০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালানো হয়েছে, যা সাইবার বুলিংয়ের বড় উদাহরণ।

সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ নজরুল বলেন, প্রথম চার মাসেই তাঁকে লক্ষ্য করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও তৈরি করা হয়। তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই।

মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে ক্ষোভ
আইন উপদেষ্টা বলেন, একসময় তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আবার রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় বাড়ি থাকা এবং পরিবার সেখানেই চলে যাওয়ার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। ছয় মাস আগে এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দেন, কিন্তু কেউ কোনো তথ্য হাজির করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা এসব মিথ্যা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? তাঁর মতে, সততাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার হিসেবে ধারণ করা একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারই সবচেয়ে বড় সাইবার বুলিং।

জুলাইয়ের মামলার জামিন প্রসঙ্গে বক্তব্য
জুলাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর জামিন নিয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ জামিন হাইকোর্ট থেকে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের কোনো বিচারক যদি জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন, তার দায় সেই বিচারকের। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির বিষয়টি প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত, এখানে আইন উপদেষ্টার কিছু করার নেই।

দায় চাপানোর অভিযোগ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
তিনি বলেন, হাইকোর্টে যত জামিন হয়েছে, তার সব দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, এর পেছনে দুটি কারণ আছে। একটি হলো ভিউ ও আয় বাড়ানোর জন্য তাঁকে আক্রমণ করা, আর অন্যটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা। তাঁর নাম জড়িয়ে গালি দিলে অর্থ আসে এবং তাঁকে দুর্বল করতে পারলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।

আত্মসমালোচনার আহ্বান
বক্তব্যের শেষে আসিফ নজরুল সবাইকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামে আত্মসমালোচনাকে বড় গুণ হিসেবে দেখা হয়। সবাই যদি নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি বুঝে একে অপরের মতামতকে সম্মান করে এগিয়ে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে দেশ সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল

০৮:৫৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালানো হয়েছে, যা সাইবার বুলিংয়ের বড় উদাহরণ।

সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ নজরুল বলেন, প্রথম চার মাসেই তাঁকে লক্ষ্য করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও তৈরি করা হয়। তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই।

মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে ক্ষোভ
আইন উপদেষ্টা বলেন, একসময় তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আবার রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় বাড়ি থাকা এবং পরিবার সেখানেই চলে যাওয়ার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। ছয় মাস আগে এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দেন, কিন্তু কেউ কোনো তথ্য হাজির করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা এসব মিথ্যা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? তাঁর মতে, সততাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার হিসেবে ধারণ করা একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারই সবচেয়ে বড় সাইবার বুলিং।

জুলাইয়ের মামলার জামিন প্রসঙ্গে বক্তব্য
জুলাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর জামিন নিয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ জামিন হাইকোর্ট থেকে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের কোনো বিচারক যদি জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন, তার দায় সেই বিচারকের। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির বিষয়টি প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত, এখানে আইন উপদেষ্টার কিছু করার নেই।

দায় চাপানোর অভিযোগ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
তিনি বলেন, হাইকোর্টে যত জামিন হয়েছে, তার সব দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, এর পেছনে দুটি কারণ আছে। একটি হলো ভিউ ও আয় বাড়ানোর জন্য তাঁকে আক্রমণ করা, আর অন্যটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা। তাঁর নাম জড়িয়ে গালি দিলে অর্থ আসে এবং তাঁকে দুর্বল করতে পারলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।

আত্মসমালোচনার আহ্বান
বক্তব্যের শেষে আসিফ নজরুল সবাইকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামে আত্মসমালোচনাকে বড় গুণ হিসেবে দেখা হয়। সবাই যদি নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি বুঝে একে অপরের মতামতকে সম্মান করে এগিয়ে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে দেশ সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে পারবে।