০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের কড়াকড়িতে জাপানের বিকল্প খোঁজ

চীনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে বিরল খনিজে নির্ভরতা কমাতে নতুন অধ্যায় শুরু করল জাপান। সোমবার দেশটির পরীক্ষামূলক খনিজ অনুসন্ধান জাহাজ চিক্যু যাত্রা শুরু করেছে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত প্রবাল দ্বীপ মিনামিতোরিশিমার দিকে। লক্ষ্য সমুদ্রের গভীরে জমে থাকা বিরল খনিজ সমৃদ্ধ কাদার অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রযুক্তি যাচাই।

সমুদ্রের ছয় কিলোমিটার গভীরে নজির গড়ার চেষ্টা

এই এক মাসের অভিযানে প্রথমবারের মতো সমুদ্রতলের গভীর অংশ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিরল খনিজ সমৃদ্ধ কাদা তুলে আনার পরীক্ষা চালানো হবে। টোকিও থেকে প্রায় উনিশশ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত দ্বীপটির আশপাশে এই পরীক্ষা হলে তা বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ

গাড়ি, স্মার্টফোন ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে ব্যবহৃত বিরল খনিজের বড় অংশ এতদিন চীন থেকে আসত। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনে সেই নির্ভরতা ঝুঁকিতে পড়ায় বিকল্প উৎস খোঁজার চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যে চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জাপানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সাত বছরের প্রস্তুতির ফল মাঠে

সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত প্রকল্পের প্রধান শুইচি ইশি বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বাস্তব পরীক্ষায় নামতে পারা আবেগের বিষয়। তাঁর মতে, ছয় কিলোমিটার গভীরতা থেকে খনিজ উদ্ধার সফল হলে তা জাপানের সম্পদ সংগ্রহে বৈচিত্র্য আনবে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বড় সাফল্য হবে।

বৈশ্বিক আলোচনায় বিরল খনিজ

চীনের সম্ভাব্য রপ্তানি কড়াকড়ির খবরের মধ্যেই শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে বিরল খনিজ সরবরাহ ইস্যু উঠছে। অতীতে পূর্ব চীন সাগরের বিরোধকে ঘিরে রপ্তানি আটকে দেওয়ার অভিজ্ঞতা জাপানকে আগাম প্রস্তুত থাকতে শিখিয়েছে।

ধীরে ধীরে কমছে নির্ভরতা

দশকের বেশি সময়ে বিদেশি প্রকল্পে বিনিয়োগ, পুনর্ব্যবহার ও বিকল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোর দিয়ে চীনের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়েছে জাপান। তবে মিনামিতোরিশিমা প্রকল্পই প্রথম দেশীয় উৎস থেকে বিরল খনিজ আনার সরাসরি চেষ্টা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ঝুঁকি

২০১৮ সাল থেকে বিপুল সরকারি বিনিয়োগ হলেও মজুতের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি এবং উৎপাদনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যও নেই। সফল হলে ২০২৭ সালের শুরুতে বড় পরিসরের খনন পরীক্ষা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সরবরাহ ব্যাহত থাকলে দাম বাড়ার সম্ভাবনায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক ভাবে কার্যকর হতে পারে।

কূটনৈতিক উত্তেজনার ছায়া

গত বছর জরিপ চলাকালে আশপাশে চীনা নৌযানের উপস্থিতি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন করেছে। জাপানের মতে এটি চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত, আর চীনের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই তাদের তৎপরতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কড়াকড়িতে জাপানের বিকল্প খোঁজ

০৪:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে বিরল খনিজে নির্ভরতা কমাতে নতুন অধ্যায় শুরু করল জাপান। সোমবার দেশটির পরীক্ষামূলক খনিজ অনুসন্ধান জাহাজ চিক্যু যাত্রা শুরু করেছে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রত্যন্ত প্রবাল দ্বীপ মিনামিতোরিশিমার দিকে। লক্ষ্য সমুদ্রের গভীরে জমে থাকা বিরল খনিজ সমৃদ্ধ কাদার অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রযুক্তি যাচাই।

সমুদ্রের ছয় কিলোমিটার গভীরে নজির গড়ার চেষ্টা

এই এক মাসের অভিযানে প্রথমবারের মতো সমুদ্রতলের গভীর অংশ থেকে ধারাবাহিকভাবে বিরল খনিজ সমৃদ্ধ কাদা তুলে আনার পরীক্ষা চালানো হবে। টোকিও থেকে প্রায় উনিশশ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত দ্বীপটির আশপাশে এই পরীক্ষা হলে তা বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ

গাড়ি, স্মার্টফোন ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে ব্যবহৃত বিরল খনিজের বড় অংশ এতদিন চীন থেকে আসত। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনে সেই নির্ভরতা ঝুঁকিতে পড়ায় বিকল্প উৎস খোঁজার চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যে চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা জাপানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সাত বছরের প্রস্তুতির ফল মাঠে

সরকারি সহায়তা প্রাপ্ত প্রকল্পের প্রধান শুইচি ইশি বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বাস্তব পরীক্ষায় নামতে পারা আবেগের বিষয়। তাঁর মতে, ছয় কিলোমিটার গভীরতা থেকে খনিজ উদ্ধার সফল হলে তা জাপানের সম্পদ সংগ্রহে বৈচিত্র্য আনবে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বড় সাফল্য হবে।

বৈশ্বিক আলোচনায় বিরল খনিজ

চীনের সম্ভাব্য রপ্তানি কড়াকড়ির খবরের মধ্যেই শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে বিরল খনিজ সরবরাহ ইস্যু উঠছে। অতীতে পূর্ব চীন সাগরের বিরোধকে ঘিরে রপ্তানি আটকে দেওয়ার অভিজ্ঞতা জাপানকে আগাম প্রস্তুত থাকতে শিখিয়েছে।

ধীরে ধীরে কমছে নির্ভরতা

দশকের বেশি সময়ে বিদেশি প্রকল্পে বিনিয়োগ, পুনর্ব্যবহার ও বিকল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোর দিয়ে চীনের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়েছে জাপান। তবে মিনামিতোরিশিমা প্রকল্পই প্রথম দেশীয় উৎস থেকে বিরল খনিজ আনার সরাসরি চেষ্টা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ঝুঁকি

২০১৮ সাল থেকে বিপুল সরকারি বিনিয়োগ হলেও মজুতের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি এবং উৎপাদনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যও নেই। সফল হলে ২০২৭ সালের শুরুতে বড় পরিসরের খনন পরীক্ষা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সরবরাহ ব্যাহত থাকলে দাম বাড়ার সম্ভাবনায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক ভাবে কার্যকর হতে পারে।

কূটনৈতিক উত্তেজনার ছায়া

গত বছর জরিপ চলাকালে আশপাশে চীনা নৌযানের উপস্থিতি প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন করেছে। জাপানের মতে এটি চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত, আর চীনের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই তাদের তৎপরতা।