ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর বাজারে নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কারের একটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বাজারের দীর্ঘদিনের দোকানপাট উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বাজার ইজারাদার স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের সহায়তায় পরিচ্ছন্নতার নামে বেছে বেছে কিছু দোকান ভাঙার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে বাজারের মূল্যবান সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই মূল উদ্দেশ্য বলে দাবি তাঁদের।
বাজারের জমি ও স্থাপনার বাস্তবতা
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুসুমপুর বাজারটি গড়ে উঠেছে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও সরকারি খাস জমির ওপর। বহু ব্যবসায়ী কয়েক দশক ধরে খাস জমিতে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকও পাশের সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা সম্প্রসারণ করেছেন।

দীর্ঘদিনের বর্জ্য ফেলার স্থান
বছরের পর বছর ধরে বাজারের এক পাশে খাস জমির একটি অংশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। গত শুক্রবার কুসুমপুর ভূমি অফিস মাইকিং করে সেখানে জমে থাকা আবর্জনা অপসারণের ঘোষণা দেয়।
উচ্ছেদের আশঙ্কা কেন
ব্যবসায়ীদের দাবি, এই ঘোষণা পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এটি কেবল পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু দোকান উচ্ছেদের পথ সুগম করতে পারে। অনেকের মতে, বর্জ্য সরানোর আড়ালে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ খাস জমি দখলের চেষ্টা চলছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও উঠেছে।
নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে আসা
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফার্মেসি ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী জুলু বাজার এলাকার সরকারি জমি দখলের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, শামসুল হক বাদো, জলাল উদ্দিন বিশ্বাস, কুতুব উদ্দিন বিশ্বাস, মহিউদ্দিন বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, আনছারুল মাস্টার, মাসুদ আলী, মো. নায়ান, সালাউদ্দিন জুয়েল, মো. রহমান, জাহাঙ্গীর আলী, মন্টু মণ্ডল, মোমিন রহমান, ফারজান আলী ও রবিউল ইসলাম রোবেলসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী খাস জমি দখল করে দোকান নির্মাণ করেছেন।
রাজস্ব হারানোর যুক্তি
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, এসব জমি ও স্থাপনা যদি নিয়মিতভাবে সরকার বরাদ্দ দিত, তাহলে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো। কিন্তু বর্তমানে দখলের কারণে কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে সুবিধা ভোগ করছেন।
সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে খাস জমি দখল করে বহু মানুষ লাভবান হচ্ছেন। এ অবস্থায় যদি কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয়, তবে তা অবশ্যই সবার জন্য সমান ও ন্যায্য হতে হবে। শুধু কয়েকটি দোকানকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিলে বাজারে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তাঁরা সতর্ক করেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগ প্রসঙ্গে জুলফিকার আলী জুলু বলেন, খাস জমি দখলের বিষয়টি নতুন নয়, এটি বহু বছর ধরে চলে আসছে। তাঁর দাবি, কিছু জমি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রয়েছে কিংবা এক-দুইজনের দখলে পড়ে আছে। সেসব জমি উদ্ধার করা গেলে নতুন দোকান নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ভূমি অফিসের ব্যাখ্যা
কুসুমপুর ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, বাজার এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্দেশ্যেই মাইকিং করা হয়েছে। উচ্ছেদের কোনো ঘোষণা বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে বাজারসংলগ্ন খাস জমিতে গড়ে ওঠা কিছু দোকান নিয়ম মেনে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জরিপ করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান
মহেশপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইশতিয়াক আহমেদও পরিচ্ছন্নতার নামে জমি দখলের অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি বলেন, পরিষ্কারের অজুহাতে জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি কুসুমপুর ভূমি অফিসকে জানানো হবে, যাতে কেউ অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করতে না পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















