সাভার ও আশুলিয়ায় টানা কয়েক দিন ধরে বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার ও রোববার এই আন্দোলন ঘিরে কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, যা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সাভারে এম-টারনেট গার্মেন্টসের শ্রমিকদের টানা আন্দোলন
সাভারের রাজাশান ঈদগাহ এলাকায় অবস্থিত এম-টারনেট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা গত দুই দিন ধরে বেতন ও ভাতা সময়মতো পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় তারা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ করেন এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করেন।

কারখানার শ্রমিক রিদয় মিয়া জানান, প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাননি। রোববার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালান এবং প্রধান ফটক ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। তাদের দাবি ছিল বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি নয় শতাংশ বেতন বৃদ্ধি। একপর্যায়ে পুলিশ কারখানায় ঢুকতে চাইলে শ্রমিকরা বাধা দেন।
বেতন পরিশোধের আশ্বাস
শিল্প পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট মমিনুল ইসলাম ভূইয়া জানান, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ জানুয়ারি ও ২০ জানুয়ারি দুই ধাপে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ দুই কারখানা
আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ক্রস ওয়্যার ও জিহান গার্মেন্টস লিমিটেড নামে দুটি পোশাক কারখানা শনিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা নোটিশ দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এই দুই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার পাঁচশ শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















