১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ভিয়েতনামের দ্রুত বৃদ্ধি, নড়বড়ে ভিত: উন্নয়নের জোয়ারে ঝুঁকির ছায়া আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবার নির্বাচনের দৌড়ে মান্না, বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সূচকের বড় পতনে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেন কমল বাংলাদেশের অচলাবস্থা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর জন্য কঠিন পরীক্ষা: এনডিটিভি প্রতিবেদন বিক্ষোভের চাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি চলমান শীতল ঢেউ: উত্তরের জনপদে কুয়াশা, কাঁপুনি আর টিকে থাকার গল্প অ্যাশেজ ধাক্কার পরও হাল ছাড়ছেন না স্টোকস, ভুল শুধরানোর অঙ্গীকার চীনের রপ্তানি হুমকিতে নরম সুর, জাপানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত বেইজিংয়ের

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি

ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা সরকারি স্বীকৃত ২১টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আজ ধ্বংসের মুখে। মরচে ধরা ফটক, খসে পড়া দেয়াল আর নীরব প্রাঙ্গণ যেন অবহেলা, উদাসীনতা ও সময়ের নির্মমতার সাক্ষ্য বহন করছে।

মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে উনিশ শতকের নীলকুঠি ভবনের চত্বরে হাঁটলে এখন বিশ্বাস করা কঠিন যে একসময় এটি ছিল ঔপনিবেশিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ত কেন্দ্র। ২০১২ সালে গেজেটভুক্ত হওয়া এই ভবনের দেয়ালজুড়ে এখন ক্ষয়ের চিহ্ন, ফাটল ধরা মেঝের ফাঁক দিয়ে মাথা তুলেছে আগাছা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, গেজেটভুক্ত হওয়ার পর কার্যত সরকারি তদারকি বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু স্থাপনা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় সংরক্ষণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

ঝিনাইদহের ঐতিহ্য কেবল নীলকুঠিতেই সীমাবদ্ধ নয়। শৈলকুপা উপজেলার মিয়ার দালান, ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, নলডাঙ্গা উপজেলার রাজবাড়ি মন্দির এবং বড়বাজারের প্রাচীন মসজিদগুলোও অবহেলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।

তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ইলা মিত্র এবং খ্যাতিমান গণিতবিদ অধ্যাপক কালীপদ বসুর পৈতৃক বাড়িগুলোও নীরবে ভেঙে পড়ছে। এসব স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস ধীরে ধীরে জনস্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ২১টি স্থাপনা আইনগতভাবে সংরক্ষিত। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ স্থাপনাতেই নেই কার্যকর নিরাপত্তা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সঠিক তথ্যফলক। দ্রুত উদ্যোগ না নেওয়া হলে এসব স্থাপনার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব হয়তো শুধু পাঠ্যবইয়েই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

শৈলকুপা ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সম্পাদক সুজন বিপ্লব বলেন, ঐতিহ্য শুধু পুরোনো ভবন নয়, এটি একটি জনপদের আত্মা। এই স্থাপনাগুলো পর্যটন বিকাশে সহায়ক হতে পারে, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস শেখাতে পারে এবং আমাদের পরিচয় ধরে রাখতে পারে। কিন্তু আমরা যদি নীরব থাকি, তবে এগুলো নীরবেই হারিয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সুরও একই। ঝিনাইদহ সদরের আবদুল আজিজ জানান, কালীপদ বসুর বাসভবন রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে ওলিয়ার রহমান সতর্ক করে বলেন, বড়বাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো তদারকির অভাবে ক্রমেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইনি স্বীকৃতি ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট নয়। নিয়মিত জরিপ, দ্রুত সংস্কার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এসব উদ্যোগ ছাড়া ঝিনাইদহ তার সমৃদ্ধ অতীতের দৃশ্যমান প্রমাণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ঐতিহ্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিয়েতনামের দ্রুত বৃদ্ধি, নড়বড়ে ভিত: উন্নয়নের জোয়ারে ঝুঁকির ছায়া

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো: গৌরব থেকে ধুলোর পথে ইউএনবি

০২:২৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা সরকারি স্বীকৃত ২১টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আজ ধ্বংসের মুখে। মরচে ধরা ফটক, খসে পড়া দেয়াল আর নীরব প্রাঙ্গণ যেন অবহেলা, উদাসীনতা ও সময়ের নির্মমতার সাক্ষ্য বহন করছে।

মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে উনিশ শতকের নীলকুঠি ভবনের চত্বরে হাঁটলে এখন বিশ্বাস করা কঠিন যে একসময় এটি ছিল ঔপনিবেশিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ত কেন্দ্র। ২০১২ সালে গেজেটভুক্ত হওয়া এই ভবনের দেয়ালজুড়ে এখন ক্ষয়ের চিহ্ন, ফাটল ধরা মেঝের ফাঁক দিয়ে মাথা তুলেছে আগাছা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, গেজেটভুক্ত হওয়ার পর কার্যত সরকারি তদারকি বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু স্থাপনা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে হওয়ায় সংরক্ষণ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

ঝিনাইদহের ঐতিহ্য কেবল নীলকুঠিতেই সীমাবদ্ধ নয়। শৈলকুপা উপজেলার মিয়ার দালান, ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ, নলডাঙ্গা উপজেলার রাজবাড়ি মন্দির এবং বড়বাজারের প্রাচীন মসজিদগুলোও অবহেলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।

তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ইলা মিত্র এবং খ্যাতিমান গণিতবিদ অধ্যাপক কালীপদ বসুর পৈতৃক বাড়িগুলোও নীরবে ভেঙে পড়ছে। এসব স্থাপনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস ধীরে ধীরে জনস্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ২১টি স্থাপনা আইনগতভাবে সংরক্ষিত। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ স্থাপনাতেই নেই কার্যকর নিরাপত্তা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সঠিক তথ্যফলক। দ্রুত উদ্যোগ না নেওয়া হলে এসব স্থাপনার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব হয়তো শুধু পাঠ্যবইয়েই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

শৈলকুপা ইলা মিত্র স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সম্পাদক সুজন বিপ্লব বলেন, ঐতিহ্য শুধু পুরোনো ভবন নয়, এটি একটি জনপদের আত্মা। এই স্থাপনাগুলো পর্যটন বিকাশে সহায়ক হতে পারে, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস শেখাতে পারে এবং আমাদের পরিচয় ধরে রাখতে পারে। কিন্তু আমরা যদি নীরব থাকি, তবে এগুলো নীরবেই হারিয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সুরও একই। ঝিনাইদহ সদরের আবদুল আজিজ জানান, কালীপদ বসুর বাসভবন রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে ওলিয়ার রহমান সতর্ক করে বলেন, বড়বাজারের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো তদারকির অভাবে ক্রমেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইনি স্বীকৃতি ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট নয়। নিয়মিত জরিপ, দ্রুত সংস্কার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এসব উদ্যোগ ছাড়া ঝিনাইদহ তার সমৃদ্ধ অতীতের দৃশ্যমান প্রমাণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, ঐতিহ্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সংস্কার ও নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।