরো হাওর এক্সপ্রেসে ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, দুই যুবক গ্রেপ্তার ওআইসি বৈঠকের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দ্বিতীয় মেয়াদের ট্রাম্প: দেশে সীমাবদ্ধ, বিদেশে প্রায় অবারিত

ভেনেজুয়েলার তেলে চীনের ছায়া, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

ভেনিজুয়েলার তেল ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। দেশটির বিপুল তেল সম্পদ পুনর্গঠনের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে—এমন বার্তা বারবার দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই অবস্থান এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন চীন।

বিপুল মজুদ, কিন্তু উৎপাদনে ধস

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা। মোট বৈশ্বিক মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখানেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও রাজনৈতিক সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে দিনে প্রায় নয় লাখ ব্যারেলে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ ব্যারেল, সেখানে এই পতন দেশটির অর্থনীতিকে চরমভাবে দুর্বল করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানি

দুই হাজার উনিশ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ভেনিজুয়েলায় তেল রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে নজরদারি ও অবরোধ আরও কঠোর হওয়ায় তেল পরিবহন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়েছে।

Image

চীনের বাড়তে থাকা নির্ভরতা

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন। গত বছর চীনে দৈনিক কয়েক লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল গেছে, যা দেশটির মোট আমদানির উল্লেখযোগ্য অংশ। ভারতের মতো দেশও কিছুটা তেল কিনলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভেনিজুয়েলার তেল খাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না। এই অবস্থান চীনের দীর্ঘদিনের ঋণ ও তেল বিনিময় ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রভাব পুরোপুরি সরানো সহজ নয়, তবে নতুন সমঝোতা ও চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন বাড়বে।

পুনর্গঠনের ব্যয়বহুল বাস্তবতা

ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফেরাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অবকাঠামো ঠিক রাখতে এবং উৎপাদন ধরে রাখতে আগামী কয়েক দশকে বিশাল বিনিয়োগ লাগবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ সীমিতই থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার তেল শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধীরগতির বাঁধ নির্মাণে উদ্বেগে সুনামগঞ্জের হাওর কৃষকেরা

ভেনেজুয়েলার তেলে চীনের ছায়া, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

০৮:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনিজুয়েলার তেল ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। দেশটির বিপুল তেল সম্পদ পুনর্গঠনের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে—এমন বার্তা বারবার দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই অবস্থান এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন চীন।

বিপুল মজুদ, কিন্তু উৎপাদনে ধস

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা। মোট বৈশ্বিক মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখানেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও রাজনৈতিক সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে দিনে প্রায় নয় লাখ ব্যারেলে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ ব্যারেল, সেখানে এই পতন দেশটির অর্থনীতিকে চরমভাবে দুর্বল করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানি

দুই হাজার উনিশ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ভেনিজুয়েলায় তেল রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে নজরদারি ও অবরোধ আরও কঠোর হওয়ায় তেল পরিবহন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়েছে।

Image

চীনের বাড়তে থাকা নির্ভরতা

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন। গত বছর চীনে দৈনিক কয়েক লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল গেছে, যা দেশটির মোট আমদানির উল্লেখযোগ্য অংশ। ভারতের মতো দেশও কিছুটা তেল কিনলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভেনিজুয়েলার তেল খাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না। এই অবস্থান চীনের দীর্ঘদিনের ঋণ ও তেল বিনিময় ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রভাব পুরোপুরি সরানো সহজ নয়, তবে নতুন সমঝোতা ও চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন বাড়বে।

পুনর্গঠনের ব্যয়বহুল বাস্তবতা

ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফেরাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অবকাঠামো ঠিক রাখতে এবং উৎপাদন ধরে রাখতে আগামী কয়েক দশকে বিশাল বিনিয়োগ লাগবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ সীমিতই থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার তেল শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।