০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ট্রাম্প বনাম কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার, ক্ষমতা আর স্বাধীনতা ঘিরে নজিরবিহীন সংঘাত ইরান দমনে কঠোর জবাব ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনার পথ খোলা রাখার বার্তা তেহরানের চীনের কড়াকড়িতে জাপানের বিকল্প খোঁজ পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন পারমাণবিক ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবতার আশ্রয় স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা ভারতে পঞ্চম কারখানার পথে সুজুকি, গুজরাটে বিশাল জমি কেনার প্রস্তুতি চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট

স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা

স্বচালিত গাড়ির দুনিয়ায় কে নিয়ন্ত্রণ নেবে মূল প্রযুক্তি—এই প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রযুক্তি দুনিয়ার দুই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন কৌশল। একদিকে চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের জগতে নেতৃত্ব দেওয়া এনভিডিয়া, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্বচালিত প্রযুক্তির প্রতীক টেসলা। লাস ভেগাসে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের বক্তব্যের পর এই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মঞ্চে এনভিডিয়ার আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা

লাস ভেগাসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জেনসেন হুয়াং জানান, এনভিডিয়া নিজে গাড়ি বানাতে চায় না। তাদের লক্ষ্য হলো স্বচালিত ব্যবস্থার বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর নিজেদের হাতে রাখা। তিনি যে নতুন উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের কথা বলেন, তা চতুর্থ স্তরের স্বচালিত গাড়ি তৈরির গতি বাড়াবে বলে দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট এলাকায় মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলতে পারবে এমন গাড়ির জন্য এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দেখছে এনভিডিয়া।

সামাজিক মাধ্যমে নীরব দ্বন্দ্ব

হুয়াংয়ের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান টেসলার প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক। সরাসরি বিরোধে না গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, টেসলাও মূলত একই ধরনের যুক্তিনির্ভর স্বচালিত ব্যবস্থা তৈরি করছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সাধারণ পরিস্থিতিতে গাড়িকে চলতে শেখানো তুলনামূলক সহজ হলেও বিরল ও জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তিগত পথের পার্থক্য

টেসলা সম্পূর্ণ ক্যামেরাভিত্তিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। তাদের মতে, এটিই বড় পরিসরে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী। বিপরীতে, শিল্পের অন্য অংশ মনে করে রাডার ও লেজারভিত্তিক সেন্সর যুক্ত হলে নিরাপত্তা ও বিকল্প ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বাড়ে। এনভিডিয়া এই দ্বিতীয় পথেই এগোচ্ছে, যেখানে শক্তিশালী চিপ, কৃত্রিম তথ্য সিমুলেশন ও গাড়ির ভেতরের মস্তিষ্ক একসঙ্গে কাজ করবে।

সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার অদ্ভুত সম্পর্ক

বাস্তবতা হলো, টেসলার স্বচালিত সফটওয়্যার প্রশিক্ষণে এনভিডিয়ার শক্তিশালী গ্রাফিক্স চিপ অপরিহার্য। একই সঙ্গে এনভিডিয়া এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বীদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। এই সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার দ্বৈত সম্পর্কই স্বচালিত গাড়ির দৌড়কে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ভোক্তা গাড়ি থেকে রোবট ট্যাক্সি

বর্তমানে টেসলা যে স্বচালিত সহায়ক ব্যবস্থা বিক্রি করছে, তাতে চালকের উপস্থিতি ও নজর রাখা বাধ্যতামূলক। এটিকেই তারা ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ স্বচালিত ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে এনভিডিয়া বিভিন্ন নির্মাতা ও পরিবহন সেবাদাতার সঙ্গে কাজ করে নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে রোবট ট্যাক্সির বহর চালুর স্বপ্ন দেখছে, যা তারা কয়েক বছরের মধ্যেই সম্ভব বলে মনে করছে।

সম্পূর্ণ স্বচালনের দূরত্ব

দুজন শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাই একমত যে পুরোপুরি নিরাপদ স্বচালিত গাড়ি এখনো দূরের লক্ষ্য। মানুষের চেয়ে বেশি নিরাপদ হয়ে উঠতে এই প্রযুক্তির আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। তার আগ পর্যন্ত আংশিক স্বচালিত ব্যবস্থাই হবে পরীক্ষার প্রধান ক্ষেত্র। এই ধাপে কে এগিয়ে থাকবে, সেটিই হয়তো নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প বনাম কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার, ক্ষমতা আর স্বাধীনতা ঘিরে নজিরবিহীন সংঘাত

স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা

০৩:৫৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

স্বচালিত গাড়ির দুনিয়ায় কে নিয়ন্ত্রণ নেবে মূল প্রযুক্তি—এই প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রযুক্তি দুনিয়ার দুই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন কৌশল। একদিকে চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের জগতে নেতৃত্ব দেওয়া এনভিডিয়া, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্বচালিত প্রযুক্তির প্রতীক টেসলা। লাস ভেগাসে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের বক্তব্যের পর এই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মঞ্চে এনভিডিয়ার আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা

লাস ভেগাসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জেনসেন হুয়াং জানান, এনভিডিয়া নিজে গাড়ি বানাতে চায় না। তাদের লক্ষ্য হলো স্বচালিত ব্যবস্থার বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর নিজেদের হাতে রাখা। তিনি যে নতুন উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের কথা বলেন, তা চতুর্থ স্তরের স্বচালিত গাড়ি তৈরির গতি বাড়াবে বলে দাবি করা হয়। নির্দিষ্ট এলাকায় মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলতে পারবে এমন গাড়ির জন্য এই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দেখছে এনভিডিয়া।

সামাজিক মাধ্যমে নীরব দ্বন্দ্ব

হুয়াংয়ের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান টেসলার প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক। সরাসরি বিরোধে না গিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, টেসলাও মূলত একই ধরনের যুক্তিনির্ভর স্বচালিত ব্যবস্থা তৈরি করছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সাধারণ পরিস্থিতিতে গাড়িকে চলতে শেখানো তুলনামূলক সহজ হলেও বিরল ও জটিল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তিগত পথের পার্থক্য

টেসলা সম্পূর্ণ ক্যামেরাভিত্তিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। তাদের মতে, এটিই বড় পরিসরে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও সাশ্রয়ী। বিপরীতে, শিল্পের অন্য অংশ মনে করে রাডার ও লেজারভিত্তিক সেন্সর যুক্ত হলে নিরাপত্তা ও বিকল্প ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বাড়ে। এনভিডিয়া এই দ্বিতীয় পথেই এগোচ্ছে, যেখানে শক্তিশালী চিপ, কৃত্রিম তথ্য সিমুলেশন ও গাড়ির ভেতরের মস্তিষ্ক একসঙ্গে কাজ করবে।

সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার অদ্ভুত সম্পর্ক

বাস্তবতা হলো, টেসলার স্বচালিত সফটওয়্যার প্রশিক্ষণে এনভিডিয়ার শক্তিশালী গ্রাফিক্স চিপ অপরিহার্য। একই সঙ্গে এনভিডিয়া এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে টেসলার প্রতিদ্বন্দ্বীদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। এই সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতার দ্বৈত সম্পর্কই স্বচালিত গাড়ির দৌড়কে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ভোক্তা গাড়ি থেকে রোবট ট্যাক্সি

বর্তমানে টেসলা যে স্বচালিত সহায়ক ব্যবস্থা বিক্রি করছে, তাতে চালকের উপস্থিতি ও নজর রাখা বাধ্যতামূলক। এটিকেই তারা ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ স্বচালিত ট্যাক্সি নেটওয়ার্কের সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে এনভিডিয়া বিভিন্ন নির্মাতা ও পরিবহন সেবাদাতার সঙ্গে কাজ করে নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে রোবট ট্যাক্সির বহর চালুর স্বপ্ন দেখছে, যা তারা কয়েক বছরের মধ্যেই সম্ভব বলে মনে করছে।

সম্পূর্ণ স্বচালনের দূরত্ব

দুজন শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাই একমত যে পুরোপুরি নিরাপদ স্বচালিত গাড়ি এখনো দূরের লক্ষ্য। মানুষের চেয়ে বেশি নিরাপদ হয়ে উঠতে এই প্রযুক্তির আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। তার আগ পর্যন্ত আংশিক স্বচালিত ব্যবস্থাই হবে পরীক্ষার প্রধান ক্ষেত্র। এই ধাপে কে এগিয়ে থাকবে, সেটিই হয়তো নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে।