সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে কুর্দি অধ্যুষিত দুইটি এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারী বোমাবর্ষণ চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকাজুড়ে গোলাবর্ষণ ও স্নাইপার হামলার মধ্যে আতঙ্কে ঘর ছাড়ছেন হাজারো বাসিন্দা। চলমান সহিংসতায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংঘর্ষ ও পালিয়ে যাওয়া মানুষের ভয়
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে, দোকানপাট, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। নিরাপদ করিডোর দিয়ে বেসামরিক মানুষদের বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের আলাদা করে তল্লাশি করা হয়। এক বাসিন্দা জানান, গুলির ভয়ে সন্তানদের নিয়ে পালাতে গিয়ে তারা চরম আতঙ্কে ছিলেন।
হতাহত ও বাস্তুচ্যুতি
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য মতে, একদিনে প্রায় ষোল হাজার মানুষ শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি ও কুর্দি বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের সংঘর্ষে অন্তত সতেরো জন নিহত হয়েছে।
আলোচনায় ধাক্কা ও পারস্পরিক দোষারোপ
কুর্দি নেতৃত্বের শীর্ষ নেতা মাজলুম আবদি বলেছেন, আলোচনার সময় কুর্দি এলাকায় হামলা সমঝোতার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার প্রশাসন ও বাহিনীকে নতুন সরকার কাঠামোয় একীভূত করার যে চুক্তি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন নিয়েই উত্তেজনার সূত্রপাত। কে আগে সংঘর্ষ শুরু করেছে, তা নিয়ে উভয় পক্ষই একে অন্যকে দোষারোপ করছে। দামেস্কে সাম্প্রতিক আলোচনাও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম দেখানো, বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, সিরিয়ার পক্ষ থেকে অনুরোধ এলে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইসরায়েল কুর্দি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে গুরুতর ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর টানাপোড়েন এই সহিংসতাকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিমান চলাচল ও নগর জীবনে স্থবিরতা
সংঘর্ষের জেরে আলেপ্পো বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। শহরের স্বাভাবিক জীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু পরিবার ঘরে ফেরার সাহস পাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















