মিনিয়াপলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ মিনিয়াপলিসের রাস্তায় নেমে আসেন। নিহত নারীর নাম উচ্চারণ করে তারা ফেডারেল অভিবাসন বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শহরের পার্কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা দাবি তোলেন, মিনেসোটা থেকে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
ঘটনার পটভূমি
বুধবার মিনিয়াপলিসে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সাতত্রিশ বছর বয়সী মা রেনি নিকোল গুড। ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা দাবি করেন, আত্মরক্ষার্থেই গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায় গুডের গাড়ি কর্মকর্তার দিক থেকে সরে যাচ্ছিল এবং তা কোনো হুমকি তৈরি করছিল না।
রাস্তায় রাস্তায় প্রতিবাদ
শনিবার মিনিয়াপলিসের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়াতেও বিক্ষোভ হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি কর্মসূচি নেওয়া হয়। মিনিয়াপলিসে বিক্ষোভ শুরুতেই এক কণ্ঠ ভেসে আসে, তাঁর নাম বলো। সঙ্গে সঙ্গে জনতা সমস্বরে উচ্চারণ করে, রেনি গুড। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল অভিবাসন বাহিনীকে বের করে দেওয়ার আহ্বান।

ভিডিও নিয়ে বিতর্ক
ঘটনার সময় ধারণ করা মোবাইল ভিডিও নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কর্মকর্তা গুডের গাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছেন। গুড তখন শান্ত স্বরে বলেন, আমি তোমার ওপর রাগ করছি না। কিছুক্ষণ পর গাড়ি ছাড়ার চেষ্টা করলে গুলির শব্দ শোনা যায়। হোয়াইট হাউস বলছে, ভিডিও কর্মকর্তার আত্মরক্ষার দাবিকে সমর্থন করে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, ভিডিওতে স্পষ্টভাবে গুলি ছোড়ার যৌক্তিকতা দেখা যায় না।
ক্ষোভ ও আশঙ্কা
বিক্ষোভকারীদের অনেকেই বলছেন, অভিবাসন অভিযানের নামে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। মিনিয়াপলিসে এক প্রতিবাদকারী বলেন, আমরা ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছি। শুক্রবার সন্ধ্যায় শতাধিক মানুষ অভিবাসন কর্মকর্তাদের থাকার সন্দেহভাজন হোটেলের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। পুলিশ জানায়, কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
মিনেসোটার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাইরে রাখা হয়েছে। বন্দুক সহিংসতা নিয়ে কাজ করা একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের অভিবাসন অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ফেডারেল অভিবাসন বাহিনীর গুলিতে এটি চতুর্থ মৃত্যু। এ ছাড়া আরও সাতজন আহত হয়েছেন। আলাদা আরেক ঘটনায় ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ট্রাফিক থামানোর সময় ফেডারেল সীমান্ত পুলিশের গুলিতে দুজন আহত হন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















