নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরপরই যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সংঘর্ষের পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফতুল্লার শিহাচর হাজিবাড়ি মোড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল। ফতুল্লা থানা তাঁতী দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদিনের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কারখানার বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং এলাকায় প্রভাব প্রতিষ্ঠার মতো নানা বিষয়।
সংঘর্ষের ঘটনা
শনিবার দুপুরের পর দুই পক্ষের কয়েকশ’ সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। বিকেল প্রায় তিনটার দিকে হঠাৎ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ককটেলের বিস্ফোরণ, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও ইটপাটকেলের আক্রমণে পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে চলা এই সহিংসতায় অন্তত আটজন আহত হন। ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করেন।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাবসহ যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদিন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন এবং আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজীব, জিহাদ ও রাশিদ। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের অবশিষ্টাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি
এলাকাবাসী এই সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অস্ত্র ও মাদক নিয়ে যারা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের দমন না করলে শান্তি ফিরবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















