টানা বারো দিনের বিক্ষোভে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে, এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও অসন্তোষের বিস্তার
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার দরপতনে নাকাল ইরানের অর্থনীতি এই আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে রাজধানীর বাজার বন্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, তা এখন বড় সমাবেশে রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমেই শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
সরকারি সূত্রগুলো বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে এক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশ পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মঘট
পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। বিভিন্ন শহরে দোকানপাট বন্ধ থাকার দৃশ্য সামনে এসেছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের দাবি, এসব এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে শত শত স্থানে প্রতিবাদ হয়েছে। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নারীসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একটি ঘটনায় এক নারী বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগার অভিযোগও উঠেছে। সংগঠনগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত ও বেআইনি শক্তি প্রয়োগ করছে।

প্রতীক ভাঙচুর ও স্লোগানে উত্তাপ
দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরে বিক্ষোভকারীরা এক সামরিক নেতার মূর্তি ভেঙে ফেলেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে জনতা উল্লাস করছে। সমাবেশগুলোতে শাসক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান আরও তীব্র হয়েছে।
মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন দাবি
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে অন্তত সাতাশ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিশোরও রয়েছে। সরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















