দেশের বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ডলার সংকটের চাপ কমাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানির নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এলপিজি আমদানিকারকেরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদি ঋণসুবিধা নিয়ে পণ্য আমদানি করতে পারবেন।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
শিল্প কাঁচামাল হিসেবে এলপিজি
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরে তা বোতলজাত করে বাজারজাত করা হয়। আমদানি থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি ধাপে সময় লাগে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে এলপিজিকে শিল্প কাঁচামালের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে সরবরাহকারীর ঋণ বা ক্রেতার ঋণের মাধ্যমে বিলম্বিত পরিশোধের শর্তে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদে এলপিজি আমদানি করা যাবে।
আগের সিদ্ধান্তের সম্প্রসারণ
গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ২৭০ দিনের ইউস্যান্স সুবিধা অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এলপিজি আমদানিকারকেরাও সেই একই সুবিধার আওতায় এলেন।
এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতার ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। দেশের ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও গ্রহণ করতে পারবেন আমদানিকারকেরা।
নগদ প্রবাহ ও সরবরাহ স্বাভাবিকের লক্ষ্য
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, আমদানির পর এলপিজি সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বাজারজাত করতে উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হয়। তাই আমদানিকারকদের নগদ প্রবাহে সহায়তা করতে এবং দ্রুত এলপিজি আমদানি নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এলপিজি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি
দেশের বাজারে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তীব্র এলপিজি সংকট চলছে। এ সময়ে দাম বেড়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে।
বর্তমানে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০০ টাকা, সেখানে অনেক এলাকায় তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। একইভাবে ৩৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার টাকা, যা নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা বেশি।
সংকটের কারণ ও প্রত্যাশা
এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জাহাজ সংকট, এলসি খুলতে জটিলতা এবং একাধিক এলপিজি প্ল্যান্ট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বিশেষ সুবিধাগুলো কার্যকর হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















