০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
খুলনা সিআইডি কার্যালয়ের কক্ষে আগুন মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় স্ক্র্যাপ আগুন গাজীপুরের সালনায় ঝুট গুদামে আগুন ট্রাম্প বনাম কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার, ক্ষমতা আর স্বাধীনতা ঘিরে নজিরবিহীন সংঘাত ইরান দমনে কঠোর জবাব ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা তেহরানের চীনের কড়াকড়িতে জাপানের বিকল্প খোঁজ পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন পারমাণবিক ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবতার আশ্রয় স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা ভারতে পঞ্চম কারখানার পথে সুজুকি, গুজরাটে বিশাল জমি কেনার প্রস্তুতি

পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন

হিরোশিমার ধ্বংসস্তূপ থেকে জন্ম নেওয়া এক মানবিক অঙ্গীকার আজও পথ দেখাচ্ছে। জাপানের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন আশি বছরে পা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতার পারমাণবিক বোমা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা থেকে যে আশ্রয়কেন্দ্রের সূচনা, সময়ের স্রোতে তা হয়ে উঠেছে অসহায় শিশুদের নিরাপদ ঠিকানা।

ধ্বংসের মাঝে জন্ম নেয় প্রতিজ্ঞা

উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালের ছয় আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বিস্ফোরণের দিন এক তরুণ সেনা প্রশিক্ষণার্থী নিজের চোখে দেখেছিলেন মানবতার চরম বিপর্যয়। সেই অভিজ্ঞতা বদলে দেয় তাঁর জীবনবোধ। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বেঁচে থাকলে যুদ্ধের অনাথ শিশুদের জীবন গড়াতেই নিজেকে উৎসর্গ করবেন। যুদ্ধশেষে ব্যক্তিগত সঞ্চয় দিয়ে হিরোশিমার উজিনা এলাকায় শুরু হয় অনাথ আশ্রয়। ক্ষুধা আর রোগে জর্জরিত শিশুদের নিয়ে সেই দিনগুলো ছিল ভয়াবহ। নাম বলার শক্তিও ছিল না অনেকের। তবু সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আজকের প্রতিষ্ঠান।

আশি বছরের স্মরণ, আপেল আর মিষ্টি আলুর গল্প

দুই হাজার পঁচিশ সালের শেষ ভাগে আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ছোট্ট সমাবেশে প্রায় ষাট শিশুর সামনে রাখা হয় আপেল ও মিষ্টি আলু। বর্তমান পরিচালক প্রতিষ্ঠাতার পুত্র স্মৃতিচারণ করেন এক করুণ গল্প। একসময় এক অসুস্থ শিশু আপেল খেতে চেয়েছিল, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তা জোগাড় করা যায়নি। শিশুটি আর বাঁচেনি। সেই গল্প শুনিয়ে শিশুদের বলা হয়, অতীতের কষ্ট মনে রেখে নিজেদের জীবন গড়ার আহ্বান।

স্থানান্তর আর বিস্তার

প্রথমে উজিনা, পরে হিরোশিমার বিভিন্ন এলাকায় স্থান বদল করে অবশেষে হিগাশি হিরোশিমায় স্থায়ী হয় প্রতিষ্ঠানটি। উনিশশো একাত্তরে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। প্রাঙ্গণে আজও রয়েছে দাবিহীন দশ শিশুর অস্থি সংরক্ষিত স্তম্ভ, যার ওপর পারমাণবিক স্মৃতিস্তম্ভ নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয় এক মায়ের কোলে বাঁচতে না পারা শিশুটির কথা। প্রতি বছর ছয় আগস্ট শিশুদের সামনে যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির মূল্য তুলে ধরা হয়।

খেলাধুলায় চরিত্র গঠন

পরিবারের সহায়তা ছাড়া সমাজে টিকে থাকার প্রস্তুতিই এখানে প্রধান লক্ষ্য। তাই খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দলগত শিক্ষা হিসেবে। সফটবল, বেসবল আর ভলিবলে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শৃঙ্খলা, সহযোগিতা আর অধ্যবসায় শেখানো হয়। নিজ হাতে জমি সমতল করে তৈরি করা মাঠে প্রতিদিন স্কুল শেষে ছুটে বেড়ায় শিশুরা। বিশ্বাস একটাই, শালীনতা আর ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার শেখালে স্বাধীন জীবনযাপন সহজ হয়।

সমাজের সঙ্গে বন্ধন

শুরুর দিকে স্থানীয়দের আপত্তি থাকলেও পরে সম্পর্ক বদলায়। এলাকার শিশুদের জন্য দিনরাত খোলা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র চালু হয়। কৃষক আর রাতের শিফটে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের সন্তানদের আশ্রয় দেওয়া হয় সেখানে। খেলাধুলার মাঠও বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় স্থানীয় দলগুলোকে। সময়ের সঙ্গে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থগিত হলেও আজ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার তিনশ শিশুর জীবনে আশ্রয় হয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠান।

ইতিহাস বহন করে যারা

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস তুলে ধরতে নিবেদিত এক সাবেক কর্মী আজও বক্তৃতার মাধ্যমে সেই গল্প ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিকতা আর গভীর দায়বদ্ধতা আজকের সমাজেও সমান প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা সিআইডি কার্যালয়ের কক্ষে আগুন

পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন

০৪:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

হিরোশিমার ধ্বংসস্তূপ থেকে জন্ম নেওয়া এক মানবিক অঙ্গীকার আজও পথ দেখাচ্ছে। জাপানের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন আশি বছরে পা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতার পারমাণবিক বোমা প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা থেকে যে আশ্রয়কেন্দ্রের সূচনা, সময়ের স্রোতে তা হয়ে উঠেছে অসহায় শিশুদের নিরাপদ ঠিকানা।

ধ্বংসের মাঝে জন্ম নেয় প্রতিজ্ঞা

উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালের ছয় আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বিস্ফোরণের দিন এক তরুণ সেনা প্রশিক্ষণার্থী নিজের চোখে দেখেছিলেন মানবতার চরম বিপর্যয়। সেই অভিজ্ঞতা বদলে দেয় তাঁর জীবনবোধ। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বেঁচে থাকলে যুদ্ধের অনাথ শিশুদের জীবন গড়াতেই নিজেকে উৎসর্গ করবেন। যুদ্ধশেষে ব্যক্তিগত সঞ্চয় দিয়ে হিরোশিমার উজিনা এলাকায় শুরু হয় অনাথ আশ্রয়। ক্ষুধা আর রোগে জর্জরিত শিশুদের নিয়ে সেই দিনগুলো ছিল ভয়াবহ। নাম বলার শক্তিও ছিল না অনেকের। তবু সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আজকের প্রতিষ্ঠান।

আশি বছরের স্মরণ, আপেল আর মিষ্টি আলুর গল্প

দুই হাজার পঁচিশ সালের শেষ ভাগে আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ছোট্ট সমাবেশে প্রায় ষাট শিশুর সামনে রাখা হয় আপেল ও মিষ্টি আলু। বর্তমান পরিচালক প্রতিষ্ঠাতার পুত্র স্মৃতিচারণ করেন এক করুণ গল্প। একসময় এক অসুস্থ শিশু আপেল খেতে চেয়েছিল, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তা জোগাড় করা যায়নি। শিশুটি আর বাঁচেনি। সেই গল্প শুনিয়ে শিশুদের বলা হয়, অতীতের কষ্ট মনে রেখে নিজেদের জীবন গড়ার আহ্বান।

স্থানান্তর আর বিস্তার

প্রথমে উজিনা, পরে হিরোশিমার বিভিন্ন এলাকায় স্থান বদল করে অবশেষে হিগাশি হিরোশিমায় স্থায়ী হয় প্রতিষ্ঠানটি। উনিশশো একাত্তরে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। প্রাঙ্গণে আজও রয়েছে দাবিহীন দশ শিশুর অস্থি সংরক্ষিত স্তম্ভ, যার ওপর পারমাণবিক স্মৃতিস্তম্ভ নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয় এক মায়ের কোলে বাঁচতে না পারা শিশুটির কথা। প্রতি বছর ছয় আগস্ট শিশুদের সামনে যুদ্ধের ভয়াবহতা আর শান্তির মূল্য তুলে ধরা হয়।

খেলাধুলায় চরিত্র গঠন

পরিবারের সহায়তা ছাড়া সমাজে টিকে থাকার প্রস্তুতিই এখানে প্রধান লক্ষ্য। তাই খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দলগত শিক্ষা হিসেবে। সফটবল, বেসবল আর ভলিবলে নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শৃঙ্খলা, সহযোগিতা আর অধ্যবসায় শেখানো হয়। নিজ হাতে জমি সমতল করে তৈরি করা মাঠে প্রতিদিন স্কুল শেষে ছুটে বেড়ায় শিশুরা। বিশ্বাস একটাই, শালীনতা আর ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার শেখালে স্বাধীন জীবনযাপন সহজ হয়।

সমাজের সঙ্গে বন্ধন

শুরুর দিকে স্থানীয়দের আপত্তি থাকলেও পরে সম্পর্ক বদলায়। এলাকার শিশুদের জন্য দিনরাত খোলা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র চালু হয়। কৃষক আর রাতের শিফটে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের সন্তানদের আশ্রয় দেওয়া হয় সেখানে। খেলাধুলার মাঠও বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় স্থানীয় দলগুলোকে। সময়ের সঙ্গে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্থগিত হলেও আজ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার তিনশ শিশুর জীবনে আশ্রয় হয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠান।

ইতিহাস বহন করে যারা

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস তুলে ধরতে নিবেদিত এক সাবেক কর্মী আজও বক্তৃতার মাধ্যমে সেই গল্প ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিকতা আর গভীর দায়বদ্ধতা আজকের সমাজেও সমান প্রয়োজন।