রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ব্যাংক ঋণের চড়া সুদহার হঠাৎ করে কমিয়ে আনা খুব সহজ কাজ নয়। সুদের হার কমাতে গেলে অর্থনীতির অন্য খাতে চাপ তৈরি হয়, যা সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
সুদের হার ব্যবস্থাপনার জটিলতা
অর্থ উপদেষ্টা জানান, সুদের হার ব্যাংক রেটের পাশাপাশি ট্রেজারি বিলের রেটের সঙ্গে যুক্ত। একদিকে চাপ দিলে অন্যদিকে তার প্রভাব পড়ে, ঠিক বেলুনের মতো। এতে শেষ পর্যন্ত পুরো আর্থিক ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই সুদের হার নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকতা ও সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদ
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন কার্যকর থাকা ছয়-নয় সুদহার নীতি তুলে নেওয়ার পর বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে বিনিয়োগে আগ্রহ কমেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলিয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ট্রেজারি বিল ও ব্যাংকিং ঝুঁকি
ট্রেজারি বিলের সুদহার ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে দেখা যাবে। তবে ট্রেজারি বিল বা সঞ্চয়পত্রের সুদ বাড়ানো হলে ব্যাংকে আমানত কমে যেতে পারে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ব্যাংক খাতের ভূমিকা
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংক খাতের মূল দায়িত্ব হলো সঞ্চয় ও ঋণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এই কাঠামো দুর্বল হলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ
শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি একটি সংবেদনশীল ও রাজনৈতিক বিষয়।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশনের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















