০৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন পারমাণবিক ধ্বংসস্তূপ থেকে মানবতার আশ্রয় স্বচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে: এনভিডিয়া ও টেসলার ভিন্ন পথে ভবিষ্যৎ যাত্রা ভারতে পঞ্চম কারখানার পথে সুজুকি, গুজরাটে বিশাল জমি কেনার প্রস্তুতি চাপে ফেড, ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরক দ্বন্দ্ব চীন যে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চায় না, বাস্তবে সেই ছবিটাই আরও স্পষ্ট ভারতের প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট ফেড চেয়ারম্যানকে ঘিরে তদন্তে অস্বস্তি রিপাবলিকানদের, ট্রাম্পের মনোনয়ন অনুমোদনে জটিলতার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের থাইল্যান্ডের আবাসিক সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ মন্দায়, বিলাসী প্রকল্পেও অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের

সালেনের এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশবিষয়ক এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক দখল প্রতিষ্ঠা করে, তবে তা উত্তর আটলান্টিক জোটের অস্তিত্বের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে গভীর সংকটে ঠেলে দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা ও ইউরোপের ভূমিকা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেনমার্ক চাইলে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে সংস্থাটি। প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন, নৌযান পাঠানো এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কী ধরনের প্রস্তুতি দাবি করে, তা নির্ধারণ করবেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা, তবে সব ধরনের বিকল্প ইউরোপের হাতে রয়েছে বলে জানানো হয়।

ডেনমার্কের পাশে দাঁড়ানোর আইনি বাধ্যবাধকতা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসনের মুখে পড়লে অন্য সদস্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডেনমার্ক যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাহলে সেই দায়বদ্ধতা কার্যকর হবে বলেও স্পষ্ট করা হয়। বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করবে ডেনমার্ক কী অবস্থান নেয় এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।

দখলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

গ্রিনল্যান্ডে জোরপূর্বক দখল কায়েম হলে সেই দখল কে স্বীকৃতি দেবে, এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে ইউরোপের পক্ষ থেকে। জানানো হয়, এমন পদক্ষেপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যসহ সব ধরনের সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফল ভোগ করতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকেও, আর্থিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই।

ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

ইউরোপকে ভবিষ্যতে নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতেই হবে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, ইউরোপকে স্বাধীনভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কখনো জোট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে বর্তমান কাঠামোতে জোট আর টিকে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আর্কটিক অঞ্চল ও বৈশ্বিক উত্তেজনা

সম্প্রতি আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক মহড়ার সংখ্যা বেড়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ শুধু একটি অঞ্চল নয়, পুরো বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক বিভীষিকা থেকে মানবিক আশ্রয়, আশি বছরের হিরোশিমা শিন সেই গাকুয়েন

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দখলে ন্যাটোর অবসান, গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কড়া সতর্কতা ইউরোপের

০২:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

সালেনের এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশবিষয়ক এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক দখল প্রতিষ্ঠা করে, তবে তা উত্তর আটলান্টিক জোটের অস্তিত্বের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে গভীর সংকটে ঠেলে দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা ও ইউরোপের ভূমিকা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেনমার্ক চাইলে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে সংস্থাটি। প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন, নৌযান পাঠানো এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সহায়তা দেওয়া হতে পারে। আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কী ধরনের প্রস্তুতি দাবি করে, তা নির্ধারণ করবেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা, তবে সব ধরনের বিকল্প ইউরোপের হাতে রয়েছে বলে জানানো হয়।

ডেনমার্কের পাশে দাঁড়ানোর আইনি বাধ্যবাধকতা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসনের মুখে পড়লে অন্য সদস্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ডেনমার্ক যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাহলে সেই দায়বদ্ধতা কার্যকর হবে বলেও স্পষ্ট করা হয়। বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করবে ডেনমার্ক কী অবস্থান নেয় এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় তার ওপর।

দখলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

গ্রিনল্যান্ডে জোরপূর্বক দখল কায়েম হলে সেই দখল কে স্বীকৃতি দেবে, এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে ইউরোপের পক্ষ থেকে। জানানো হয়, এমন পদক্ষেপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যসহ সব ধরনের সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফল ভোগ করতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকেও, আর্থিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই।

ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

ইউরোপকে ভবিষ্যতে নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতেই হবে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা থাকুক বা না থাকুক, ইউরোপকে স্বাধীনভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি কখনো জোট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে বর্তমান কাঠামোতে জোট আর টিকে থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আর্কটিক অঞ্চল ও বৈশ্বিক উত্তেজনা

সম্প্রতি আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক মহড়ার সংখ্যা বেড়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ শুধু একটি অঞ্চল নয়, পুরো বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।