০৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
চীনের কড়াকড়িতে জাপানের বিকল্প খোঁজ পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন পারমাণবিক ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবতার আশ্রয় স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা ভারতে পঞ্চম কারখানার পথে সুজুকি, গুজরাটে বিশাল জমি কেনার প্রস্তুতি চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট ফেড চেয়ারম্যানকে ঘিরে তদন্তে অস্বস্তি রিপাবলিকানদের, ট্রাম্পের মনোনয়ন অনুমোদনে জটিলতার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের

ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট

ভারতের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে বার্ষিকীকৃত হিসাবে বিপুল আয়ের কথা জানিয়েছে। সাধারণত দুর্বল বলে ধরা এই প্রান্তিকেও সংস্থাটি স্থিতিশীল অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে, যা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক বাস্তবায়ন যে নতুন গতি পেয়েছে তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বাড়তে থাকা আয়

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প থেকে সংস্থাটির বার্ষিকীকৃত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় এক দশমিক আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণে। মুদ্রা বিনিময়জনিত প্রভাব সমন্বয় করলে আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই আয় বেড়েছে সতেরো শতাংশেরও বেশি। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই ধরনের আয় আলাদা করে প্রকাশ করছে একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানই, যা বাজারে তাদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ব্যবসায়িক রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। মূল্যশৃঙ্খল জুড়ে ব্যবসায়িক রূপান্তর ও আধুনিকীকরণে এই প্রযুক্তি বাস্তব ফল দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা সংস্থাটিকে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

দুর্বল প্রান্তিকেও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি

ঋতুভিত্তিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল এই প্রান্তিকেও সংস্থাটির মোট আয় সামান্য বেড়ে প্রায় সাত দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে দুই শতাংশের বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে আসা আয় এই সময়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

নতুন গবেষণাগার ও বাস্তব প্রয়োগ

এই প্রান্তিকে দুটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি মার্কিন বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত স্বয়ংক্রিয় সমাধান বিস্তারে এবং অন্যটি একটি মার্কিন ব্যাংকের গ্রাহক শনাক্তকরণ ও অর্থপাচারবিরোধী অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হচ্ছে। খুচরা বিক্রয় খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে এক গ্রাহকের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবস্থাপকদের সাপ্তাহিক কাজের সময়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

পরীক্ষা থেকে বিনিয়োগমুখী প্রয়োগে রূপান্তর

সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দুই হাজার বাইশ সালের শেষ ভাগ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চললেও দুই হাজার পঁচিশ সালে এসে প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের সুফলকে সামনে রেখে বড় পরিসরে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। এর ফলে পরীক্ষামূলক উদ্যোগের জায়গা দখল করেছে ফলভিত্তিক বাস্তবায়ন।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কোডিং, পরীক্ষা এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজ স্বয়ংক্রিয় করে দিচ্ছে, যা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর প্রচলিত ব্যবসা মডেলে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটি কর্মীসংখ্যা পুনর্গঠনসহ নতুন প্রযুক্তি ও বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র ব্যবসা চালু এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও সেই কৌশলের অংশ।

দুই হাজার ছাব্বিশ নিয়ে আশাবাদ

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে আয় বৃদ্ধি ও বড় চুক্তির ধারাবাহিকতা আগামী বছরে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহীও গ্রাহকদের সঙ্গে চলমান আলোচনার ভিত্তিতে আসন্ন বছরে ভালো ফলের বিষয়ে আশাবাদী। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কড়াকড়িতে জাপানের বিকল্প খোঁজ

ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট

০৩:০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে বার্ষিকীকৃত হিসাবে বিপুল আয়ের কথা জানিয়েছে। সাধারণত দুর্বল বলে ধরা এই প্রান্তিকেও সংস্থাটি স্থিতিশীল অগ্রগতি দেখাতে পেরেছে, যা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাণিজ্যিক বাস্তবায়ন যে নতুন গতি পেয়েছে তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বাড়তে থাকা আয়

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প থেকে সংস্থাটির বার্ষিকীকৃত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় এক দশমিক আট বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণে। মুদ্রা বিনিময়জনিত প্রভাব সমন্বয় করলে আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই আয় বেড়েছে সতেরো শতাংশেরও বেশি। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই ধরনের আয় আলাদা করে প্রকাশ করছে একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানই, যা বাজারে তাদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ব্যবসায়িক রূপান্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা জানায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। মূল্যশৃঙ্খল জুড়ে ব্যবসায়িক রূপান্তর ও আধুনিকীকরণে এই প্রযুক্তি বাস্তব ফল দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে পাঁচ হাজারের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা সংস্থাটিকে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

দুর্বল প্রান্তিকেও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি

ঋতুভিত্তিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল এই প্রান্তিকেও সংস্থাটির মোট আয় সামান্য বেড়ে প্রায় সাত দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণে পৌঁছেছে। একই সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে দুই শতাংশের বেশি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে আসা আয় এই সময়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

নতুন গবেষণাগার ও বাস্তব প্রয়োগ

এই প্রান্তিকে দুটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি মার্কিন বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত স্বয়ংক্রিয় সমাধান বিস্তারে এবং অন্যটি একটি মার্কিন ব্যাংকের গ্রাহক শনাক্তকরণ ও অর্থপাচারবিরোধী অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হচ্ছে। খুচরা বিক্রয় খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে এক গ্রাহকের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবস্থাপকদের সাপ্তাহিক কাজের সময়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

পরীক্ষা থেকে বিনিয়োগমুখী প্রয়োগে রূপান্তর

সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দুই হাজার বাইশ সালের শেষ ভাগ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চললেও দুই হাজার পঁচিশ সালে এসে প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের সুফলকে সামনে রেখে বড় পরিসরে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে। এর ফলে পরীক্ষামূলক উদ্যোগের জায়গা দখল করেছে ফলভিত্তিক বাস্তবায়ন।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কোডিং, পরীক্ষা এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজ স্বয়ংক্রিয় করে দিচ্ছে, যা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর প্রচলিত ব্যবসা মডেলে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠানটি কর্মীসংখ্যা পুনর্গঠনসহ নতুন প্রযুক্তি ও বাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র ব্যবসা চালু এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও সেই কৌশলের অংশ।

দুই হাজার ছাব্বিশ নিয়ে আশাবাদ

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে আয় বৃদ্ধি ও বড় চুক্তির ধারাবাহিকতা আগামী বছরে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থার প্রধান নির্বাহীও গ্রাহকদের সঙ্গে চলমান আলোচনার ভিত্তিতে আসন্ন বছরে ভালো ফলের বিষয়ে আশাবাদী। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে।