১১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ১০ জনের যাবজ্জীবন পর্যটনে গতির নতুন অধ্যায় আবুধাবি, ২০৩০ লক্ষ্য ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে আমিরাত ধস নামা আবর্জনার পাহাড়ে নিভছে আশার আলো, সেবুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ল শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস মোংলায় খালেদা জিয়ার মাগফিরাত মাহফিলে হামলা, খাবার লুট, আহত দুই চার মিশনের প্রেস কর্মকর্তা প্রত্যাহার, দেশে ফেরার নির্দেশ সরকারের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম মজুমদার আগামী নির্বাচনে নারীদের সমর্থন জামায়াতের দিকে যাবে: শফিকুর রহমান কুসুমপুর বাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণায় উচ্ছেদ আতঙ্ক, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস

সোমবার দুপুরে হঠাৎ করেই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাস। বেলা প্রায় ১২টার দিকে তিনি রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনে প্রবেশ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে শতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে ভবনের নিচতলায় ঢুকে পড়েন। পরে চারজনের একটি ছোট দল নিয়ে মির্জা আব্বাস মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাকি নেতাকর্মীরা গভর্নর ভবনের প্রধান ফটক, যা সোনালী গেট নামে পরিচিত, তার সামনে অবস্থান নেন।

ভবনের ভেতরে অবস্থান
ভেতরে ঢোকার পর মির্জা আব্বাস প্রথমে গভর্নর ভবনের তৃতীয় তলায় কিছু সময় অবস্থান করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের দিকে যান। তখনও তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। একই সময়ে ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদেরও সেখানে দেখা যায়।

আসার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
মির্জা আব্বাস কেন বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে থাকা একজন জানান, এটি ছিল নিয়মিত ব্যাংকসংক্রান্ত কাজের অংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এভাবে দলবল নিয়ে প্রবেশের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।
আরেক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত বা ব্যাংকসংক্রান্ত কাজে যে কেউ আসতেই পারেন। অতীতেও বড় রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি ব্যক্তিরা এখানে এসেছেন। তবে এতসংখ্যক লোক নিয়ে আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মির্জা আব্বাস কী উদ্দেশ্যে এসেছেন, তা এখনও জানা যায়নি। প্রয়োজনে যে কেউই বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে পারেন। তবে এভাবে অনেক লোক নিয়ে আসা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পদ বিবরণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। তিনি এর আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং একসময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার সম্পদের তালিকায় ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। এছাড়া ৩০ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতু রয়েছে তার নামে। মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ থাকলেও ব্যবসা থেকে তার কোনো আয় নেই। তার মোট আয়ের পুরোটা আসে বাড়িভাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার ছেলে ইয়াসির আব্বাস বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত

শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস

০৮:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সোমবার দুপুরে হঠাৎ করেই শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাস। বেলা প্রায় ১২টার দিকে তিনি রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনে প্রবেশ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশের ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে শতাধিক নেতাকর্মী ছিলেন। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে ভবনের নিচতলায় ঢুকে পড়েন। পরে চারজনের একটি ছোট দল নিয়ে মির্জা আব্বাস মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাকি নেতাকর্মীরা গভর্নর ভবনের প্রধান ফটক, যা সোনালী গেট নামে পরিচিত, তার সামনে অবস্থান নেন।

ভবনের ভেতরে অবস্থান
ভেতরে ঢোকার পর মির্জা আব্বাস প্রথমে গভর্নর ভবনের তৃতীয় তলায় কিছু সময় অবস্থান করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ তলা ভবনের দিকে যান। তখনও তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। একই সময়ে ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীদেরও সেখানে দেখা যায়।

আসার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
মির্জা আব্বাস কেন বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে থাকা একজন জানান, এটি ছিল নিয়মিত ব্যাংকসংক্রান্ত কাজের অংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কেপিআইভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এভাবে দলবল নিয়ে প্রবেশের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।
আরেক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত বা ব্যাংকসংক্রান্ত কাজে যে কেউ আসতেই পারেন। অতীতেও বড় রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি ব্যক্তিরা এখানে এসেছেন। তবে এতসংখ্যক লোক নিয়ে আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের বক্তব্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মির্জা আব্বাস কী উদ্দেশ্যে এসেছেন, তা এখনও জানা যায়নি। প্রয়োজনে যে কেউই বাংলাদেশ ব্যাংকে আসতে পারেন। তবে এভাবে অনেক লোক নিয়ে আসা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পদ বিবরণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। তিনি এর আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং একসময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার সম্পদের তালিকায় ঢাকা ব্যাংকের ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে। এছাড়া ৩০ লাখ টাকার গহনা ও মূল্যবান ধাতু রয়েছে তার নামে। মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ থাকলেও ব্যবসা থেকে তার কোনো আয় নেই। তার মোট আয়ের পুরোটা আসে বাড়িভাড়া, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার ছেলে ইয়াসির আব্বাস বর্তমানে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।