চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে স্পষ্ট ভাটা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বি-অঙ্কের পতন খাতটিকে নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে। সামগ্রিক চিত্র বলছে, গত বছরের ইতিবাচক ধারাবাহিকতা এবার আর টেকেনি।
প্রথম আট মাসে নিম্নমুখী প্রবণতা
জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় হয়েছে ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ বছরের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে চাপ তৈরি হচ্ছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে এসে বড় আকার নিয়েছে।
উপখাতভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, নিটওয়্যার রফতানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে ওভেন খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে, কমেছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দুই প্রধান উপখাতেই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি স্পষ্ট।

ফেব্রুয়ারিতে বড় পতন
শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই রফতানি আয় হয়েছে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় কমেছে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
নিটওয়্যার খাতে ফেব্রুয়ারিতে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার, যা ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। ওভেন খাতে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার, কমেছে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ নিট খাতে পতন তুলনামূলক বেশি হলেও, ওভেন খাতেও দ্বি-অঙ্কের সংকোচন হয়েছে।
গত বছরের তুলনায় বড় পার্থক্য
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই সময়ে তৈরি পোশাক খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। পুরো বছরে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছিল ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। সে সময় নিট ও ওভেন—দুই খাতেই প্রবৃদ্ধি ছিল সন্তোষজনক।
কিন্তু চলতি অর্থবছরে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে অর্ডার কমে যাওয়া, মূল্যছাড়ের চাপ এবং বৈশ্বিক বাজারে দুর্বল চাহিদার প্রভাব এখন স্পষ্ট।

রফতানি কমছে কেন
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া বড় কারণ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও খুচরা বিক্রির ধীরগতি নতুন অর্ডারে প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতা, কাঁচামালের বাড়তি খরচ ও জ্বালানি ব্যয় রফতানিকারকদের লাভের মার্জিন সংকুচিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারির মতো পতন যদি ধারাবাহিক হয়, তাহলে চলতি অর্থবছরের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও সামনে করণীয়
তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেয়। ফলে এ খাতে ধীরগতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার এবং কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি করতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বাজার বহুমুখীকরণ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, দ্রুত সরবরাহ সময় নিশ্চিত করা এবং মান ও কমপ্লায়েন্স জোরদার করাই সবচেয়ে জরুরি। সামনে মার্চ থেকে জুন সময়ের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে, এই ধাক্কা সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি সংকেত।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















