চীনের শহরগুলোতে বইয়ের দোকানের ধারণা বদলে যাচ্ছে দ্রুত। পাঠক টানার চেয়ে এখন অনেক দোকানের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে তাদের ভেতরের নান্দনিক নকশা। ঝলমলে আলো, বিশাল সিঁড়ি আর কল্পনার মতো সাজানো অভ্যন্তর—সব মিলিয়ে বইয়ের দোকান যেন সেলফি তোলার পর্যটনকেন্দ্র।
বই বিক্রি কমলেও দোকান বাড়ছে
করোনাকালের আগের তুলনায় চীনে ছাপা বইয়ের বিক্রি এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনলাইন বাণিজ্যের প্রসার আর ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগের পরও হার্ডকপি বইয়ের বাজার আগের অবস্থায় ফেরেনি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে বইয়ের দোকানের সংখ্যা স্থির গতিতেই বেড়েছে। প্রকাশনা খাতের নেতারা বলছেন, আলাদা বৈশিষ্ট্যের বইয়ের দোকানের এক নতুন ঢেউ দেখা যাচ্ছে।
হগওয়ার্টসের মতো বইয়ের দোকান
চীনের উত্তরাঞ্চলের তিয়ানজিন শহরে সম্প্রতি খোলা একটি বিশাল বইয়ের দোকান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে উঁচু ঢেউখেলানো সিঁড়ি আর ঘূর্ণায়মান নকশার সিঁড়িঘর। অনেকেই একে জনপ্রিয় কল্পকাহিনির জাদুবিদ্যার স্কুলের সঙ্গে তুলনা করছেন। এখানে পড়তে আসার চেয়ে ছবি তুলতেই ভিড় বেশি।

সেলফির ভিড়ে পড়া কঠিন
শহর ঘুরতে এসে এক তরুণী শিক্ষার্থী জানান, দোকানের ভেতরের ছবি সত্যিই দারুণ আসে। কিন্তু লোকজন এত বেশি যে ঠিক জায়গা বেছে নেওয়াই কঠিন। সেলফি স্টিক আর ট্রাইপড হাতে পর্যটকেরা নীল রঙের বিশাল সিঁড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। কোথাও কোথাও মেঝেতে লেখা ঝুলছে, ছবি তোলার সেরা জায়গা।
নকশাই এখন মূল বিনিয়োগ
স্থপতিরা বলছেন, এখন অনেক বইয়ের দোকানই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেন ছবি তোলা যায়। এটি এখন মূলধারার প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তবে এতে অনিচ্ছাকৃত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেক মানুষ শুধু ছবি তুলতেই আসছেন, পড়ার জন্য নয়—ফলে পাঠের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা
এই প্রবণতার নেতিবাচক দিকও সামনে এসেছে। পূর্বাঞ্চলের একটি শহরে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় এক জনপ্রিয় বইয়ের দোকান ফ্ল্যাশ, ট্রাইপড আর অনুমতি ছাড়া ফটোশুট নিষিদ্ধ করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, লাগাতার ছবি তোলায় পাঠে বিঘ্ন ঘটছিল।

তবু আশাবাদী উদ্যোক্তারা
তবে অনেক স্থপতি ও উদ্যোক্তার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাঁদের মতে, মানুষ অন্তত বইয়ের দোকানে আসছে—এটাই ইতিবাচক। বেইজিংয়ের এক পুরোনো উপাসনালয়কে রূপান্তরিত করে তৈরি করা বইয়ের দোকানে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ঢুঁ মারছেন। কেউ বই দেখছেন, কেউ চা অর্ডার করছেন, কেউ ছবি তুলছেন।
বই একা দোকান বাঁচায় না
এই দোকানের প্রতিষ্ঠাতা বলছেন, শুধু বই বিক্রি করে একটি বইয়ের দোকান টিকিয়ে রাখা কঠিন। বই থেকে লাভ তুলনামূলক কম। তাই সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, উপহারসামগ্রী আর সামাজিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় জরুরি। অনলাইনে ছবি ছড়িয়ে পড়ুক—এতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















