১১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

ভেনেজুয়েলার তেলে চীনের ছায়া, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

ভেনিজুয়েলার তেল ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। দেশটির বিপুল তেল সম্পদ পুনর্গঠনের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে—এমন বার্তা বারবার দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই অবস্থান এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন চীন।

বিপুল মজুদ, কিন্তু উৎপাদনে ধস

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা। মোট বৈশ্বিক মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখানেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও রাজনৈতিক সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে দিনে প্রায় নয় লাখ ব্যারেলে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ ব্যারেল, সেখানে এই পতন দেশটির অর্থনীতিকে চরমভাবে দুর্বল করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানি

দুই হাজার উনিশ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ভেনিজুয়েলায় তেল রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে নজরদারি ও অবরোধ আরও কঠোর হওয়ায় তেল পরিবহন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়েছে।

Image

চীনের বাড়তে থাকা নির্ভরতা

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন। গত বছর চীনে দৈনিক কয়েক লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল গেছে, যা দেশটির মোট আমদানির উল্লেখযোগ্য অংশ। ভারতের মতো দেশও কিছুটা তেল কিনলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভেনিজুয়েলার তেল খাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না। এই অবস্থান চীনের দীর্ঘদিনের ঋণ ও তেল বিনিময় ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রভাব পুরোপুরি সরানো সহজ নয়, তবে নতুন সমঝোতা ও চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন বাড়বে।

পুনর্গঠনের ব্যয়বহুল বাস্তবতা

ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফেরাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অবকাঠামো ঠিক রাখতে এবং উৎপাদন ধরে রাখতে আগামী কয়েক দশকে বিশাল বিনিয়োগ লাগবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ সীমিতই থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার তেল শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

ভেনেজুয়েলার তেলে চীনের ছায়া, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

০৮:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনিজুয়েলার তেল ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। দেশটির বিপুল তেল সম্পদ পুনর্গঠনের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে—এমন বার্তা বারবার দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই অবস্থান এশিয়ায় বিশেষ করে চীনের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন চীন।

বিপুল মজুদ, কিন্তু উৎপাদনে ধস

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদের দেশ ভেনেজুয়েলা। মোট বৈশ্বিক মজুদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখানেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের অভাব ও রাজনৈতিক সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে দিনে প্রায় নয় লাখ ব্যারেলে। নব্বইয়ের দশকে যেখানে দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ত্রিশ লাখ ব্যারেল, সেখানে এই পতন দেশটির অর্থনীতিকে চরমভাবে দুর্বল করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানি

দুই হাজার উনিশ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর ভেনিজুয়েলায় তেল রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে নজরদারি ও অবরোধ আরও কঠোর হওয়ায় তেল পরিবহন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়েছে।

Image

চীনের বাড়তে থাকা নির্ভরতা

একসময় ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন। গত বছর চীনে দৈনিক কয়েক লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল গেছে, যা দেশটির মোট আমদানির উল্লেখযোগ্য অংশ। ভারতের মতো দেশও কিছুটা তেল কিনলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভেনিজুয়েলার তেল খাত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না। এই অবস্থান চীনের দীর্ঘদিনের ঋণ ও তেল বিনিময় ব্যবস্থাকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রভাব পুরোপুরি সরানো সহজ নয়, তবে নতুন সমঝোতা ও চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েন বাড়বে।

পুনর্গঠনের ব্যয়বহুল বাস্তবতা

ভেনিজুয়েলার তেল উৎপাদন আগের অবস্থায় ফেরাতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অবকাঠামো ঠিক রাখতে এবং উৎপাদন ধরে রাখতে আগামী কয়েক দশকে বিশাল বিনিয়োগ লাগবে। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ সীমিতই থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার তেল শুধু জ্বালানি নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের একটি বড় কৌশলগত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।