১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত আটজন; অভিযানে গ্রেপ্তার আরও আট ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ হাজার ৩৫৯ জন: প্রায় স্থির রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব ইউএনবি সিরাজগঞ্জে কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ড: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার, মোট আটক ছয় নারায়ণগঞ্জে আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৮ শ্রমিক ফটিকছড়িতে সাবেক শিবির কর্মী গুলিতে নিহত সবুজ জ্বালানির স্বীকৃতিতে বিনিয়োগ বাড়বে এলপিজি খাতে: এলওএবি তিতাসের লাইনে তীব্র নিম্নচাপে ঢাকাজুড়ে গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী আমরা সবাই যে ফাঁদ আসতে দেখেছিলাম, তাতেই পা দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণা: হৃদরোগ থেকে মেনোপজ পর্যন্ত যে সত্যগুলো জানা জরুরি বিচ্ছেদের সবচেয়ে কঠিন সত্য জানালেন জেনিফার গার্নার

গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালানো হয়েছে, যা সাইবার বুলিংয়ের বড় উদাহরণ।

সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ নজরুল বলেন, প্রথম চার মাসেই তাঁকে লক্ষ্য করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও তৈরি করা হয়। তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই।

মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে ক্ষোভ
আইন উপদেষ্টা বলেন, একসময় তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আবার রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় বাড়ি থাকা এবং পরিবার সেখানেই চলে যাওয়ার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। ছয় মাস আগে এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দেন, কিন্তু কেউ কোনো তথ্য হাজির করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা এসব মিথ্যা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? তাঁর মতে, সততাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার হিসেবে ধারণ করা একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারই সবচেয়ে বড় সাইবার বুলিং।

জুলাইয়ের মামলার জামিন প্রসঙ্গে বক্তব্য
জুলাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর জামিন নিয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ জামিন হাইকোর্ট থেকে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের কোনো বিচারক যদি জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন, তার দায় সেই বিচারকের। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির বিষয়টি প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত, এখানে আইন উপদেষ্টার কিছু করার নেই।

দায় চাপানোর অভিযোগ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
তিনি বলেন, হাইকোর্টে যত জামিন হয়েছে, তার সব দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, এর পেছনে দুটি কারণ আছে। একটি হলো ভিউ ও আয় বাড়ানোর জন্য তাঁকে আক্রমণ করা, আর অন্যটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা। তাঁর নাম জড়িয়ে গালি দিলে অর্থ আসে এবং তাঁকে দুর্বল করতে পারলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।

আত্মসমালোচনার আহ্বান
বক্তব্যের শেষে আসিফ নজরুল সবাইকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামে আত্মসমালোচনাকে বড় গুণ হিসেবে দেখা হয়। সবাই যদি নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি বুঝে একে অপরের মতামতকে সম্মান করে এগিয়ে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে দেশ সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত আটজন; অভিযানে গ্রেপ্তার আরও আট

গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার আমি: আসিফ নজরুল

০৮:৫৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালানো হয়েছে, যা সাইবার বুলিংয়ের বড় উদাহরণ।

সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ নজরুল বলেন, প্রথম চার মাসেই তাঁকে লক্ষ্য করে চারটি ডেডিকেটেড ভিডিও তৈরি করা হয়। তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই।

মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে ক্ষোভ
আইন উপদেষ্টা বলেন, একসময় তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলা হয়েছে, আবার রাতারাতি ভারতের দালাল বানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আমেরিকায় বাড়ি থাকা এবং পরিবার সেখানেই চলে যাওয়ার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। ছয় মাস আগে এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দেন, কিন্তু কেউ কোনো তথ্য হাজির করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা এসব মিথ্যা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে? তাঁর মতে, সততাকে জীবনের সবচেয়ে বড় অহংকার হিসেবে ধারণ করা একজন মানুষের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচারই সবচেয়ে বড় সাইবার বুলিং।

জুলাইয়ের মামলার জামিন প্রসঙ্গে বক্তব্য
জুলাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর জামিন নিয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এসব মামলার প্রায় ৯০ শতাংশ জামিন হাইকোর্ট থেকে দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের কোনো বিচারক যদি জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকেন, তার দায় সেই বিচারকের। বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির বিষয়টি প্রধান বিচারপতির অধীনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত, এখানে আইন উপদেষ্টার কিছু করার নেই।

দায় চাপানোর অভিযোগ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
তিনি বলেন, হাইকোর্টে যত জামিন হয়েছে, তার সব দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, এর পেছনে দুটি কারণ আছে। একটি হলো ভিউ ও আয় বাড়ানোর জন্য তাঁকে আক্রমণ করা, আর অন্যটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা। তাঁর নাম জড়িয়ে গালি দিলে অর্থ আসে এবং তাঁকে দুর্বল করতে পারলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।

আত্মসমালোচনার আহ্বান
বক্তব্যের শেষে আসিফ নজরুল সবাইকে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামে আত্মসমালোচনাকে বড় গুণ হিসেবে দেখা হয়। সবাই যদি নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি বুঝে একে অপরের মতামতকে সম্মান করে এগিয়ে যায়, তাহলে ধীরে ধীরে দেশ সংস্কারের পথে অগ্রসর হতে পারবে।