০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি বিচ্ছেদের সবচেয়ে কঠিন সত্য জানালেন জেনিফার গার্নার বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ২০২৬ সালের ইতিবাচক সূচনা ইরানে বিক্ষোভে গুলি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও তীব্র আলেপ্পোর কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ, তিন দিনে নিহত অন্তত সতেরো গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো সহজ নয়: অর্থ উপদেষ্টা গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যুক্ত হতে আগ্রহ জানাল বাংলাদেশ ‘আওয়ামীপন্থী’ শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ভেনিজুয়েলা থেকে শিক্ষা: শক্তির রাজনীতিতে গণতন্ত্রের বিদায়

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ এক যুগ ধরে ভয়ের শাসন কায়েম করেছিলেন নিকোলাস মাদুরো। নির্বাচন ছিনতাই, ভিন্নমত দমনে হত্যা ও নির্যাতন, অর্থনীতির বেপরোয়া লুটপাট—সব মিলিয়ে দেশটিকে এমন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়, যা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। দেশের মোট উৎপাদন প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ কমে যায়। জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

এই বিপর্যয়ের মধ্যেই হঠাৎ নাটকীয় মোড়। জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনাটি শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, গোটা আমেরিকা মহাদেশ ও বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কীভাবে অভিযানটি হলো, কেন হলো এবং এর সময়কাল—এই তিনটি দিক ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কীভাবে অভিযানটি হলো
মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিখুঁত পরিকল্পনায় এক স্বৈরশাসককে তুলে আনা হলো। কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। এই দৃষ্টান্ত দেখাল, আধুনিক সামরিক শক্তি কতটা দ্রুত ও নির্ভুল হতে পারে। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হলো, এটি ছিল একটি সীমিত অভিযান, পূর্ণাঙ্গ শাসন পরিবর্তন নয়। মাদুরো চলে গেলেও তার তৈরি দমন যন্ত্র, ভীতির সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার কাঠামো অক্ষত রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব পুরোনো ভয় দেখিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

কেন এই পদক্ষেপ
এই অভিযানের ব্যাখ্যায় গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কথা শোনা যায়নি। বরং শক্তি প্রদর্শন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণের কথা স্পষ্ট ভাবে উচ্চারিত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কে উপেক্ষা করে সশস্ত্র শক্তির ওপর ভরসা রাখার এই নীতি ভেনিজুয়েলা বাসীর গণতান্ত্রিক স্বপ্নকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

এর প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে
এই ঘটনায় ছোট দেশগুলো বুঝে যাচ্ছে, শক্তিশালী প্রতিবেশীর চাপ উপেক্ষা করা কঠিন। তবে দীর্ঘমেয়াদে অনেক রাষ্ট্র নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এবং বিকল্প শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইবে। এতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও কঠোর ও সংঘাতমুখী হয়ে উঠতে পারে। শক্তির জোরে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে সাময়িক সুবিধা মিললেও, আকর্ষণ ও বিশ্বাস না থাকলে সেই নীতি টেকসই হয় না।

বিশ্ব রাজনীতির জন্য সতর্ক সংকেত
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং সার্বজনীন মূল্যবোধের পুরোনো কাঠামো আরও দুর্বল হলো। শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে সীমান্ত ও প্রভাব ক্ষেত্র নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে উৎসাহী হতে পারে। এর ফল হতে পারে এমন এক বিশ্ব, যেখানে আধুনিক অস্ত্রের ছায়ায় উনিশ শতকের আগ্রাসী মানসিকতা ফিরে আসে।

ভেনেজুয়েলার ঘটনা তাই শুধু একটি দেশের গল্প নয়। এটি দেখিয়ে দেয়, শক্তির রাজনীতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্থান কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। ইতিহাস বলছে, এই পথ শেষ পর্যন্ত অস্থিরতা আর অবিশ্বাসই বাড়ায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি

ভেনিজুয়েলা থেকে শিক্ষা: শক্তির রাজনীতিতে গণতন্ত্রের বিদায়

০৫:০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ এক যুগ ধরে ভয়ের শাসন কায়েম করেছিলেন নিকোলাস মাদুরো। নির্বাচন ছিনতাই, ভিন্নমত দমনে হত্যা ও নির্যাতন, অর্থনীতির বেপরোয়া লুটপাট—সব মিলিয়ে দেশটিকে এমন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়, যা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। দেশের মোট উৎপাদন প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ কমে যায়। জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

এই বিপর্যয়ের মধ্যেই হঠাৎ নাটকীয় মোড়। জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনাটি শুধু ভেনেজুয়েলার জন্য নয়, গোটা আমেরিকা মহাদেশ ও বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। কীভাবে অভিযানটি হলো, কেন হলো এবং এর সময়কাল—এই তিনটি দিক ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কীভাবে অভিযানটি হলো
মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিখুঁত পরিকল্পনায় এক স্বৈরশাসককে তুলে আনা হলো। কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি। এই দৃষ্টান্ত দেখাল, আধুনিক সামরিক শক্তি কতটা দ্রুত ও নির্ভুল হতে পারে। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট হলো, এটি ছিল একটি সীমিত অভিযান, পূর্ণাঙ্গ শাসন পরিবর্তন নয়। মাদুরো চলে গেলেও তার তৈরি দমন যন্ত্র, ভীতির সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার কাঠামো অক্ষত রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব পুরোনো ভয় দেখিয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

কেন এই পদক্ষেপ
এই অভিযানের ব্যাখ্যায় গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কথা শোনা যায়নি। বরং শক্তি প্রদর্শন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণের কথা স্পষ্ট ভাবে উচ্চারিত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদকে কেন্দ্র করে এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কে উপেক্ষা করে সশস্ত্র শক্তির ওপর ভরসা রাখার এই নীতি ভেনিজুয়েলা বাসীর গণতান্ত্রিক স্বপ্নকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

এর প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে
এই ঘটনায় ছোট দেশগুলো বুঝে যাচ্ছে, শক্তিশালী প্রতিবেশীর চাপ উপেক্ষা করা কঠিন। তবে দীর্ঘমেয়াদে অনেক রাষ্ট্র নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এবং বিকল্প শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইবে। এতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও কঠোর ও সংঘাতমুখী হয়ে উঠতে পারে। শক্তির জোরে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে সাময়িক সুবিধা মিললেও, আকর্ষণ ও বিশ্বাস না থাকলে সেই নীতি টেকসই হয় না।

বিশ্ব রাজনীতির জন্য সতর্ক সংকেত
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং সার্বজনীন মূল্যবোধের পুরোনো কাঠামো আরও দুর্বল হলো। শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে সীমান্ত ও প্রভাব ক্ষেত্র নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে উৎসাহী হতে পারে। এর ফল হতে পারে এমন এক বিশ্ব, যেখানে আধুনিক অস্ত্রের ছায়ায় উনিশ শতকের আগ্রাসী মানসিকতা ফিরে আসে।

ভেনেজুয়েলার ঘটনা তাই শুধু একটি দেশের গল্প নয়। এটি দেখিয়ে দেয়, শক্তির রাজনীতিতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্থান কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। ইতিহাস বলছে, এই পথ শেষ পর্যন্ত অস্থিরতা আর অবিশ্বাসই বাড়ায়।