কুড়িগ্রাম জেলার সরকারি খাদ্য গুদামে বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে গুদামের মজুদের সঙ্গে নথিপত্রের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় সাড়ে পাঁচশ মেট্রিক টন ধান ও চালের হদিস মিলছে না বলে জানিয়েছে দুদক।
গুদাম পরিদর্শনে ধরা পড়ল বড় ঘাটতি
রোববার দুপুরে দুদকের একটি দল কুড়িগ্রাম শহরের নতুন রেলস্টেশন এলাকার জেলা খাদ্য গুদামে অভিযান চালায়। সেখানে অবস্থিত আটটি গোডাউন ঘুরে দেখা হয়। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, কাগজে থাকা মজুদের তুলনায় বাস্তবে বিপুল পরিমাণ ধান ও চাল অনুপস্থিত। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, ৫২১ মেট্রিক টন ধান ও ৩৫ মেট্রিক টন চালের কোনো সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যায় আবার অভিযান
একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দুদকের দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে দ্বিতীয় দফা অভিযান শুরু করে। সেখানে আলাদা আলাদা ছয়টি গোডাউন তল্লাশি করা হয়। দুদকের ধারণা, এসব গোডাউনেও খাদ্যশস্যের হিসাবে ঘাটতি থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত যাচাই চলছে।
অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ
দুদক সূত্র জানায়, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ না করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল কেনা, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরোনো বস্তা ব্যবহার এবং সরকারি গুদামের ধান ও চাল বাইরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে কুড়িগ্রামে এই অভিযান চালানো হয়।

গোডাউন সিলগালা, তদন্তের আশ্বাস
কুড়িগ্রাম জেলা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাবদারুর ইসলাম জানান, যেসব গোডাউনে ধান ও চালের ঘাটতি পাওয়া গেছে, সেগুলো সিলগালা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের কাছে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় খাদ্য অনুপযোগী চালও পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















