আসন্ন জাতীয় গণভোটকে অর্থবহ ও সফল করতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোটের গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স মিটিংয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মানসুর। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর এবং দেশের সব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ
বৈঠক সূত্র জানায়, দেশের প্রতিটি ব্যাংক শাখায় অন্তত দুটি করে গণভোট–সংক্রান্ত সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যেন সহজভাবে গণভোটের গুরুত্ব ও লক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে গণভোট নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনায় আগ্রহী এনজিওগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এনজিওগুলো যদি গ্রাম ও তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট নিয়ে প্রচার–প্রচারণা চালায়, তবে ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে।
ব্যাংকিং খাতের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে গণভোটের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশে। তবে একীভূত পাঁচটি ব্যাংক বাদ দিলে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৫৩ শতাংশে।

ক্ষুদ্র ও ডিজিটাল ন্যানো ঋণ কর্মসূচি নিয়ে গভর্নর ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, এসব ঋণ যেন ঝুঁকিপূর্ণ বা অযোগ্য গ্রাহকদের হাতে না যায়, সে জন্য কর্মসূচিগুলো নতুনভাবে সাজাতে হবে।
স্কুল ব্যাংকিং জোরদার করার নির্দেশ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয় ও ব্যাংকিং অভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপককে বছরে অন্তত দুটি স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আসন্ন রমজান ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রবাসী আয়ে আরও প্রবৃদ্ধির আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের কাজও চলমান রয়েছে।
সুদের হার নিয়ে অবস্থান
সুদের হার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসায় এখনই সুদের হার কমানোর সুযোগ নেই। তবে যত দ্রুত সম্ভব সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য কৌশল নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, গণভোটকে সফল করতে ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সে যে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতেও তারা কাজ করে যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















