জাপানে প্রাপ্তবয়স্ক দিবস ঘিরে সোমবার দেশজুড়ে তরুণদের মধ্যে দেখা গেছে একসঙ্গে আশা আর উদ্বেগের মিশ্র অনুভূতি। ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পরে আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। নতুন প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ক্রমেই কমছে, যা জাপানের দীর্ঘদিনের জনসংখ্যাগত সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
নতুন প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা কমছে
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত গত এক বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে প্রায় দশ লাখ নয় হাজার মানুষ। এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ লাখ ষাট হাজার এবং নারী পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার। এই সংখ্যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, এর আগের বছর তা নেমে গিয়েছিল আরও নিচে। হিসাবের মধ্যে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বসবাসকারী বিদেশিরাও অন্তর্ভুক্ত।
সত্তরের দশকে যুদ্ধোত্তর শিশু জন্মবুমের সময় এই সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। এরপর কিছুটা ওঠানামা হলেও দীর্ঘমেয়াদে গ্রাফ ক্রমাগত নিচের দিকেই নামছে।

বয়স বাড়ছে, সমাজ বদলে যাচ্ছে
মোট জনসংখ্যার তুলনায় নতুন প্রাপ্তবয়স্কের অনুপাত সামান্য বাড়লেও বাস্তবতা হলো জাপান দ্রুত বয়স্ক সমাজে রূপ নিচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়স আঠারোতে নামানো হলেও বহু এলাকায় এখনও বিশ বছর পূর্ণ করাদের জন্যই এই দিবসের আনুষ্ঠানিকতা আয়োজিত হয়। এই পরিবর্তনের মাঝেও তরুণদের মানসিক জগতে পুরোপুরি হতাশা নেই।
রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের ভাবনা
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নতুন প্রাপ্তবয়স্কদের অর্ধেকেরও বেশি জাপানের রাজনীতি নিয়ে আশাবাদী। আগের বছরের তুলনায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দেশ নতুন পথে এগোতে পারে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-এর প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে।

আশার পাশাপাশি উদ্বেগ ও গভীর
টোকিওতে বসবাসকারী এক তরুণী মনে করেন, কাজের পরিবেশ ও নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, যা ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে তাকে আশাবাদী করে। তবে একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন তাকে ভাবিয়ে তোলে।
অন্যদিকে ইয়োকোহামার এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজের আয়, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা আর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন। মূল্যস্ফীতি, অভিবাসন আর সামাজিক পরিবর্তন মিলিয়ে ভবিষ্যৎকে অনেকের কাছেই অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।

সমাজে অবদান রাখার ইচ্ছা
তবু এই প্রজন্ম পুরোপুরি পিছিয়ে যেতে চায় না। কেউ শিক্ষক হয়ে শিশুদের পড়া আর চিন্তার আনন্দ ফিরিয়ে দিতে চায়, কেউ স্থানীয় প্রশাসনে কাজ করে দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। বিশ বছরে পা দেওয়াকে অনেকেই নিজেদের জীবনের এক নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন, যেখানে দায়িত্ব আর সিদ্ধান্তের ভার নিজের কাঁধেই নিতে হবে।
এই প্রাপ্তবয়স্ক দিবস তাই শুধু উৎসব নয়, বরং জাপানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রশ্ন, আশা আর সংকল্পের প্রতিফলন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















